সত্যানুসরণ
বিশ্বাসঘাতকতা(দ্বিতীয় ভাগ )
তুমি জান নাই বা বুঝতে পার নাই এমনতর তোমার আদর্শের কোন কাজ বা কথায় মন্দ বা বিরুদ্ধ সমালোচনা জমায়েৎ লোকজনের সমক্ষে এমন কি বুঝিবার জন্যও- কিছুতেই করিতে যাইও না। করিলে তাহা তোমার প্রতি পারিপার্শ্বিকে নানারকম চারাইয়া গিয়া তোমার ও তোমার আদর্শের এমনতর মন্দ বিরুদ্ধ অযথা অন্যায় মতবাদের সৃষ্টি করিবে যাহাতে অপবাদ ও অপযশের বাস্তব সংঘাতে আদর্শ সহিত তোমার দুস্থ, অবসাদগ্রস্ত সংঘাত নিহত হইতে একটুও বিলম্ব হইতে না-ও পারে। আর শত চেষ্টায়ও তখন তাহার নিরাকরণ করার অবসরও থাকিবে না- লাখ ভাল করিয়াও হয়ত বিনাদোষে অর্ব্বাচীনের মত আদর্শ সহিত বেকুবীর দরুণ ঐ অল্পবুদ্ধি পারিপার্শ্বিকের হাতে বিধ্বস্তিতে নিষ্পেষিত হইয়া হতায়ু হওয়া ছাড়া হয়ত অন্য কোন উপায়ই থাকিবে না। সাবধান হইওএমনতর কেহ করিতে গেলেও তাহাকে বিনা আপোষ-রফায় তৎকালেই প্রতিরোধ করিও-ই। বরং তাতে অনেকটাই রেহাই পাইতে পার।

যখনই তোমার কাছে তোমার আদর্শ, ধর্ম বা তদ্রুপ মাঙ্গল্য কোন- কিছুর নিন্দা বা অপবাদ করিবার সুযোগ বা অবসর পাইয়াছে বা অপবাদ করিতেছে-ঠিক বুঝিও এই নিন্দা, অপবাদ, অপযশের উপকরণ -যাতে সেগুলি পোষণ পেতে পারে-তা’ তোমার অন্তর, তোমার হাবভাব ইত্যাদিতেই প্রকৃষ্টভাবে লুকায়িত আছে।
একটা সৎজ্ঞান,উদারতা বা ক্লৈবিক বিচার সম্পন্ন বিশ্বপ্রেমের ঘোমটায় তোমার সেই তাহাত্ব-ই জ্বলজ্বল করিতেছে-আর ঐ আকর্ষণেই তোমার পারিপার্শ্বিক মুগ্ধ বেকুবতায় অঢেল অমনতর হইয়া তোমার সম্মুখে দাড়াইল। সাবধান হও,শোধরাও,আপোষ রফা হইতে বিরত থাকআদর্শপ্রাণতায় আপ্রাণভাবে তঁৎস্বার্থ ও প্রতিষ্ঠাপন্ন হইয়া উদ্ভাসিত মুগ্ধ আকর্ষনে প্রতি-প্রত্যেককে উদ্বুদ্ধ করিয়া তোলসার্থক হইবে ও সার্থক করিতে পারিবে।
শ্রীশ্রীঠাকুর অনুকূলচন্দ্র:সত্যানুসরণ (৫৩)

