বঙ্গবার্তা ব্যুরো,
বন্যা নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রের ব্যর্থতা, ডিভিসির জল ছেড়ে বিপর্যয় পরিবেশ রক্ষা সংক্রান্ত আলোচনায় বিধানসভার আলোচনায় অংশ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানালেন পরিবেশ রক্ষায় সকলকে এগিয়ে আসতে হবে। তার অভিযোগ, রাজ্যে বারবার বন্যা হচ্ছে তবে তার দায় মানুষের। মুখ্যমন্ত্রীর ব্যাখ্যা ডিভিসি জল ছেড়ে দেয়, কেন্দ্র কিছু করে না। বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, পশ্চিম মেদিনীপুর ডুবে যায়, উত্তরবঙ্গে আসে, সংকোশ তিস্তা ও তোর্সার জল। সিকিমে তৈরি ১৪টি বিদ্যুৎ কেন্দ্র তিস্তার শ্বাসরোধ করছে বলে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ইন্দো ভুটান রিভার কমিশনে বাংলার প্রতিনিধি চাই। মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান আটকে রেখেছে কেন্দ্র, ১৫ বছর ধরে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান পড়ে ছিল।তাই রাজ্য সরকার ১৫০০ কোটির প্রকল্প হাতে নিয়েছে। দু-তিন বছরের মধ্যে তা শেষ হবে। মানুষের বসত বাড়ি উচ্ছেদ যাতে না হয়, সেই কারণে প্রয়োজনে রুট ঘুরিয়ে দেওয়ার পরামর্শও দেন তিনি।
পুকুর কাটা ও ড্রেজিংয়ের বিষয় নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, সাড়ে চার লক্ষ পুকুর কেটেছি, আরও কাটতে হবে, তবে গভীর করতে হবে। তার বক্তব্য, কুড়ি বছর ড্রেজিং করেনি কেন্দ্র, করলে বন্যা রোখা যেত, কলকাতা বন্দরের পণ্য পরিবহন ক্ষমতা বাড়ত। এই কারণে রাজ্যের ২ থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে,বলে অভিযোগ।
বনসৃজন ও ম্যানগ্রোভ রক্ষায় সাফল্যের বার্তা দেন
মুখ্যমন্ত্রী। তার দাবি, রাজ্যে ৫ লক্ষ বিঘা জমিতে বৃক্ষরোপণ করা হয়েছে। বনাঞ্চল বেড়েছে ৪ হাজার কিমি। সুন্দরবনে লাগানো হয়েছে ২০ কোটিরও বেশি ম্যানগ্রোভ। ম্যানগ্রোভ রাজ্যের দক্ষিণ উপকূল অঞ্চলের রক্ষাকারী, ওদের বাঁচাতে হবে।
জলাভূমি বাঁচাতে কড়া হুঁশিয়ারি
দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন,জলাভূমি আমাদের ফুসফুস। কেউ জোর করে পুকুর ভরাট করলে তিনি নিজে গিয়ে ভেঙে দেবেন। পরিবেশ দফতর ও স্থানীয় প্রশাসনকে কড়া নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, ফায়ার ব্রিগেড ঢুকতে পারে না, এমন ঘিঞ্জি বসতি চলবে না।
ভূমিনীতি ও ব্রিজ হেল্থ অডিটেও নজর দিন। ব্রিজ ভেঙে পড়ছে। আমরা ব্রিজের হেল্থ অডিট করছি। পাশাপাশি, ল্যান্ড ইউজ পলিসিও নেওয়া হচ্ছে যাতে জলাশয়, খোলামাঠ রক্ষা পায়।
পরিবেশ ধ্বংসের দায়ে কেন্দ্রকে দায়ী করে যুদ্ধ-বিরোধী বার্তা দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যে যুদ্ধ লেগেছে তার প্রভাব আকাশ-বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে। সমুদ্রে, আকাশে দূষণ হচ্ছে। প্রকৃতি ক্ষমা করে না। আমরা ছোট হলেও দায়িত্ব আছে। কেন্দ্রের উচিত কূটনৈতিক ভাবে যুদ্ধ থামানোর চেষ্টা করা।
গোটা পৃথিবীই এক দেশ, পরিবেশ রক্ষায় একজোট হতে হবে । আমাদের মেধা দিয়ে শুধু উন্নয়ন নয়, পরিবেশ রক্ষাও করতে হবে। পৃথিবী একটাই, উৎসব এক, সূর্য-চাঁদ-গ্রহ-নক্ষত্র এক। ভারসাম্য না রাখতে পারলে, ধ্বংস অনিবার্য বলে উল্লেখ করেন।

