Published By Subrata Halder, 18 May 2025, 09:35 pm
বঙ্গবার্তা ব্যুরো,
চাকরি ফিরে পাওয়ার দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে বিকাশ ভবনের সামনে অবস্থানরত যোগ্য শিক্ষকদের ১৫ জনকে থানায় হাজিরা দেবার সমন জারি করল পুলিশ। বিধাননগর উত্তর থানার পক্ষ থেকে অন্তত ১৫ জন শিক্ষককে আগামী ২১ মে হাজিরা দিতে বলা হয়েছে। তাদের প্রত্যেকের বাড়িতে এই মর্মে নোটিশ ও পৌঁছে গেছে।
বৃহস্পতিবার বিকাশ ভবনের মূল গেট ভেঙে আন্দোলনকারীরা ভিতরে ঢুকে পড়েন। রাত বাড়তেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশ আন্দোলনকারীদের উপর লাঠিচার্জ করে বলে অভিযোগ। লাঠির ঘায়ে গুরুতর আহত হন একাধিক শিক্ষক শিক্ষিকা। কারো অভিযোগ তাদের জুতো এবং লাথি মারা হয়েছে।
এই ঘটনার পর পুলিশের পক্ষ থেকে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করা হয়। সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুর, কর্মীদের কাজে বাধা, ও হেনস্থার মতো একাধিক অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে শিক্ষক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ১৫ জনকে।
আন্দোলনের অন্যতম মুখ অদিতি বসু বলেন, এই মামলা আসলে একটা রাজনৈতিক চাল। যারা ঘটনাস্থলে ছিলেন না, তাদের নামেও নোটিস গেছে। এর মানে সরকার চাইছে এই আন্দোলনের নেতৃত্বে থাকা মুখগুলি ধ্বংস করে দিতে। কিন্তু আমরা ভয় পাই না। আমরা শিক্ষক, পড়াতে এসেছি, আন্দোলন করছি ভবিষ্যতের শিক্ষার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই থামবে না।
আন্দোলনকারী শিক্ষক মহবুব মণ্ডল বলেন, যারা মাথা ফাটিয়ে এখনও অবস্থান করছেন, তাদের বিরুদ্ধেই এবার মামলা। যেন যুদ্ধ করেছি আমরা! সরকার চায় ভয় দেখিয়ে আন্দোলন বন্ধ করতে, কিন্তু এটা সম্ভব নয়। আলোচনা না করে পুলিশি রাস্তায় গিয়ে অগণতান্ত্রিক মনোভাবের পরিচয় দিচ্ছে।
আন্দোলনকারীদের আশঙ্কা থানায় গেলে গ্রেফতার করা হতে পারে। আবার হাজিরা না দিলেও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হতে পারে। দক্ষিণবঙ্গের এডিজি সুপ্রতিম সরকার জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন চলছিল। কিন্তু বৃহস্পতিবার আচমকাই গেট ভেঙে ভিতরে ঢুকে পড়েন আন্দোলনকারীরা। প্রায় ৭০০ জন কর্মী আটকে পড়েন। একজন গর্ভবতী মহিলাও ছিলেন। বারবার সতর্ক করার পরও আন্দোলনকারীরা অবরোধ না তোলায় পুলিশ বাধ্য হয়ে বলপ্রয়োগ করেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, শিক্ষা ব্যবস্থার সর্বনাশ করছে তৃণমূল সরকার। শিক্ষকদের ওপর পুলিশের লাঠিচার্জ নিন্দনীয়। আমরা যুব মোর্চার নেতৃত্বে আন্দোলনের পাশে থাকবো, এবং পুলিশি জুলুমের প্রতিবাদে পথে নামবো।
পর্যবেক্ষকদের মতে, নোটিস পাঠানো, মামলা দায়ের ও পুলিশের কঠোর অবস্থানের পর আন্দোলন আরও জোরালো হতে চলেছে। সরকারের কৌশল আর আন্দোলনকারীদের প্রতিক্রিয়া একত্রে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হতে চলেছে। তবে আইনি বিশেষজ্ঞদের অভিমত সরকার রিভিউ পিটিশন দাখিল করলেও
অযোগ্যদের চাকরি মঞ্জুর করতে পারবে না। টেন্টেড আনটেন্টেড তফাৎ বোঝাবে কে।

