উচ্চ শিক্ষিতরা অপরাধে জড়িয়ে পড়ায় উদ্বেগ পুলিশের

পীযুষ চক্রবর্তী,

বেকারত্বের জ্বালা বড়ই জ্বালা। সেই জ্বালা মেটাতে উচ্চশিক্ষিত ব্যক্তিও যে অপরাধে জড়িয়ে পড়ে তা একাধিকবার উঠে এসেছে খবরের তালিকায়।ব্যতিক্রম নয় কলকাতাও। সোমবার শিয়ালদহ চত্বর থেকে উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা পাঁচ দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করেছে কলকাতা পুলিশ। আগ্নেয়াস্ত্র সহ গ্রেফতার হওয়া ওই দুষ্কৃতীরাও উচ্চশিক্ষিত। প্রাথমিক জেরার পর তারা পুলিশকে তারা জানিয়েছে, কেউ ইঞ্জিনিয়ারিং এ স্নাতক, কারও এম.কম ডিগ্রী রয়েছে। এছাড়াও কেউ বিজ্ঞান বিভাগে এবং কলা বিভাগে স্নাতক, আইটিআই ডিগ্রিধারীও রয়েছে। ধৃতেরা পুলিশকে জানিয়েছে, বেকারত্বের জ্বালায় তারা অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পড়েছে।

অবশ্য বেকারত্ব নাকি টাকার নেশাতেই তারা এই কাজ করছে তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ সোমবার শিয়ালদহের সুরেন্দ্রনাথ উইমেন’স কলেজের সামনে থেকে আগ্নেয়াস্ত্র সহ পাঁচ দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয় একটি আধা স্বয়ংক্রিয় সেভেন এমএম পিস্তল সহ দুটি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১৫ রাউন্ড কার্তুজ। যার মধ্যে একটি আগ্নেয়াস্ত্র ইতালির তৈরি। উত্তরপ্রদেশের বাসিন্দা ওই পাঁচজন দুষ্কৃতীর নাম শিবশঙ্কর যাদব, আদিত্য মৌর্য, রাহুল যাদব, দেবাঙ্ক গুপ্ত ও রুকেশ সাহানি। রুকেশ এই চক্রের মাথা বলে পুলিশ জানিয়েছে। এই পাঁচজনই উচ্চশিক্ষিত বলে পুলিশ জানিয়েছে।

ধৃতরা পুলিশকে জানিয়েছে, শিয়ালদহের বৈঠকখানার একটি লজ ভাড়া নিয়ে সেখানে তারা থাকছিল। দুদিন আগেই কলকাতায় এসেছে। কলকাতায় কাউকে খুনের উদ্দেশ্যে তারা এসেছিল কিনা তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই কলকাতা পুলিশের তরফে উত্তরপ্রদেশ পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। কারণ এর আগে একাধিক অপরাধের ক্ষেত্রে ভিন রাজ্যের দুষ্কৃতীদের যোগ পাওয়া গিয়েছে।

মঙ্গলবার এনিয়ে কলকাতা পুলিশের নগরপাল মনোজ ভার্মা ও যুগ্ম কমিশনার (অপরাধ) রূপেশ কুমার সাংবাদিক সম্মেলন করেন। রূপেশ জানান, কিছুদিন আগে এসটিএফের কাছে একটি তথ্য আসে। জানা যায়, উত্তরপ্রদেশ থেকে সন্দেহজনক টিম কলকাতায় এসে রয়েছে কোনও বড় অপরাধ সংগঠিত করার জন্য। সূত্র মারফত খবর পেয়ে সক্রিয় হয় এসটিএফ। তদন্ত টিমে ছিলেন টেকনিক্যাল অ্যানালেসিস টিমের কয়েকজন সদস্যও। সূত্র মারফত খবর পেয়ে সোমবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা নাগাদ বৈঠকখানা থেকে পাঁচ জনকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তাদের কথায় অসঙ্গতি ধরা পড়ায় তল্লাশির সময়, একটি সেমি অটোমেটিক সিঙ্গল শর্টার, নাইন এমএম পিস্তল উদ্ধার হয়। তাদের কাছে কোনও বৈধ কাগজপত্রও ছিল না।