বঙ্গবার্তা ব্যুরো,
মালদহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এই প্রথম শিরদাঁড়ার ভিতরে থাকা টিউমার সফল অস্ত্রোপচার করে বার করলেন চিকিৎসকেরা।
এই অস্ত্রোপচার করে নজির গড়লেন নিউরো সার্জেন চিকিৎসক উজ্জ্বল কুমার বিশ্বাস। সফল অস্ত্রোপচারের পর রোগীকে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়। অনেকটা সুস্থ হলে আজ তাকে হাসপাতাল থেকে ছুটি দেওয়া হয়।
মুর্শিদাবাদ জেলার সাগরদিঘির আধুয়া গ্রামের বাসিন্দা বছর ৩৮ এর রিজিয়া বিবি। স্বামী নূরে আলম পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করেন। স্বামীর সঙ্গে রিজিয়া বিবিও ভিন রাজ্যে কাজ করতেন। বর্তমানে তাঁদের পাঁচ সন্তান। গত পাঁচ বছর ধরে রিজিয়া বিবি কোমর ব্যাথা সহ,পায়ে ব্যাথা ও পায়ে ঝিন ঝিন ধরত। প্রথম দিকে গুরুত্ব না দিলেও ব্যথা বাড়তে থাকলে চিকিৎসা করান।
একবছর আগে দিল্লিতে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে রিজিয়া। সেখানে এইমস হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে যান। সেখানেই রোগ ধড়া পড়ে। চিকিৎসকেরা জানান শিরদাঁড়ায় স্পাইনাল কডের ভিতরে টিউমার রয়েছে। অস্ত্রোপচার করতে হবে। কিন্তু সেখানে অস্ত্রোপচার হচ্ছিল না।বাধ্য হয়ে, স্বামী নূরে আলম স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ি চলে আসেন।
দিল্লিতে থাকর খরচ যোগাতে পারছিলেন না তিনি। তবে ফিরে এসে বাড়িতে স্ত্রীর সমস্যা ক্রমশ বাড়তে থাকে। শেষে মালদহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বর্হিবিভাগে নিয়ে যান স্ত্রীকে। সেখানে নিউরো বিভাগের চিকিৎসক উজ্জ্বল কুমার বিশ্বাস অস্ত্রোপচার করার কথা বলেন।
এর আগে নূরে আলম বেসরকারি নার্সিংহোমে নিয়ে গিয়েছিলেন। সেখানে অস্ত্রোপচারের জন্য আট লক্ষ টাকা চেয়েছিল। টাকা না থাকায় সম্ভব হয়নি। অবশেষে গত বৃহস্পতিবার মালদহ মেডিকেল কলেজে ভর্তি করায় স্ত্রীকে। শুক্রবার সফল অস্ত্রোপচার করেন চিকিৎসক।
শিরদাঁড়ার স্পাইনাল কর্ডের ভিতরে টিউমারটি ক্রমশ বড় হতে থাকায় হাঁটা চলা করতে পারছিলেন না রিজিয়া বিবি।
মালদহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, এই ধরণের রোগী খুব কম দেখা যায়।
নিউরো বিভাগের চিকিৎসক সার্জেন উজ্জ্বল কুমার বিশ্বাস বলেন, এই রোগ নির্ণয় প্রথম দিকে সম্ভব নয়। রোগীর পায়ে ব্যাথা, ঝিমুনি হবে। ধীরে ধীরে হাঁটা চলা বন্ধ হয়ে পড়বে। এমনকি অস্ত্রোপচার না করলে প্রস্রাব, পায়খানা সব বন্ধ হয়ে যাওয়ার সম্ভবনা থাকে। এইক্ষেত্রে রোগীর রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা সম্ভব হয়েছে। ধীরে ধীরে রোগী সুস্থ হয়ে উঠবেন।
মালদহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরো সার্জারি বিভাগে এই চিকিৎসা হয়েছে। তিনজন চিকিৎসক প্রায় আড়াই ঘন্টা সময় নিয়ে অস্ত্রোপচার করেছেন। অস্ত্রোপচার সফল হাওয়ায় খুশি চিকিৎসকরাও।
আর রিজিয়া বিবি ও তার স্বামী
চিকিৎসকদের কাছে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করছেন এই অপারেশন করে তাদের মত গরীব মানুষকে
বাঁচিয়ে তোলার জন্য।

