বঙ্গবার্তা ব্যুরো,
আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে চলতে থাকা সংঘাত এবার অন্যমাত্রা নিচ্ছে। পরমাণু চুক্তিতে সই না করলে ইরানের উপর বোমা হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর পরেই পাল্টা প্রস্তুতি নিয়েছে তেহরান। আমেরিকা যদি কোনওরকম হামলা চালায় তবে পালটা জবাব দিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে মাটির নিচে ক্ষেপণাস্ত্র মজুত করছে তেহরান।যদিও আগেই পরমাণু চুক্তি নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার প্রস্তাবও খারিজ করে দিয়েছে ইরান।

কেন ইরানকে পরমাণু চুক্তি নিয়ে আলোচনায় বসাতে চাইছেন ট্রাম্প? অ্যাটমিক এনার্জি এজেন্সি বা আইএইএর গোপন প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করা যায় এমন ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের কাজ আগের চেয়েও অনেকটা এগিয়ে নিয়ে গেছে ইরান।অর্থাৎ এর ফলে তেহরাণ পরমাণু অস্ত্র তৈরির প্রায় কাছাকাছি পৌঁছে গেছে বলে মনে করছে আমেরিকা। যদিও বারবার ইরানের তরফে দাবি করা হয়েছে তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যেই গ্রহণ করা হয়েছে।তবে পশ্চিমী দুনিয়ার অভিযোগ, অসামরিক কাজের জন্য এর চেয়ে বেশি মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার কোনও যুক্তিগত কারণ নেই।
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে তেহরান ও আমেরিকার সঙ্ঘাত আজকের নয়।২০১৫ সালে বারাক ওবামার জমানায় ইরানের সঙ্গে তিন বছরের পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি করা হয়েছিল। তবে ২০১৮ সালে ক্ষমতায় এসেই এই চুক্তি ভেঙে বেরিয়ে আসেন ট্রাম্প। দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার পরে আবার কড়া তেহরান বিরোধী অবস্থান নিয়েছে হোয়াইট হাউস।এমন পরিস্থিতিতে তেহরানের অভিযোগ, নিরস্ত্রীকরণের অজুহাতে পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদনকেন্দ্রে ‘কোপ’ বসাতে চাইছে আমেরিকা এবং ইজরায়েল।তবে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির অভিযোগ ট্রাম্পের উদ্দেশ্য আলোচনা বা সমস্যা সমাধান করা নয়,গুন্ডামি করা বা অন্যদের উপর আধিপত্য বিস্তার করা।

