সম্পর্কের বরফ গলছে, খুঁটিপুজোর মঞ্চে মিলনের বার্তা কল্যাণ-রাজীব বন্দোপাধ্যায়ের

Published by Subrata Halder, 22 June 2025, 07:24 p.m.

বঙ্গবার্তা ব্যুরো,
২০০১ এর বিধানসভা নির্বাচনে, বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পর থেকেই কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ও রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের মধ্যে তৈরি হয়েছিল দূরত্ব। তৃণমূলে ফিরে আসার পরেও দুই নেতার মধ্যে দূরত্ব ঘোচেনি, সম্পর্ক ছিল ঠান্ডা। কিন্তু চলতি বছরের মার্চ মাসে আচমকাই রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় উপস্থিত হন কল্যাণ ব্যানার্জির বাড়িতে। তাকে দেখে আবেগে জড়িয়ে ধরেন শ্রীরামপুরের সাংসদ। তখন থেকেই বরফ গলতে শুরু করে।
রবিবার শ্রীরামপুর আরএমএস মাঠে দুর্গাপুজোর খুঁটি পুজোয় উপস্থিত ছিলেন কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। পুজোর আয়োজনের মাঝেও রাজনীতির আবহে ধরা দিল সৌহার্দ্যের বার্তা। রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই চমক। খুঁটিপুজোর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূল বিধায়ক অরিন্দম গুইন, অসিত মজুমদার, প্রবীর ঘোষাল, রিষড়ার চেয়ারম্যান বিজয়সাগর মিশ্র, শ্রীরামপুর পুরসভার চেয়ারম্যান গিরিধারী সাহা, মহিলা সভানেত্রী মৌসুমী বসু চট্টোপাধ্যায়-সহ দলের প্রথম সারির নেতৃত্ব।
শ্রীরামপুরের ৫ ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ব্যবসায়ী সমিতি ও পল্লিগোষ্ঠীর এই পুজো ১১২ বছরে পা দিল। সাংসদ হওয়ার পর থেকেই এই পুজোর সঙ্গে যুক্ত কল্যাণ। তিনি জানান, এবারের থিম সূর্য মন্দির। পুজোয় থাকবে একাধিক চমক।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সময় তাকে চার্টার্ড বিমানে করে দিল্লি নিয়ে যান বিজেপির শীর্ষ নেতা অমিত শাহ। হাওড়ার ডোমজুড় কেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও পরাজিত হন তিনি। মাত্র ১০ মাসের মধ্যেই ফের তৃণমূলে ফিরে আসেন রাজীব। যদিও তার সেই প্রত্যাবর্তন প্রথমে সহজভাবে নেননি কল্যাণ। একাধিকবার নাম না করে ‘গদ্দার’ বলে কটাক্ষ করেছিলেন রাজীবকে।
কিন্তু সময়ের সঙ্গে পুরনো ক্ষত মুছে গিয়েছে। উভয়ের সম্পর্ক আবার পুরনো ছন্দে ফিরছে। রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের ঊর্ধ্বে উঠে একসঙ্গে কাজ করার ইঙ্গিত মিলল খুঁটিপুজোর অনুষ্ঠানে। দু’জনেই আশাবাদী, আগামী দিনে এই সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে।