বঙ্গবার্তা ব্যুরো,
ছবি- সোশ্যাল মিডিয়া
ইয়ংলু ঝাংবো নদীতে বাঁধ দিয়ে চীন বিশ্বের সর্ববৃহৎ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ শুরু করেছে, যা নির্মাণে খরচ হবে প্রায় ১৭০ বিলিয়ন ডলার। চীনের দাবি, এটিই হবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় হাইড্রোপাওয়ার প্রকল্প, যা প্রতি বছর যুক্তরাজ্যের চাহিদার সমান বিদ্যুৎ উৎপাদনে সক্ষম হবে।
কিন্তু এই বিশাল প্রকল্প নিয়ে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে দেখা দিয়েছে গভীর উদ্বেগ। কারণ এই বাঁধ নির্মাণ হচ্ছে ইয়ারলুং ঝাংবো নদীর ওপর, যা ভারত ও বাংলাদেশে প্রবেশ করে ব্রহ্মপুত্র নামে পরিচিত। এই নদী উভয় দেশের কয়েক কোটি মানুষের জীবনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। চীনের প্রকল্পে নদী বাঁধ নির্মিত হলে প্রথম তৈরি হবে জল সংকট।
এই প্রকল্পে তিব্বতের মালভূমি থেকে নিচে নেমে আসা নদীতে পাঁচটি ড্যাম তৈরি করা হবে। প্রথম বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হতে পারে ২০৩০ সালের প্রথমার্ধে। তবে প্রকল্পের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি চীন।
চীনের গোপনীয়তা ও তথ্যের স্বচ্ছতার অভাব ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। এই দুই দেশ ব্রহ্মপুত্র নদীর জলের ওপর নির্ভর করে কৃষিকাজ, জলবিদ্যুৎ ও খাবার জলের জন্য।
ভারতের অরুণাচল প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী আগেই সতর্ক করেছেন যে এই বাঁধের কারণে রাজ্যের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত ৮০ শতাংশ নদীশুকিয়ে যেতে পারে এবং নিচের দিকের আসাম রাজ্যে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিতে পারে।
এছাড়া নদীর সঙ্গে বয়ে আসা পলিমাটির পরিমাণও কমে যেতে পারে, যা নদীতীরবর্তী অঞ্চলের কৃষিকাজের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
যদিও চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দাবি, ইয়ারলুং ঝাংবো নদীতে হাইড্রোপাওয়ার প্রকল্প নির্মাণ চীনের সার্বভৌম অধিকার। চীনের দাবি, এই প্রকল্প হবে ক্লিন এনার্জির উৎস এবং বন্যা প্রতিরোধেও সহায়ক হবে। নিচের দিকের দেশগুলোর সঙ্গে প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও তথ্য বিনিময়ে তারা সমন্বয় গড়ে তুলছে।
ভারত নিজেও ইয়ারলুং ঝাংবো যা ভারতে সিয়াং নদী নামে পরিচিত। ওই নদীতে দুটি বড় বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে ভারত। যেটি ভারতের সবচেয়ে বড় জলবিদ্যুৎ প্রকল্প।

