রাজ্য বিধানসভায় পাশ হল ক্লিনিক্যাল এস্টাব্লিশমেন্ট সংশোধনী বিল

Published by Subrata Halder, 17 June 2025, 08:16 p.m.

বঙ্গবার্তা ব্যুরো,
মঙ্গলবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যের ভোটে পাস হয়েছে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ক্লিনিক্যাল এস্টাব্লিশমেন্ট রেজিস্ট্রেশন, রেগুলেশন অ্যান্ড ট্রান্সপারেন্সি সংশোধনী বিল, ২০২৫। এই বিল অনুযায়ী, রাজ্যের সমস্ত বেসরকারি ক্লিনিক্যাল এস্টাব্লিশমেন্টে নির্ধারিত চিকিৎসার খরচ ও প্যাকেজ রেট স্পষ্টভাবে প্রদর্শন করা বাধ্যতামূলক হবে এবং তা এমন স্থানে রাখতে হবে, যাতে সাধারণ মানুষ সহজেই তা দেখতে পান।
বিল অনুযায়ী, কোনও চিকিৎসা শুরুর আগে রোগী বা তার পরিবারকে নির্দিষ্ট প্যাকেজের বাইরে থাকা সমস্ত সম্ভাব্য খরচের একটি সুনির্দিষ্ট অনুমান দিতে হবে। চূড়ান্ত খরচ রাজ্য সরকার নির্ধারিত সীমার বাইরে যেতে পারবে না এবং কোনও অতিরিক্ত খরচ হলে তা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে জানানো বাধ্যতামূলক। সেই সঙ্গে বিষয়ভিত্তিক খরচের বিস্তারিত বিবরণও দিতে হবে।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, এই বিল বেসরকারি হাসপাতালগুলির স্বচ্ছতা ও দায়িত্ববোধ বাড়াবে এবং চিকিৎসার নির্ধারিত রেট মানা বাধ্যতামূলক করবে। বিল অনুযায়ী, রাজ্যের সমস্ত বেসরকারি হাসপাতালকে ই প্রেসক্রিপশন চালু করতে হবে এবং চিকিৎসা সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য যেমন প্রেসক্রিপশন, ডিসচার্জ সারাংশ ও চিকিৎসার বিবরণ দীর্ঘমেয়াদী ইলেকট্রনিক রেকর্ড হিসেবে রাখতে হবে। রাজ্য সরকার চাইলে সেই তথ্য সংগ্রহ করতে পারবে।
রেজিস্ট্রেশন প্রক্রিয়ায়ও বদল আনা হয়েছে। এখন থেকে স্বাস্থ্য দফতরের সহ পরিচালক বা তার ঊর্ধ্বতন কোনও আধিকারিক রেজিস্ট্রেশন কর্তৃপক্ষ হবেন। নতুন লাইসেন্স বা নবীকরণের আবেদন ৯০ দিনের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে এবং অনুমোদন বা বাতিলের কারণ জানাতে হবে।
বিল অনুযায়ী, আইনি ব্যবস্থায় পরিবর্তন এনে এখন থেকে আইপিসি এবং সিআরপিসি র জায়গায় যথাক্রমে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং ভারতীয় বিচার প্রক্রিয়া সংহিতা প্রয়োগ হবে।
চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য বলেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চান সরকারি ও বেসরকারি খাত একসঙ্গে কাজ করুক, যাতে সাধারণ মানুষ উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা পান। এই সংশোধনী সেই উদ্দেশ্যেই আনা হয়েছে। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বিলে আপত্তি জানিয়ে বলেন, রাজ্য সরকারের এই বিল ত্রুটিপূর্ণ। স্ট্যান্ডিং কমিটিতে পাঠিয়ে বিলটি পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে। বিরোধী দলনেতা বলেন, সরকারপক্ষ আরজিকর থেকে শিক্ষা নেয়নি। বেসরকারি হাসপাতালে কর্মরত মহিলা ডাক্তার, নার্স, স্বাস্থ্যকর্মী রোগীদের নিরাপত্তার কথা ভেবে এখানে কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এইসব বেসরকারি হাসপাতালে যে আরজিকরের মত ঘটনা ঘটবে না তার প্রটেকশন এখানে দেওয়া হয়নি। সবাইকে সঙ্গে সঙ্গে প্যাকেজ বলে দিতে হবে এটা খারাপ কিছু নয়। প্যাকেজের বাইরে ও যদি রোগীর আরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রয়োজন হয় তাকে আরো বিকল্প কিছু ব্যবস্থার মধ্যে দিয়ে যদি নিয়ে যেতে হয়-তার উল্লেখ এই ভিলে নেই। এখানে ২৪ ঘন্টার মধ্যে এক দিনের বাজেট দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু রোগের নমুনা পরীক্ষার আগে কিভাবে তা সম্ভব বলছেন বিরোধী দলনেতা। এক্ষেত্রে তার পরামর্শ কম করে ৭২ ঘন্টা সময় দেওয়া উচিত ছিল। তিনি আরো বলেন, ছোট ছোট বেসরকারি হাসপাতাল বা নার্সিং হোমে ই প্রেসক্রিপশন চালু করা কঠিন হবে। তিনি বলছেন, এই আইন কার্যকর হলে আরো বেশি করে রোগীরা দক্ষিণমুখী হবে।
এর উত্তরে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য ব্যঙ্গ করে বলেন, যখন দেশের প্রধানমন্ত্রী ডিজিটাল ইন্ডিয়ার প্রচার করছেন, তখন বিরোধী নেতা বলছেন ই-প্রেসক্রিপশন চালানো যাবে না। এই বক্তব্যের জন্য দিল্লির নেতারা নিশ্চয়ই ওনাকে ধমক দেবেন।