রাজ্যে জাল ওষুধ চক্র তদন্তে সিআইডি

পীযূষ চক্রবর্তী,
এবার জাল ওষুধ কেলেঙ্কারি কাণ্ডের তদন্ত করবে সিআইডি। উলুবেড়িয়া আদালতের নির্দেশে রাজ্য ড্রাগ কন্ট্রোলের সঙ্গে তদন্ত করবে রাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থা। হাওড়ার আমতায় বিপুল পরিমাণ জাল ওষুধ উদ্ধারের ঘটনার জেরেই এই নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
বেশ কিছুদিন ধরেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে সক্রিয় জাল ওষুধ চক্র। মূলত নামী ওষুধ প্রস্তুতকারী কোম্পানির ওষুধের কিউআরকোড জাল করেই চলছিল এই প্রতারণা। সম্প্রতি আমতা থেকে উদ্ধার হয় কয়েক কোটি টাকার জাল ওষুধ। যা নিয়ে শোরগোল পড়ে যায় গোটা রাজ্যে। ওই জাল ওষুধ চক্রের জাল বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত বলেই মনে করছিলেন রাজ্য ড্রাগ কন্ট্রোলের আধিকারিকরা। সেক্ষেত্রে ওই চক্রকে ধরতে কোনও প্রশিক্ষিত সংস্থার সাহায্য নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছিল তারা। সেই কারণে তারা উলুবেড়িয়া এসিজেএম আদালতে আবেদন জানিয়েছিল। তা মঞ্জুর করেছে আদালত।
জানা গিয়েছে, সম্প্রতি একটি নামী ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থার রক্তচাপের ওষুধের কিউআর কোড জাল হয়। বিষয়টি নজরে আসার পর রাজ্য ড্রাগ কন্ট্রোলে ওই ওষুধ কোম্পানি অভিযোগ জানায়। ওই জাল ওষুধ বিহার থেকে বাংলায় ঢুকেছে বলে তদন্তে উঠে আসে। আর সেই ওষুধই হাওড়ার আমতার একটি ওষুধ সরবরাহকারী সংস্থা বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করছিল দীর্ঘদিন ধরে। মাস দেড়েক আগে আমতার ওই ওষুধ সরবরাহকারী সংস্থার গোডাউনে হানা দেন রাজ্য ড্রাগ কন্ট্রোলের অফিসাররা। সেখান থেকে উদ্ধার হয় ১৭ লক্ষ টাকার জাল ওষুধ। চক্রের জাল বহুদূর পর্যন্ত বিস্তৃত বলে মনে করছেন রাজ্য ড্রাগ কন্ট্রোলের আধিকারিকরা। আর সেই কারণেই কোনও পেশাদারী সংস্থা দ্বারা তদন্ত করানো উচিত বলে মনে করছেন তারা। সেইমতো উলুবেড়িয়া এসিজেএম আদালতে আবেদন করলে, আদালত সিআইডি তদন্তের নির্দেশ দেয়। রাজ্যের গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে রাজ্য ড্রাগ কন্ট্রোলও তদন্ত করবে বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে আদালতের পক্ষ থেকে।