ভুতুড়ে কার্ড হয়েছে, ঠিকানা পাওয়া যাচ্ছে না নাকাল পোস্ট অফিস

বঙ্গবার্তা ব্যুরো,

অস্তিত্বই নেই, অথচ অস্তিত্বহীন ভোটারের নামে ছাপা হয়েছে ভোটার কার্ড। এই বিপুল সংখ্যায় হদিশহীন ভোটার কার্ড মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে নির্বাচন কমিশনের।

শুধুমাত্র উত্তর ২৪ পরগনা জেলার রাজারহাট গোপালপুর বিধানসভা কেন্দ্রেই এ ধরনের ৩০০ জন অস্তিত্বহীন ভোটারের সন্ধান মিলেছে, যাঁদের ভোটার কার্ড পোস্ট অফিসের মাধ্যমে নির্দিষ্ট ঠিকানায় পাঠানো হলেও তা নো রিপ্লাই হয়ে জেলা প্রশাসনের কাছে ফেরত গেছে। এটি শুধুমাত্র একটি বিধানসভা কেন্দ্রের উদাহরণ। রাজ্যের ২৯৪ টি বিধানসভা কেন্দ্রের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা যে আরো অনেক বেশি তেমনটিই মনে করছে নির্বাচন কমিশন।

রাজ্যের সিইও দফতর সূত্রের খবর, গোটা রাজ্যে এই ধরনের পোস্ট অফিস ফেরত ভোটার কার্ডের সংখ্যা প্রায় দেড় লক্ষাধিক। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, আরও একবার নির্দিষ্ট ঠিকানায় সব ভোটার কার্ড পাঠিয়ে ওই ঠিকানায় ভোটারের অস্তিত্ব আছে কী না তা নিশ্চিত করতে বলা হয়েছে।

আগামী ২০ শে আগস্ট থেকে পর্যায়ক্রমে পড়ে থাকা ছাপা হওয়া ভোটার কার্ডগুলি সিইও অফিসে পাঠিয়ে দিতে বলা হয়েছে জেলাশাসকদের। মূলত, ভোটার তালিকায় নাম তোলার আবেদনের পর বৈধ ভোটারের হাতে ভোটার কার্ড পৌঁছে দিতে ১৫ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিতে চাইছে নির্বাচন কমিশন। এনিয়ে গত বুধবার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয় যেখানে ডাক ও তার বিভাগের পক্ষ থেকে বিভিন্ন আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন। সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন সরস্বতী প্রেসের আধিকারিকরাও। ওই বৈঠকেই ১৫ দিনের সময়সীমার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে বলে কমিশন সূত্রের খবর।

যার ফলে সময় লাগতো অনেক বেশি। এই দীর্ঘ প্রক্রিয়া কেবলমাত্র সময় সাপেক্ষই নয়, অনেক সময় সেই কার্ড ঠিকমতো ঠিক জায়গায় সরবরাহ করা হতো না বলেও বারবার অভিযোগ আসতো কমিশনের দফতরে।

দ্রুত ও সঠিক সময়ের মধ্যে ভোটারদের নতুন কার্ড পৌঁছে দেওয়াই লক্ষ্য কমিশনের। পাশাপাশি কলকাতা জিপিও এবং নিজেদের তথ্যভাণ্ডার থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে সিইও দফতরের সুবিধা হবে কোন বিধানসভায় নতুনভাবে নাম তোলা কত ভোটার কার্ড পেলেন আর কতজনের ‘নো রিপ্লাই’ হল। অর্থ্যাৎ, অস্তিত্বহীন ভোটারদের তথ্য পাওয়া আরও সহজ হবে।