ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটে এজেন্সি দিয়ে বুথের পরিকাঠামো গড়ার সিদ্ধান্ত কমিশনের

বঙ্গবার্তা ব্যুরো,

ছবি সোশ্যাল মিডিয়া

ছাব্বিশের নির্বাচনে বুথের ন্যুনতম পরিকাঠামো তৈরির জন্য সরকারি এজেন্সি নিয়োগ করছে নির্বাচন কমিশন। ইতিমধ্যেই পূর্ত দফতরের মাধ্যমে সরকারি এজেন্সি ম্যাকিনটোস বার্ণকে এই কাজের দায়িত্ব দেওয়ার ব্যাপারে প্রাথমিক কথা বলেছে মুখ্য নির্বাচন কমিশন দফতর। দিন দশেকের মধ্যেই রাজ্য অর্থ দফতরের কাছে আর্থিক অনুমোদনের জন্য আবেদন জানানো হবে। আর্থিক অনুমোদন মিললেই প্রথমিক সমীক্ষার কাজ শুরু করবে ওই এজেন্সি।

মূলত, নির্বাচন কমিশনের গাইডলাইন মেনে এতদিন ভোটের বুথের পরিকাঠামো তৈরি থেকে বুথের স্থান নির্বাচন সবকিছুই তদারকি করতে হত সংশ্লিস্ট জেলাশাসকদের। সরকারি আধিকারিকদের নিচুতলায় বিভিন্ন স্তরে একাধিক সরকারি অথবা বেসরকারি এজেন্সির মাধ্যমে বুথ পরিকাঠামো তৈরির কাজ করা হত। এতে কমিশনের গাইডলাইন সর্বত্র সমানভাবে যেমন পালন করা যেত না তেমনি ভোটবুথের পরিকাঠামো থেকে প্রযোজনীয় পানীয় জলের ব্যবস্থা, র‌্যাম্প তৈরি, শৌচলয়ের ব্যবস্থা নিয়ে যেমন ভোটের দুদিন আগে থেকেই অভিযোগ আসতে শুরু করে তেমনি ভোটের দিন বুথের জানলা ভাঙা, অপর্যাপ্ত বিদ্যুত ব্যবস্থা নিয়েও অনেক অভিযোগ জমা পড়ে।

যেহেতু এক এক জায়গায় এক একটি এজেন্সির মাধ্যমে কাজ হয় সেক্ষেত্রে বুথ তৈরির ক্ষেত্রে রাজ্যজুড়ে একটা অভিন্নতা তৈরি হবে তেমনি একটি নির্দিষ্ট এজেন্সিকে দায়বদ্ধ করে গাইডলাইন না মেনে কাজ করার ক্ষেত্রে কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর ক্ষেত্রেও সহজসাধ্য হবে। এছাড়াও নয়া সিদ্ধান্তের ফলে প্রশাসনিক আধিকারিকদের ঘাড়ে বাড়তি দায়িত্বের বোঝাও কমবে।

এসআইআর প্রক্রিয়া শুরু হলে বুথের স্থান নির্বাচন, তার পরিকাঠামোর জন্য এজেন্সি নিয়োগ এবং তার নিয়মিত নজরদারি, কোনও সমস্যা তৈরি হলে তার মীমাংসা করা ইত্যাদি নানা ধরনের বাড়তি কাজ থেকে কিছুটা নিষ্কৃতি মিলবে বলে মনে করছে প্রশাসনের একাংশ।

রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, গোটা রাজ্যে নির্দিষ্ট এজেন্সির মাধ্যমে কাজ করলে যেমন প্রশাসনিক সুবিধা হবে তেমনি কাজের ক্ষেত্রে দায়বদ্ধতাও বাড়বে। আবার ভুল কাজের ক্ষেত্রেও সহজেই এজেন্সি কর্তাকে চিহ্নিত করা যাবে। একইসঙ্গে অনেক আগে থেকেই এই কাজের জন্য প্রযোজনীয় বাজেট তৈরি করা যাবে এমনকি ভোটের বুথ নির্বাচনের নির্দিষ্ট সময়ের আগেই প্রস্তুত করা সম্ভব হবে।