ঠাণ্ডায় সংরক্ষিত তিন দশকের বেশি ভ্রূণ থেকে জন্মালো শিশু

বঙ্গবার্তা ব্যুরো,

ছবি -নিজস্ব সংবাদদাতা


৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে হিমায়িত রাখা ভ্রূণ থেকে একটি শিশুর জন্ম হলো। ১৯৯৪ সালে ওই ভ্রূণটি দান করা হয়েছিল। ১১ হাজার ১৪৮ দিন ধরে এই ভ্রূণটি হিমায়ত করে রাখা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, জন্মের আগে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে সংরক্ষণ করা ভ্রূণ এটি।

গত সপ্তাহে এক মার্কিন দম্পতির ঘরে জন্ম নেয় একটি পুত্র সন্তান। ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে হিমায়িত অবস্থায় থাকা ভ্রূণ থেকে জন্ম হয় শিশুটির।

লিন্ডসে এবং টিম পিয়ার্স দম্পতি বহু বছর ধরে একটি সন্তানের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। অবশেষে সৃষ্টিকর্তা তাদের একটি ফুটফুটে পুত্র সন্তান দিয়েছে। তারা দীর্ঘ ৩০ বছরের বেশি সময় ধরে সংরক্ষণ করা একটি ভ্রূণ দত্তক নেন তারা। শনিবার তাদের পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। পিয়ার্সের চিকিৎসক জানিয়েছেন, এই ভ্রূণটি একটি শিশু হিসেব জন্ম নেওয়ার আগে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে সংরক্ষিত থাকার রেকর্ড করেছে।

১৯৯৪ সালে এই ভ্রূণটি দান করেছিলেন লিন্ডা আর্চার্ড। তার বয়স এখন ৬২ বছর। তিনি বলেন, আমি সবসময়ই অনুভব করতাম যে, এই ছোট ভ্রূণগুলো আমার মেয়ের মতোই বেঁচে থাকার যোগ্য।

স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়ে গেলেও লিন্ডা বাকি ভ্রূণগুলো নষ্ট করতে চাননি। এই ভ্রূণগুলো সংরক্ষণের জন্য তিনি প্রতিবছর হাজার হাজার ডলার খরচ করেছেন। লিন্ডা চাইতেন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত, বিবাহিত, শ্বেতাঙ্গ ও খ্রিষ্টান একটি দম্পতির ঘরে এই ভ্রূণটি থেকে সন্তান জন্ম নেবে। তিনি চাননি ভ্রূণটি যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে অন্য কোনো দেশে অন্য কোনো পরিবারে চলে যাক।

শেষ পর্যন্ত তার ভ্রূণ লিন্ডসে ও টিম পিয়ার্স দম্পতির সঙ্গে মিলে যায়। লিন্ডসি পিয়ার্স বলেন, তারা কোনো রেকর্ড ভাঙতে চাননি। তারা শুধু একটি সন্তান চেয়েছিলেন।

বিষয়টিকে আরও জটিল করে তোলে ২০২৪ সালের আলাবামা সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়। সেখানে বলা হয়েছিল যে, হিমায়িত ভ্রূণ শিশু হিসেবে আইনি মর্যাদার অধিকার রাখে।