বঙ্গবার্তা ব্যুরো,
এবারই প্রথম দীঘার সমুদ্র সৈকতে সরকারি উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছিল নব নির্মিত জগন্নাথ মন্দিরের থেকে রথ যাত্রার। কিন্তু সেই রথ যাত্রায় সাধারণের স্থান হলো দুর থেকে প্রভু জগন্নাথ কে দেখা, তার রথের রশিতে টান দেবার সুযোগ পেলেন না মানুষ। রাস্তার দু’ধারে ব্যারিকেড করে সাধারণ মানুষ বা দর্শনার্থী ও ভক্তদের আটকে রেখে রথের রশি টেনে রথকে মাসির বাড়ির দিকে এগিয়ে নিয়ে গেলেন সাধু সন্ত ও সেবাইতরা।
যদিও রথযাত্রা হল একমাত্র ধর্মীয় উৎসব যেখানে ভক্তের ভগবান নিজে রাস্তায় নেমে এসে ভক্তকুলের সঙ্গে মিলিত হন। রথের রশি ভক্তির প্রতীক, এই রশিতে টান দিয়ে রথ টেনে ভক্ত তার আরাধ্যের সঙ্গে একাত্ম হন। পুরাণ বা ধর্মীয় তত্ত্ব অনুযায়ী রথযাত্রার মাহাত্ম্য এটাই। অথচ সরকারি উদ্যোগে দিঘার সমুদ্র সৈকতে জগন্নাথ মন্দির তৈরি করে এই প্রথম রাজ্যে রথযাত্রা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উন্মাদনা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু হতাশ হলেন সাধারণ মানুষ।
যদিও রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে এক কিলোমিটার রাস্তায় মাসির বাড়ি যাওয়ার পথে দিঘার জগন্নাথ দেবের রথ যে পরিক্রমা করবে সেখানে বহু মানুষের সমাগম হলে দুর্ঘটনার আশঙ্কা ছিল। মূলত উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজে মহাকুম্ভের ঘটনা এবং গতবছর পুরীতে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনা যাতে দিঘায় না হয় তা সতর্ক রাজ্য প্রশাসন এই সিদ্ধান্ত নেয়।
কিন্তু তাকে ঘিরেই সাধারণ মানুষ, বিরোধীদল ও ধর্মপ্রাণ বাঙালির মনে হতাশা ও অভিমান। দীঘার রথ যাত্রায় আবেগ উন্মাদনার চেয়ে বড়ো হয়ে দেখা গেলো সরকারের দম্ভ, প্রশাসনের সফল আয়োজনের অহঙ্কার। সাধারণ কে সরিয়ে রেখে জগতের নাথ কেও দূরে সরিয়ে রাখলো সরকার মানুষের কাছ থেকে।
মনে করিয়ে দিল রবীন্দ্রনাথের লেখা অমোঘ কবিতা, রথ ভাবে আমি দেব, পথ ভাবে আমি, মূর্তি ভাবে আমি দেব, হাসেন অন্তর্যামী। দীঘার প্রথম রথ যাত্রায় সেই ছবিই যেনো ফুটে উঠলো।

