Published By Subrata Halder, 23 May 2025, 08:58 a.m.
বঙ্গবার্তা ব্যুরো,
রাজ্যের শিল্প ও বাণিজ্য মন্ত্রী শশী পাঁজা বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, বীরভূমের মহম্মদবাজারের দেউচা পাঁচামিতে কয়লা ব্লকে প্রায় ৩০ শতাংশ এলাকায় আন্ডারগ্রাউন্ড কয়লাগ্যাস রূপান্তর এর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এর মাধ্যমে কয়লার পরিবর্তে সিনগ্যাস উৎপাদন করে পরিবহন খাতে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করা সম্ভব হবে।
চতুর্থ ইস্ট ও নর্থ-ইস্ট ইন্ডিয়া এনার্জি কনক্লেভে ভারতীয় চেম্বার অফ কমার্সের মঞ্চে মন্ত্রী বলেন, থার্মাল পাওয়ার নির্ভরতা কমিয়ে বাংলাকে সবুজ শক্তির পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। দেশীয় শক্তি রূপান্তরের ক্ষেত্রে বাংলা পথ দেখাচ্ছে।
মন্ত্রী আরও জানান, রাজ্যে স্থলভিত্তিক সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনা ১৯,০০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত, যেখানে বিদ্যুতের গড় দাম পড়ছে প্রতি ইউনিটে ৩ টাক, যা এই মুহূর্তে অনেক বেশি। পুরুলিয়ায় রয়েছে এই সৌরশক্তির ৫৬ শতাংশ সম্ভাবনা, ফলে বড়সড় সৌর প্রকল্প গড়ার আদর্শ জায়গা হয়ে উঠছে এই জেলা। মন্ত্রী বলেন, রাজ্যের ৩০টি বড় বাঁধে ভাসমান সৌর প্রকল্পে ৩,৫৬৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ আছে, যার মধ্যে শুধু কাঁসাই বাঁধে সম্ভাবনা ১,৭৯০ মেগাওয়াট। বায়োমাস উৎপাদনের সম্ভাবনা প্রায় ২,৮৬৪ মেগাওয়াট, যা কেন্দ্রীয় নবীকরণযোগ্য শক্তি মন্ত্রকের নির্ধারিত পরিমাণের দ্বিগুণ। পশ্চিম মেদিনীপুর, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও পূর্ব বর্ধমান এই তিন জেলা মিলে বায়োমাস সম্ভাবনার অর্ধেকই রয়েছে। ১০০ মিটার উচ্চতা পর্যন্ত হাওয়ার গতি কাজে লাগিয়ে ২০,০০০ মেগাওয়াট এবং ১৫০ মিটার পর্যন্ত ২৩,০০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত পवन শক্তি উৎপাদন সম্ভব।
এছাড়া, রাজ্যে টেরি-র সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ভাসমান সৌর, কৃষি সৌর ভবন অন্তর্ভুক্ত সৌর প্রকল্প এবং ব্যাটারি সংরক্ষণ প্রযুক্তি নিয়ে কাজ চলছে। পশ্চিমবঙ্গ পরিবহন নিগমের ইলেকট্রিক বাস ও ফেরিতে বিদ্যুৎ সংরক্ষণ নিয়েও সহায়তা করছে টেরি। তার দাবী, রাজ্য সরকার ইতিমধ্যেই গ্রীন হাইড্রোজেন ও অপ্রচলিত শক্তি ম্যানুফ্যাকচারিং নীতির রূপরেখা চূড়ান্ত করছে, যার লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে রাজ্যে নবীকরণযোগ্য শক্তির অংশ ২০ শতাংশে পৌঁছানো।
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো এটি এবার বাংলা যে পরিবেশবান্ধব শক্তি উৎপাদনের বিষয় ভাবনা চিন্তা করছে মন্ত্রীর এই বক্তব্য তা আরো একবার স্পষ্ট করছে। মূলত সবুজ বাংলার স্বপ্ন বাস্তবায়িত করতেই, এবার কয়লাতেও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির প্রয়োগ কথা ভাবছে রাজ্য বলছেন মন্ত্রী।

