দিল্লিতে বাংলাভাষী শ্রমিকদের উপর নিপীড়নের প্রতিবাদ মুখ্যমন্ত্রীর

বঙ্গবার্তা ব্যুরো,

নয়াদিল্লির বসন্তকুঞ্জের জয় হিন্দ কলোনিতে বাংলাভাষী পরিযায়ী শ্রমিকদের হেনস্থা ও জবরদস্তি উচ্ছেদ অভিযানের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার এক্স হ্যান্ডেলে তিনি কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের সমালোচনা করে বলেন, বাংলার মানুষ যদি নিজের দেশেই অনাহূত অতিথির মতো আচরণের শিকার হন, তাহলে বাংলা চুপ করে থাকবে না।

বসন্তকুঞ্জের ওই কলোনি বহু বছর ধরেই বাংলাভাষী শ্রমজীবী মানুষদের আশ্রয়স্থল। এরা মূলত দিল্লি শহরের নির্মাণ ও পরিষেবা ক্ষেত্রে অসংগঠিত শ্রমশক্তির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে কাজ করেন। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর অভিযোগ, সম্প্রতি বিজেপি পরিচালিত সরকারের নির্দেশে সেখানে জল ও বিদ্যুৎ পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগ ছিন্ন করা হয়েছে, বাতিল হয়েছে ইলেকট্রিক মিটার। বাসিন্দারা নিজেদের টাকায় জল সরবরাহের ব্যবস্থা করলেও, দিল্লি পুলিশ তা আটকানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ, বলে অভিযোগ।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লিখেছেন, জল, বিদ্যুৎ ও আশ্রয় এই তিনটি মৌলিক অধিকার। যদি এইভাবে পদদলিত হয়, তাহলে আমরা কেমন করে নিজেদের গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র বলে দাবি করব ? তিনি আরও জানান, এই উচ্ছেদ অভিযান চলাকালীন দিল্লি পুলিশ ইতিমধ্যেই হস্তক্ষেপ করেছে এবং ওই বিষয়ে মামলা আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। তা সত্ত্বেও এই ধরনের ‘জবরদস্তি’ মেনে নেওয়া যায় না বলেই মত মুখ্যমন্ত্রীর।

এক্স হ্যান্ডেলে তিনি লেখেন, পশ্চিমবঙ্গে ১.৫ কোটির বেশি পরিযায়ী শ্রমিক সম্মানের সঙ্গে বাস করছেন। কিন্তু বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলিতে বাংলাভাষীদের উপর পরিকল্পিত নিপীড়ন চলছে। কেউ বাংলায় কথা বললেই তাকে বাংলাদেশি তকমা দেওয়া হচ্ছে এটা মেনে নেওয়া যায় না।

তিনি বলেন, পশ্চিমবঙ্গে বাঙালিদের অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা যেভাবে ব্যর্থ হয়েছে, এবার সেই বাংলা বিরোধী রাজনীতি অন্য রাজ্যে ছড়ানোর চেষ্টা করছে বিজেপি। গুজরাট, মহারাষ্ট্র, ওড়িশা, মধ্যপ্রদেশের পর এবার রাজধানী দিল্লিতেও সেই একই চিত্র দেখা যাচ্ছে।

পোস্টের শেষে মুখ্যমন্ত্রী বার্তা দেন, বাংলা সব নির্যাতিত কণ্ঠের পাশে দাঁড়াবে। এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমরা সর্বত্র আওয়াজ তুলব।
বসন্তকুঞ্জের পরিস্থিতি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। বিজেপির পক্ষ থেকে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া মেলেনি। তবে এই ইস্যু আগামী দিনে রাজ্য ও জাতীয় রাজনীতিতে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।