ভারত-পাক যুদ্ধ নামা

Published By Subrata Halder, 07 May 2025, 06:32 pm

বঙ্গবার্তা ব্যুরো,
এ সময়ের সবচেয়ে আলোচিত ইস্যু ভারত পাকিস্তান উত্তেজনা। এরআগে ১৯৪৭ সালের ১৫ ই আগস্ট স্বাধীনতার সময় ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি পৃথক রাষ্ট্রের জন্ম হয়। তারপর থেকেই দুটি দেশের মধ্যে নানা সময় হয়েছে যুদ্ধ। তারমধ্যে বেশির ভাগ যুদ্ধ কাশ্মীরকে কেন্দ্র করে। আসুন ফিরে দেখি সেই সব যুদ্ধ নামা-

কাশ্মীর যুদ্ধ : ১৯৪৭-৪৮ সালে প্রথম ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ সংঘটিত হয়। একে কাশ্মীর যুদ্ধও বলা হয়ে থাকে। কারণ ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সংঘটিত প্রথম যুদ্ধ মূলত কাশ্মীর সমস্যাকে কেন্দ্র করেই হয়েছিল। তখন জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি হয়। সে সময়ে জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যকে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিভক্ত করে। ভারত জম্মু ও কাশ্মীর রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ লাভ করে, পাকিস্তান আজাদ কাশ্মীর ও গিলগিত-বালুচিস্তান অঞ্চল দুটির ওপর নিয়ন্ত্রণ লাভ করে।

কচ্ছ যুদ্ধ : ১৯৫৬ সালে দ্বন্দ্বের সূচনা। পরে ১৯৬৫ সালের জানুয়ারিতে পাকিস্তানি সীমান্তরক্ষীরা ভারত নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে পাহারা দিতে শুরু করে। ১৯৬৫ সালের ৮ ই এপ্রিল, উভয় দেশই কচ্ছ অঞ্চলে একে অপরের সীমান্ত চৌকির ওপর আক্রমণ চালায়। প্রথমে শুধু উভয় দেশের সীমান্ত পুলিশরা এ সংঘর্ষে জড়িত হয়। পরে খুব দ্রুত উভয় দেশের সশস্ত্রবাহিনীও জড়িয়ে পড়ে। ১৯৬৫ সালের জুনে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী হ্যারল্ড উইলসন দেশ দু’টিকে সংঘর্ষ বন্ধ করতে রাজি করান। তিনি বিরোধটির নিষ্পত্তির জন্য ট্রাইব্যুনাল গঠন করেন। ১৯৬৮ সালে ট্রাইব্যুনালের রায়ে পাকিস্তান দাবিকৃত ৩,৫০০ বর্গ কিলোমিটারের মধ্যে ৩৫০ বর্গ কিলোমিটার ভূমি লাভ করে।

১৯৭১ এ বাংলাদেশের মুক্তি যুদ্ধে ভারত নিজের ক্ষতি স্বীকার করেও বাংলাদেশ কে স্বাধীন হতে সর্বস্বপণ করে সাহায্য করে। ভারতীয় সেনার কাছে পর্যুদস্ত হতে হয়েছিল পাক সেনাকে।

কার্গিল যুদ্ধ : ১৯৯৯ সালের মে-জুলাই মাসে কাশ্মীরের কার্গিল জেলায় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ সংঘটিত হয়। পাকিস্তানি ফৌজ ও কাশ্মীরি বিচ্ছিন্নতাবাদীরা উভয় রাষ্ট্রের মধ্যে ডিফ্যাক্টো সীমান্তরেখা হিসেবে পরিচিত নিয়ন্ত্রণ রেখা বা লাইন অব কন্ট্রোল পেরিয়ে ভারতে ঢুকে পড়লে যুদ্ধ অনিবার্য হয়ে ওঠে। যুদ্ধ চলাকালীন ও যুদ্ধের পরে পাকিস্তান এ যুদ্ধের দায় সম্পূর্ণ কাশ্মীরি স্বাধীনতাপন্থী জঙ্গিদের ওপর চাপিয়ে দেয়। তবে ফেলে যাওয়া তথ্য-প্রমাণ এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ও সেনাপ্রধানের বিবৃতি থেকে স্পষ্ট জানা যায়, পাকিস্তানের আধাসামরিক বাহিনীও এ যুদ্ধের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিল। শেষে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক সমর্থনের সাহায্যে নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর পাকিস্তানকে ফৌজ প্রত্যাহারে বাধ্য করা হয়।

পুলওয়ামা সংকট : ২০১৯ সালের ১৪ ই ফেব্রুয়ারি থেকে আবার শুরু হয়েছে ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্ব। যা ক্রমশই যুদ্ধের দিকে মোড় নিচ্ছে। কাশ্মীরের পুলওয়ামা উপত্যকায় পাকিস্তানি সন্ত্রাসবাদীদের হামলায় একসঙ্গে ৪০ জন ভারতীয় সেনা নিহত হন। যার ফলে ভারতও পাল্টা হামলা চালাতে বাধ্য হয়েছে। সেই হামলা-পাল্টা হামলাই এখন মোড় নিচ্ছে বৃহত্তর যুদ্ধের দিকে।

পহেলগাম হামলার প্রত্যুত্তরে ২০২৫ এর ৭ ই মে থেকে পাকিস্তানের জঙ্গি ঘাঁটি গুলি লক্ষ্য করে আক্রমণ চালানো শুরু করেছে। পহেলগামে ২৬ জন হিন্দু পর্যটককে হত্যার জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে বিমান হামলা শুরু হয়েছে। এতে পাকিস্তানের অভ্যন্তরে মৃতের সংখ্যা ২৬। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে হামলার সময় ভারতের পাঁচটি যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করা হয়েছে। তবে শুরু হওয়া যুদ্ধের পরিণতি বলবে এর চূড়ান্ত প্রাপ্তি ।