দর্শনের নতুন দিগন্ত নিয়ে গবেষণাধর্মী পুস্তক প্রকাশ কলকাতায়

বঙ্গবার্তা ব্যুরো,

আজকের প্রযুক্তি নির্ভর ও মতামত ভিত্তিক জগতে জ্ঞান কেবলমাত্র কোনো একজন ব্যক্তির চেতনার উৎস নয়। জ্ঞানের পরিধি তৈরি হয় সামাজিক অবস্থা, প্রযুক্তির ব্যাবহার, নানা সামাজিক গোষ্ঠী, প্রতিষ্ঠান ও মাধ্যমের প্রভাবে। প্রযুক্তি নির্ভর জ্ঞানের সেই ব্যাক্তিগত বোধগম্যতা ও তার সামাজিক প্রভাব নিয়ে একটি বই প্রকাশ করলেন স্কটিশ চার্চ কলেজের দর্শনের অধ্যাপক ড. ভার্বি রায়।

Extended Knowledge & Social Epistemology নামে ইংরেজি ভাষায় লেখা এই গবেষণাধর্মী দার্শনের বইয়ে তিনি তুলে ধরেছেন কিভাবে আমাদের জ্ঞান বা জানার পরিধি ক্রমশ ব্যক্তির অভিজ্ঞতা, সংস্কৃতি, ধর্ম, পরিবার, সম্প্রদায়, মিডিয়া ও সমাজের মতামত ও বিশ্বাসের দ্বারা প্রভাবিত হয়।


ভক্তিবেদান্ত রিসার্চ সেন্টারের সহযোগিতায় বইটির প্রকাশ করেন স্কটিশ চার্চ কলেজের অধ্যক্ষা মধুমঞ্জুরি মন্ডল।
লেখক ভার্বি রায় বলেন, সামাজিক জ্ঞানতত্ত্ব, আধুনিক জ্ঞানতত্ত্বের এক বিশেষ দিক হয়ে উঠেছে, এবং কীভাবে জ্ঞান কেবল ব্যক্তির মানসিক অনুধাবন নয় বরং একটি সামাজিক নির্মাণ সেটাই তুলে ধরা হয়েছে এখানে। দর্শনের শিক্ষার্থী ও গবেষকদের কাছে বইটি বিশেষভাবে উপযোগী।


বইটিতে তুলে ধরা হয়েছে জ্ঞান কীভাবে শুধু ব্যক্তি নয়, সমাজ প্রতিষ্ঠান, প্রযুক্তি ও গোষ্ঠীগত আচরণের মাধ্যমে গড়ে ওঠে। বর্তমান তথ্য প্রযুক্তির যুগে সত্য ও অসত্যের ব্যবধান নির্ধারণে সমাজের ভূমিকা কী এবং আধুনিক দুনিয়ায় তথ্যপ্রযুক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কীভাবে প্রসারিত জ্ঞানের ভিত্তি তৈরি করে তার সঠীক ব্যাখ্যা করা হয়েছে ।
ঐতিহ্যবাহী এই স্কটিশ চার্চ কলেজেই পড়াশোনা করেছেন নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, স্বামী বিবেকানন্দ ও এ.সি. ভক্তিবেদান্ত স্বামী প্রভুপাদের মতো খ্যাতনামা দার্শনিকেরা। প্রতিষ্ঠানের গৌরবময় বিদ্যাচর্চার ধারায় ড. রায়ের গবেষণা নতুন মাত্রা যোগ করল বলে জানিয়েছেন কলেজের অধ্যক্ষা মধুমঞ্জুরি মন্ডল।


ভক্তিবেদান্ত রিসার্চ সেন্টারের একাডেমিক ডিন সুমন্ত রুদ্র বলেন, জ্ঞান যে কেবল ব্যক্তিগত নয়, বরং একটি সামষ্টিক সামাজিক বাস্তবতা এই উপলব্ধির মাধ্যমে দর্শনের নতুন আলোচনার পথ খুলে দিয়েছে এই পুস্তক।