টেনিস খেলোয়াড় মেয়েকে গুলি করে মারলো বাবা

বঙ্গবার্তা ব্যুরো,

ছবি- সোশ্যাল মিডিয়া থেকে স্ক্রিনশট

বাড়ির ভিতরেই গুলিতে প্রাণ হারালেন রাজ্য পর্যায়ের টেনিস খেলোয়াড় রাধিকা যাদব। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০ টা নাগাদ স্থানীয় হরিয়ানার গুরগাঁওয়ে স্থানীয় সুশান্ত লোক টু এলাকার বাড়িতে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।গুরগাঁও পুলিশের বক্তব্য, অভিযুক্ত বাবা দীপক যাদব তার লাইসেন্স প্রাপ্ত নিজের রিভলভার থেকে একাধিক গুলি ছোঁড়ে। যার তিনটি রাধিকার শরীরের পেছন দিকে লাগে এবং ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় এই খেলোয়াড়ের। তবে অটোপসি রিপোর্ট বলছে, রাধিকাকে চারবার গুলি করা হয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, রাধিকা একটি টেনিস একাডেমি পরিচালনা করতেন, যা নিয়ে তার বাবার আপত্তি ছিল। বাবা-মেয়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। পুলিশ জানান, তিনি বারবার মেয়েকে একাডেমি বন্ধ করতে বলেন। কিন্তু রাধিকা তা মানেননি। শেষ পর্যন্ত তা সহ্য করতে না পেরে মেয়েকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেন।

পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, মেয়ের উপার্জনে সংসার চলে বলে প্রতিবেশীরা দীপককে প্রায়ই কটূক্তি করতেন । এতে মানসিকভাবেও ভেঙে পড়েছিলেন দীপক।

স্থানীয় থানার ইন্সপেক্টর বিনোদ কুমার জানান, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১ টার দিকে গুরগাঁওয়ের একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে পুলিশকে জানানো হয়, গুলিবিদ্ধ হয়ে এক তরুণীর মৃত্যু হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। সেসময় নিহত রাধিকার কাকা কুলদীপ উপস্থিত থাকলেও, তার মা বাবা ছিলেন না। পরে পুলিশ তাদের বাড়িতে গিয়ে বাবাকে গ্রেফতার করে।

বিনোদ কুমার আরও জানান, ধৃত ব্যক্তি পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন, তিনি তার মেয়েকে গুলি করে মেরেছে। এই ঘটনায় রাধিকার কাকা কুলদীপ যাদব থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে ও দীপককে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

অল্প বয়সেই ক্রীড়া ক্ষেত্রে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে শুরু করেছিলেন রাধিকা। কিন্তু বাবার গুলিতে থেমে গেল সেই সম্ভাবনাময় জীবন। ভারতের ক্রীড়াক্ষেত্রে এই ঘটনাটি গভীর শোক ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।