২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৭-এ শেষ হবে বর্তমান মেয়াদ; নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে টাটা ট্রাস্টস ও টাটা সন্সের মধ্যে মতপার্থক্যের জল্পনা
Published by -Jyotirmay Dutta: Posted 12.08.2026 at 15:40 pm
বঙ্গবার্তা ওয়েব ডেস্কঃ
ছবি এ আই দ্বারা নির্মিত
ভারতের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী টাটায় ফের বড়সড় নেতৃত্ব পরিবর্তনের ইঙ্গিত। টাটা সন্সের চেয়ারম্যান এন চন্দ্রশেখরন জানিয়েছেন, তাঁর বর্তমান মেয়াদ শেষ হওয়ার পর তিনি আর পুনর্নিয়োগের জন্য নিজেকে প্রস্তাব করবেন না। তবে এখনই চেয়ারম্যানের পদ ছাড়ছেন না তিনি। আগামী ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত বর্তমান মেয়াদ অনুযায়ী টাটা সন্সের নেতৃত্বে থাকবেন চন্দ্রশেখরন।
চন্দ্রশেখরনের এই সিদ্ধান্তের পর টাটা গোষ্ঠীর পরবর্তী চেয়ারম্যান কে হবেন, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, টাটা সন্সের মতো বড় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি। তাই তাঁর উত্তরসূরি বেছে নেওয়ার প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করার জন্য বোর্ডকে অনুরোধ করেছেন তিনি।
নেতৃত্ব নিয়ে টাটা গোষ্ঠীতে মতপার্থক্যের জল্পনা

চন্দ্রশেখরনের পুনর্নিয়োগ নিয়ে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতেই টাটা সন্সের বোর্ডে আলোচনা হয়েছিল। সেই সিদ্ধান্ত তখন চূড়ান্ত হয়নি। বিভিন্ন রিপোর্টে টাটা ট্রাস্টসের চেয়ারম্যান নোয়েল টাটা এবং চন্দ্রশেখরনের মধ্যে গোষ্ঠীর ভবিষ্যৎ পরিচালনা, নতুন ব্যবসায় বিনিয়োগ এবং টাটা সন্সের সম্ভাব্য তালিকাভুক্তি-সহ একাধিক বিষয়ে মতপার্থক্যের কথা উঠে এসেছে। তবে এই বিষয়গুলির সবটাই প্রকাশ্যভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
সূত্রের দাবি, চন্দ্রশেখরনের তৃতীয় মেয়াদ নিয়ে টাটা ট্রাস্টসের সমর্থন থাকলেও টাটা সন্সের বোর্ডে সর্বসম্মতি তৈরি হয়নি। এরপর প্রায় ছয় মাস ধরে বিষয়টি অনিষ্পন্ন থাকার পরই চন্দ্রশেখরন পুনর্নিয়োগের দৌড় থেকে নিজেকে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বলে জানা যাচ্ছে।
চন্দ্রশেখরনের আমলে টাটার ব্যাপক সম্প্রসারণ
২০১৭ সালের জানুয়ারিতে টাটা সন্সের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন এন চন্দ্রশেখরন। এর আগে তিনি টাটা কনসালট্যান্সি সার্ভিসেস বা TCS-এর CEO এবং MD ছিলেন। তাঁর নেতৃত্বে টাটা গোষ্ঠী প্রযুক্তি, এয়ারলাইনস, ইলেকট্রনিক্স, সেমিকন্ডাক্টর, ব্যাটারি, ডিজিটাল ব্যবসা এবং প্রতিরক্ষা-সহ একাধিক নতুন ক্ষেত্রে বিনিয়োগ বাড়িয়েছে।
চন্দ্রশেখরনের নেতৃত্বের অন্যতম বড় সিদ্ধান্ত ছিল এয়ার ইন্ডিয়াকে টাটা গোষ্ঠীর হাতে ফিরিয়ে আনা। পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের ব্যবসায় টাটার উপস্থিতি বাড়ানোর ক্ষেত্রেও তাঁর সময়কালে একাধিক বড় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এখন তাঁর উত্তরসূরি নির্বাচনই টাটা সন্সের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। আগামী দিনে টাটা গোষ্ঠীর ব্যবসায়িক কৌশল, নতুন বিনিয়োগ এবং কর্পোরেট পরিচালনার ক্ষেত্রে এই নেতৃত্ব পরিবর্তনের কী প্রভাব পড়ে, সেদিকেই নজর থাকবে শিল্পমহলের।

