বঙ্গবার্তা ব্যুরো,
লোকসভা এবং রাজ্যসভার দুই কক্ষেই পাশ হয়ে গেছে ওয়াকফ সংশোধানী বিল ২০২৫ । এখন এই বিলে রাষ্ট্রপতির সই হয়ে গেলেই তা আইনে পরিণত হবে। বিল পাশ হলেও এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এখনও চলছে। কংগ্রেস, ডি এম কে এবং এ আই এম আই এম এই বিলের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে যাবে বলে জানিয়েছে। অন্যদিকে কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু বিষয়ক মন্ত্রী কিরণ রিজেজু বিল পেশ করে দাবি করেছেন এর ফলে দেশের মুসলিম মানুষই উপকৃত হবেন।
এখন দেখে নেওয়া যাক এই সংশোধনীতে কী আছে, আগেই বা কী ছিল।
ওয়াকফ সম্পত্তি আসলে মুসলিম সম্প্রদায়ের উন্নতির জন্য দান করা জমি বা অন্য কিছু। হিসেব বলছে এই মুহূর্তে এই ওয়াকফ সম্পত্তির মোট পরিমাণ ৮ লাখ একরেরও বেশি। এই ওয়াকফ সম্পত্তি দেখাশোনার জন্য আছে ওয়াকফ বোর্ড। মুলত ইসলামিক আইন মেনেই এই সম্পত্তি পরিচালনা করা হয়। সেই আইনের ৪০ নম্বর ধারতেই বদল আনতে চাইছে কেন্দ্রীয় সরকার। যদিও বিজেপি বিরোধী দলগুলি এবং একাধিক মুসলিম সংগঠনের অভিযোগ এই সংশোধনী এনে আসলে মুসলিমদের সম্পত্তির ওপর সরকারের নিয়ন্ত্রণ কায়েম করার চেষ্টা হচ্ছে। তাই তারা এর প্রতিবাদ করছেন।
এতদিন কোনও মুসলিম, তাদের সম্পত্তি ধর্মীয় কাজে দান করতে পারতেন। হয় পুরো সম্পত্তি অথবা তার একটা অংশ। সেই সম্পত্তি মুসলিমদের উন্নয়নের কাজে ব্যবহার করা যেত।
এখন বলা হচ্ছে সম্পত্তি দান করার আগে উত্তরাধিকার হিসেবে মহিলা, বিধবা বা বিবাহ বিচ্ছিন্নাদের অংশ দিয়ে দিতে হবে। এর পাশাপাশি এখন যে কেউ সম্পত্তি দান করতে পারবেন না। বলা হচ্ছে অন্তত পাঁচ বছর সেই ব্যক্তিকে ইসলাম ধর্মাচারণ করতে হবে। তবেই তিনি সম্পত্তি দান করতে পারবেন।
ওয়াকফ আইনের ৪০ নম্বর ধারায় বলা আছে সম্পত্তি নিয়ে কোনও বিবাদ হলে সরকার তাতে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না।পর্যালোচনা ছাড়াই কোনও জমি ওয়াকফ বলে ঘোষণা করতে পারে ওয়াকফ বোর্ড। সেখানেও সরকারি হস্তক্ষেপ চলে না।
সংশোধনীতে এর বদল আনার কথা বলা হয়েছে। এখন কোনও সম্পত্তি নিয়ে বিবাদ হলে তা নিয়ে আইনি পর্যালোচনার অধিকার সরকার নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে। কোনও সম্পত্তি ওয়াকফের কিনা তা বিচারের একচ্ছত্র অধিকার আর ওয়াকফ বোর্ডের হাতে থাকবে না। এখন থেকে জেলাশাসক বা সেই পদমর্যাদার আধিকারিক তা বিচার করে দেখবেন। অমিত শাহ লোকসভায় জানিয়েছেন যদি কোনও ব্যাক্তি সেই সিদ্ধান্ত পছন্দ না হয় তাহলে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হতে পারবেন। অমিত শাহের দাবি এই ব্যবস্থ আগে ছিল না।
নতুন আইনে বলা হয়েছে ওয়াকফ সম্পত্তির রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতিতেও বদল আনা হবে।
সারা দেশের সমস্ত ওয়াকফ সম্পত্তি একটি কেন্দ্রীয় পোর্টালে তার নথি থাকবে।
এখন থেকে ওয়াকফ বোর্ডে দু জন অমুসলিম সদস্য থাকবেন।
ওয়াকফে দান করা কোনও সম্পত্তির আয় যদি এক লাখ টাকার বেশি হয়, তাহলে তা অডিট করাতে হবে। অডিটের ভার থাকেব রাজ্য সরকারের আধিকারিকদের ওপর।
কোনও সম্পত্তি এখন থেকে ওয়াকফ বলে ঘোষণা করা যাবে না। তার আইনি পর্যালোচনা হবে। যার নিরয়ন্ত্রণ থাকবে সরকারের হাতে।
ওয়াকফ বিলের ময়নাতদন্ত

