Published By Subrata Halder, 05 May 2025, 05:08 pm
বঙ্গবার্তা ব্যুরো,
দীঘায় জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধনের আগে থেকেই রাজনীতির পারদ চড়েছে। বিজেপি ও ওড়িশা সরকারের একের পর এক অভিযোগের জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুর্শিদাবাদের বহরমপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, পুরীর জগন্নাথ ধামের আদলে তৈরি দীঘা জগন্নাথ মন্দিরের উদ্বোধনের পর থেকে চলছে একাধিক বিতর্ক। মন্দিরের নাম থেকে স্থাপনা সহ একাধিক বিষয় নিয়ে সমালোচনা করে যাচ্ছে গেরুয়া শিবির। এমনকী দিঘা জগন্নাথ মন্দিরের নাম নিয়ে রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করেছেন ওডিশার বিদ্বজনদের একাংশ। পাশাপাশি পুরীর মন্দির থেকে পবিত্র নিমকাঠ দিঘায় আসা এবং তা ব্যবহার ঘিরেও বিস্তর জলঘোলা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন কালীঘাট, দক্ষিণেশ্বরের স্কাইওয়াক, কালীপুজো, দুর্গাপুজো করলে প্রশ্ন হয়না। জগন্নাথধামটা খুব গায়ে লেগেছে কেনো ?
বিজেপির তরফে মন্দিরের নিমকাঠ নিয়ে চুরির যে অভিযোগ তোলা হয়েছে তার জবাবে মমতা বলেন, বলা হচ্ছে আমি নাকি নিমগাছও চুরি করেছি। আরে, আমার বাড়িতেই তো চারটে নিমগাছ আছে। কটা দরকার জিজ্ঞেস করুন। আমাদের চুরি করতে হয় না। চোরের মায়ের বড় গলা।
জগন্নাথ মন্দিরে স্থাপিত বিগ্রহ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে বিরোধীরা। মুখ্যমন্ত্রীর জবাব, আমাদের মার্বেলের তৈরি মূর্তি ছিল। মূর্তি তো কিনতেও পাওয়া যায়। আমার বাড়িতেও আছে। ওটা নিয়ে এসেছেন দ্বৈতপতি। তাকে নাকি প্রশ্ন করা হয়েছে কেন পুজো করতে গিয়েছিলেন। ক্ষুব্ধ মমতার পাল্টা জবাব, নোটিফিকেশন দিয়েছে কেউ যাবে না জগন্নাথধামে। এত গায়ে লাগছে কেন? আমরা তো পুরীতে যাই। আমি পুরীতে গেলে আরএসএস, বিজেপি বিক্ষোভ দেখায়। ভুলে গিয়েছেন ? লজ্জা করে না ? জগন্নাথধাম নিয়ে এত হিংসা আপনাদের পাল্টা প্রশ্ন মুখ্যমন্ত্রীর।
ওড়িশা সরকারের উদ্দেশে মুখ্যমন্ত্রীর পরামর্শ, আপনাদের যখন আলুর টান পড়ে বাংলা জোগায়। আমি ওড়িশাকে ভালোবাসি। সাইক্লোনে বিদ্যুতের সব ভেঙে যায়, তখনও সাহায্য পাঠাই। বাংলার পর্যটকরা সবচেয়ে বেশি পুরীর মন্দিরে যান রথ ও উল্টোরথে। আমরা যদি একটা জগন্নাথধাম করি, আপনাদের আপত্তির কী আছে? আপনারাও ভালো থাকুন, বাংলাও ভালো থাকুক ।
রাজনৈতিক মহলের মতে, জগন্নাথ মন্দিরকে ঘিরে একদিকে ধর্মীয় আবেগ, অন্যদিকে রাজ্যের সম্মান, দুইই অটুট রাখতে চান মুখ্যমন্ত্রী। তবে এই বিতর্ক চলবে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

