কম টাকার রিচার্জ দ্রুত শেষ হওয়ার কারণ কী? দৈনিক ফিক্সড চার্জ, মিটার ফি ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব বুঝলে মিলবে উত্তর। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ—একবারেই ১৫ থেকে ৩০ দিনের রিচার্জ করুন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পিছনে মূল কারণ শুধু বিদ্যুৎ ব্যবহার নয়, বরং প্রতিদিন কেটে নেওয়া বিভিন্ন ফিক্সড চার্জ।
বঙ্গবার্তা নিউজ, কলকাতা,অবধেশ চৌধুরী:
রাজ্যের বিভিন্ন এলাকায় ধাপে ধাপে বসানো হচ্ছে ডিজিটাল প্রি-পেইড স্মার্ট মিটার। এই ব্যবস্থায় মোবাইল ফোনের মতো আগে থেকেই টাকা রিচার্জ করে বিদ্যুৎ ব্যবহার করতে হয়। ব্যালেন্স শেষ হয়ে গেলে বিদ্যুৎ সংযোগও বন্ধ হয়ে যায়। তবে স্মার্ট মিটার ব্যবহারকারীদের অনেকেরই অভিযোগ, ১০০ বা ২০০ টাকার রিচার্জ খুব অল্প সময়ের মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পিছনে মূল কারণ শুধু বিদ্যুৎ ব্যবহার নয়, বরং প্রতিদিন কেটে নেওয়া বিভিন্ন ফিক্সড চার্জ।
শুধু ইউনিটের বিল নয়, প্রতিদিন কাটা হয় নির্দিষ্ট চার্জ
স্মার্ট মিটারে রিচার্জের টাকা থেকে প্রতিদিন বিদ্যুতের ইউনিটের মূল্য ছাড়াও ফিক্সড চার্জ, বিদ্যুৎ শুল্ক, মিটার পরিষেবা ফি এবং অন্যান্য নির্ধারিত খরচ কেটে নেওয়া হয়। ফলে বিদ্যুৎ ব্যবহার কম হলেও এই চার্জ নিয়মিত প্রযোজ্য থাকে।
ফলে অনেকেই মনে করেন মিটার ভুল রিডিং দেখাচ্ছে। কিন্তু বাস্তবে রিচার্জ দ্রুত শেষ হওয়ার অন্যতম কারণ এই নির্দিষ্ট দৈনিক চার্জ।
১০০ টাকার বদলে ১,০০০ টাকার রিচার্জ কেন লাভজনক?
যদি কোনও পরিবারের দৈনিক বিদ্যুৎ খরচ ৩ থেকে ৪ ইউনিটের মধ্যে থাকে, তাহলে ১০০ টাকার রিচার্জ সাধারণত ২-৩ দিনের বেশি স্থায়ী হয় না।
অন্যদিকে, একই ব্যবহার ধরে ১,০০০ টাকার রিচার্জ করলে প্রায় এক মাস বা ৩০-৩২ দিন পর্যন্ত বিদ্যুৎ পরিষেবা পাওয়া সম্ভব। যদিও এসি, গিজার, হিটার বা অন্যান্য উচ্চ বিদ্যুৎ খরচের যন্ত্র ব্যবহার করলে এই সময় কিছুটা কমতে পারে।
বারবার রিচার্জের ঝামেলা থেকেও মিলবে মুক্তি
বিশেষজ্ঞদের মতে, বারবার কম টাকার রিচার্জ করার ফলে শুধু সময়ই নষ্ট হয় না, ব্যালেন্স শেষ হয়ে হঠাৎ বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে। তাই পরিবারের গড় বিদ্যুৎ ব্যবহারের হিসাব করে একবারে অন্তত ১৫ দিন বা ৩০ দিনের জন্য রিচার্জ করাই সবচেয়ে সুবিধাজনক।
এতে রিচার্জের ঝামেলা কমে, বিদ্যুৎ পরিষেবা নিয়ে নিশ্চিন্ত থাকা যায় এবং বারবার ব্যালেন্স পরীক্ষা করারও প্রয়োজন পড়ে না।

