বড়বাজারে মেছুয়ায় হোটেলে আগুনে ১৪ জনের মৃত্যুতে শোকপ্রকাশ মুখ্যমন্ত্রীর

Published by Subrata Halder on 30 April 2025 at 1:34am

বঙ্গবার্তা ব্যুরো,
বড়বাজারের মেছুয়া ফলপট্টির একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে মৃত ১৪, আহত ৭।ধোঁয়ায় দমবন্ধ হয়ে একের পর এক মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিক অনুমান দমকলের। ঘটনার পরেই রাজ্যজুড়ে শোকের ছায়া। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দীঘা থেকে রাতভর পরিস্থিতির খোঁজ রাখেন। ঘটনায় গভীর শোকপ্রকাশ করেছেন তিনি। পাশাপাশি ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশও দিয়েছেন। এদিন সোশ্যাল মিডিয়া এক্স হ্যান্ডেলে এই নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন তিনি।
তিনি লেখেন বড়বাজার এলাকার একটি হোটেলে ঘটে যাওয়া অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতদের পরিবারের প্রতি আমার গভীর সমবেদনা জানাই। আমি সারা রাত ঘটনাটির উপর নজর রেখেছি এবং দমকল বিভাগের সর্বোচ্চ অফিসারদের এলাকায় পাঠানো হয়েছে। ভিতরে দাহ্য বস্তু মজুত থাকায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৪ জনে। তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তৃণমূল কংগ্রেস রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী দীঘা থেকে সারা রাত জেগে পরিস্থিতি নজর রেখেছেন। প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ ও দমকলকে। পুলিশ ও দমকল যৌথভাবে বহু মানুষকে উদ্ধার করেছেন। স্কাইল্যাডার দিয়ে ছাদ থেকে নামানো হয়েছে অনেককে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা নাগাদ আগুন লাগে। ঘিঞ্জি এলাকায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে আগুন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকলের ১০টি ইঞ্জিন। প্রায় আট ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসে। কিন্তু হোটেলের ভিতরে ততক্ষণে জমেছে বিষাক্ত ধোঁয়া। আগুনের তাপে এবং ধোঁয়ায় হোটেলটি কার্যত ‘গ্যাসচেম্বারে’ পরিণত হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।
প্রাণ বাঁচাতে অনেকে জানলা ভেঙে বাইরে বেরোনোর চেষ্টা করেন। আনন্দ পাসোয়ান নামে এক ব্যক্তি উপর থেকে ঝাঁপ দিয়ে মারা যান। অনেকেই শ্বাসরুদ্ধ হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন বলে দমকল সূত্রে জানা গিয়েছে। চার ও পাঁচতলার জানলা ভেঙে মই লাগিয়ে উদ্ধারকাজ চালান দমকল কর্মীরা। আতঙ্কে কেউ কেউ হোটেলের কার্নিশে চলে আসেন, তাদেরও উদ্ধার করা হয়েছে।
হোটেলটিতে মোট ৪৭টি ঘর ছিল। অধিকাংশ ঘরেই ছিলেন রাজ্য ও ভিনরাজ্য থেকে আসা অতিথিরা। এখনও পর্যন্ত উদ্ধার হয়েছে বহু আহত। তাঁদের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা।
ঘটনার গুরুত্ব বুঝে রাতভর ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম, নগরপাল মনোজ বর্মা ও নারী ও শিশু কল্যাণ মন্ত্রী শশী পাঁজা। নগরপাল জানিয়েছেন, একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করা হয়েছে। ফরেনসিক দল ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। ধোঁয়া এখনও পুরোপুরি সরেনি, চলছে উদ্ধারকাজ।