সত্যানুসরণ (দ্বিতীয় ভাগ )
অকৃতজ্ঞতা
তুমি তোমার আদর্শের স্বার্থ ও প্রতিষ্ঠাকে স্বার্থ করে, তোমার জীবন, চরিত্র ও চলনাকে সেও উদ্বোধনায় নিয়ন্ত্রিত ক’রেই চলতে থাক। যাদের দিয়ে তোমার ঐ স্বার্থ ও প্রতিষ্ঠা পুষ্টি পেয়েছে- তাদেরই কাছে কৃতজ্ঞ হও-জীবনে তোমার আদর্শ ও তদনুকূল ব্যাপার ছাড়া নিজের জন্য কৃতজ্ঞতা-প্রকাশের কিছুই থাকিবে না। অতএব কোথাও কৃতঘ্ন ও বিশ্বাসঘাতক হইতে হইবে না।
অকৃতজ্ঞতা চিরদিনই কৃতঘ্নতা ও বিশ্বাসঘাতকতাকে নিমন্ত্রণ করে।এই তিনই বিশেষতঃ কৃতঘ্নতা ও বিশ্বাসঘাতকতা-যা’-নাকি নিজের স্বার্থসিদ্ধির জন্য যে আমাকে সাহায্যে তার কৃতকর্ম্মে পুষ্ট করিয়া পোষনে বর্দ্ধিত করিয়া তুলিয়াছে-তা’ যতটুকুই হোক না কেন,তা’র সর্ব্বনাশে উপকারীর জীবনবৃদ্ধিকে হনন করিয়া নিমকহারামী স্বার্থে বৃত্তিপ্রান নিজেকে তার সম্পদে পুষ্ট, সম্পদশালী ক’রে তোলে বা তুলতে চেষ্টা করে -সেই হচ্ছে এমন পাপ যার প্রায়শ্চিত্ত আয্যনিদানে পাওয়া কঠিন।

এই কৃতঘ্নতা ও বিশ্বাসঘাতকতাকে যে বা যা’রা প্রশ্রয় ও পোষণপুষ্ট করে, তারা এদের চাইতেও পাপী।
কৃতঘ্ন ও বিশ্বাসঘাতক অনেকটা সময়েই নিজেই সর্বনাশে সাবাড় হয়- আর এই প্রশ্রয়ী ও পুষ্টিপ্রদাতারা ব্যাষ্টিসমষ্টির ধর্ম ও জাতির চিরদিনই সর্বনাশ করে থাকে।
এরা সাধারণতঃ দুর্ব্বলের সাহায্যকারী- উদার মুখোশ পরে পারিপার্শ্বিককে নানা কথার ভানে ভুলিয়ে লোভ দেখিয়ে, বিপথে চালিয়ে, সর্ব্বনাশের সমাহিত ক’রে থাকে। এরা গা-ঢাকা দেওয়া মৃত্যুর আড়কাঠি-এদের কুটির উদার চক্ষু থেকে-নিজের ভালই চাও তবে সাবধান থেকো!
শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র:সত্যানুসরণ (৫৪)

