Published By Subrata Halder, 14 May 2025, 06:07 pm
বঙ্গবার্তা ব্যুরো,
উরুগুয়ের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি হোসে মুজিকার মৃত্যু হয়েছে। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৯ বছর, পেপে নামেও যিনি বিশ্বে পরিচিত ছিলেন। ২০১০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত উরুগুয়েতে রাষ্ট্রপতির আসনে থাকার সময়েও এই প্রাক্তন গেরিলা তার অতি সাধারণ জীবনযাপনের কারণে বিশ্বের দরিদ্রতম রাষ্ট্রপতি হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
বর্তমান প্রেসিডেন্ট ইয়ামান্দু ওরসি সমাজ মাধ্যম তার পূর্বসূরির মৃত্যুর কথা জানিয়ে বলেছেন, আপনি আমাদের যা কিছু দিয়েছেন এবং জনগণের প্রতি আপনার গভীর ভালোবাসার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। আমরা কৃতজ্ঞ।
পেপে, দীর্ঘদিন ধরে খাদ্যনালীর ক্যান্সারে ভুগছিলেন, শান্তি পেলেন রোগ যন্ত্রণা থেকে।
প্রেসিডেন্ট হয়েও খুবই সাধারণ জীবনযাপন করতেন তিনি। ভোগবাদের সমালোচনা এবং সামাজিক সংস্কার নিয়ে কাজ করায় লাতিন আমেরিকা এবং এর বাইরেও সুপরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব হয়ে ওঠেন মুজিকা।
মাত্র ৩৪ লক্ষ নাগরিকের দেশ উরুগুয়ের প্রেসিডেন্টে হয়েও তিনি বিশ্বব্যাপী যে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন তা দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। অনেকেই মুজিকাকে রাজনৈতিক শ্রেণীর বাইরের কেউ হিসেবে দেখতেন।
সহজ-সাধারণ জীবনে অভ্যস্ত এই সাবেক প্রেসিডেন্ট একবার বলেছিলেন, রাজনীতির পাশাপাশি বই পড়া এবং জমিতে কাজ করতে ভালো লাগে তার। কাজের প্রতি এই আবেগ তিনি তার মায়ের কাছ থেকেই পেয়েছিলেন। মুজিকা দেশটির রাজধানী মন্টেভিডিওতে একটি মধ্যবিত্ত পরিবারে বড় হয়েছেন।
তরুণ বয়সে মুজিকা উরুগুয়ের ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক শক্তি ন্যাশনাল পার্টির সদস্য ছিলেন। ১৯৬০-এর দশকে তিনি টুপামারোস ন্যাশনাল লিবারেশন মুভমেন্ট বা এমএলএন-টি প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করেন। এটি একটি বামপন্থি শহুরে গেরিলা গ্রুপ ছিল যারা হামলা, অপহরণ ও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতো। তিনি সব সময়ই জোর দিয়ে বলেছেন যে, তিনি কখনো কোনো হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না।
কিউবার বিপ্লব ও আন্তর্জাতিক সমাজতন্ত্রে প্রভাবিত হয়ে এমএলএন-টি উরুগুয়ে সরকারের বিরুদ্ধে গোপনে প্রতিরোধ প্রচারণা শুরু করে। যদিও তৎকালীন সরকার সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক ছিল, তবুও বামপন্থিরা কর্তৃত্ববাদী বলে ক্রমাগত অভিযোগ করছিলেন।
সে সময় মুজিকাকে চারবার আটক করা হয়। এর মধ্যে একবার ১৯৭০ সালে তাকে ছয়বার গুলি করা হয় কিন্তু মৃত্যুর খুব কাছ থেকে বেঁচে ফেরেন তিনি। দুবারই তিনি কারাগার থেকে পালিয়ে যান। একবার ১০৫ এমএলএন-টি বন্দিদের সঙ্গে একটি টানেলের মধ্য দিয়ে পালান। এ ঘটনা ছিল উরুগুয়ের কারাগারের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বন্দি পালানোর ঘটনা।
১৯৭৩ সালে উরুগুয়েতে সামরিক অভ্যুত্থান ঘটলে তাকে নয় জিম্মির একটি দলে রাখা হয়। ১৯৭০ ও ১৯৮০ দশকে তিনি ১৪ বছরের বেশি সময় কারাগারে ছিলেন। সে সময় কারাগারে তার ওপর নির্যাতন চালানো হয় এবং তাকে দীর্ঘদিন একা রাখা হয়। ১৯৮৫ সালে উরুগুয়েতে আবারও গণতন্ত্র ফিরে আসলে তিনি মুক্তি পান।
মুজিকা জানিয়েছিলেন, কারাগারে থাকাকালীন তিনি উন্মাদ হয়ে যাচ্ছিলেন, তার দৃষ্টিভ্রম হচ্ছিল এবং তিনি বেশ উদ্ভট কাজকর্ম করছিলেন। যেদিন তিনি মুক্তি পান, সেদিনটি ছিল তার সবচেয়ে আনন্দের স্মৃতি। বলেছিলেন, তার মুক্তির দিনটির কাছে প্রেসিডেন্ট হওয়া তুচ্ছ ঘটনা।

