সত্যানুসরণ
সাধনার-তুক্
যদি সাধনায় উন্নতিই করতে চাও_আর সে উন্নতিকে সর্ব্বতোমুখী করারই ইচ্ছা থাকে তা-হ’লে প্রথমেই নজর রেখো এমনতর অনুসন্ধিৎসার ভিতর দিয়ে সেবামুখর ইষ্টযাজন যা’তে তোমার সেবায় তোমার প্রতি-পারিপার্শ্বিক তার প্রয়োজন-পূরণে পুষ্টিলাভ ক’রে ইষ্টে উদ্বুদ্ধ হ’য়ে তা’তে অটুটভাবে অনুরক্তি লাভ করে।
আর এই যাজনের ভিতর দিয়েই দেখবে তোমার ইষ্টমনন বা ধ্যান এমনতরই প্রবল হ’য়ে উঠছে যাতে তোমার প্রত্যেকটি প্রবৃত্তি ইষ্ট-স্বার্থ-প্রতিষ্ঠা-পুষ্টিপন্ন না হয়েই থাকতে পাচ্ছে না। এমনতর ভাবেই ক্রমশঃই দেখতে পাবে তোমার প্রত্যেকটি বৃত্তি ও প্রবৃত্তি প্রত্যেকটি প্রত্যেকটিকে কেমনতর সার্থক করে তুলছে_ আর সেগুলি অমনি ক’রেই ইষ্টের প্রতি অনুরক্তি -সূত্রেই যেন কেমন সুন্দরভাবে গ্রথিত হ’য়ে উঠছে।

তারপর এরই ভিতর দিয়েই তোমার নামধ্যান ইত্যাদি সাধনার সময় যখন তুমি নিরিবিলি-ভাবে ব’সে ওসব কচ্ছ তোমার মাথায় যেমনতর যত চিন্তায় আসুক না কেন প্রতি-প্রত্যেকটিকেই বেশ ক’রে হিসাব-নিকাশ করে ইষ্টানুকূলে এনে তাঁর তুষ্টি, পুষ্টি ও প্রতিষ্ঠায় সমাধান ক’রে ফেলতে থাকআর এই ক’রে তোমার ধ্যান,জপ ইত্যাদি যেই শেষ হ’য়ে এল অমনি সেগুলি যথাযথ যতদূর সম্ভব কর্মের ভিতর দিয়ে বাস্তব অভিব্যক্তি দিতে কিছুতেই ভুলে যেও না। দেখবে তোমার মস্তিস্ক কেমন তরতরে হ’য়ে দক্ষতা ও ক্ষিপ্রতার সহিত জ্ঞান ও কর্মের অধিবেশনে তোমাকে নিরন্তর উন্নত উপভোগের ভিতর দিয়ে বাস্তব উন্নতিতে নিয়ে চ’লছে।
এই এমনতরটি বাদ দিয়ে তুমি যতই সাধনা বা যা- কিছুই কর না কেন তুমি কিছুতেই প্রস্বস্তি লাভ করতে পারবে না _একথা অতি নিশ্চয়।
শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র:সত্যানুসরণ (৪৬)

