বঙ্গবার্তা নিউজ, কলকাতা:
Published by -Jyotirmay Dutta: Posted May 10.05.2026 at 14:00pm
জ্যোতির্ময় দত্ত : কলকাতা সোমবার রাজ্যের নব গঠিত বিজেপি সরকারের প্রথম মন্ত্রী সভার বৈঠক। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারি সহ ব্রিগেডে শপথ নেওয়া ছয় মন্ত্রী বৈঠকে যোগ দেবেন। রাজ্যে প্রথম বিজেপি সরকারের প্রথম ক্যাবিনেট কি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন তা নিয়ে রয়েছে যথেষ্ট আগ্রহ। সূত্রের খবর রাজ্যে তৃণমূল জমানায় কেন্দ্রের চালু করা আয়ুস্মান ভারত প্রকল্পকে এই রাজ্যে লাগু করার সিদ্ধান্তেই প্রথমে সিলমোহর দেবেন পারে শুভেন্দু অধিকারির নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভা।
আগের সরকার, রাজ্যে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প চালু থাকায় প্রধানমন্ত্রীর নরেন্দ্র মোদীর আয়ুষ্মান প্রকল্পের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার সেই নবান্ন থেকেই মোদির ‘ড্রিম প্রজেক্ট’ পরিবর্তনের বাংলায় বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার দিতে চান বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী।
দ্বিতীয় বিষয়টি অবশ্যই রাজ্য সরকারি কর্মচারিদের জন্য শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সম্পন্ন করার উপহার হিসেবে সপ্তম পে কমিশন বাস্তবায়ন। এবারের নির্বাচনে রাজ্যজুড়ে বিপুলভাবে প্রচারিত ‘মোদি গ্যারান্টি’র অন্যতম হল সরকারি কর্মীদের ডিএ এবং পে কমিশন বঞ্চনার বিরুদ্ধে সপ্তম পে কমিশন বাস্তবায়নের ঘোষণা। ক্ষমতা দখল করে ‘মোদি গ্যারান্টি’র এই অন্যতম ঘোষণার দ্রুত বাস্তবায়ন করতে চান শুভেন্দু অধিকারী। একইসঙ্গে লক্ষীর ভাণ্ডারের মোকাবিলায় ঘোষিত অন্নপূর্ণা ভাণ্ডার প্রকল্পে ভাতার পরিমাণ বাড়িয়ে মাসিক ৩ হাজার টাকা করার সিদ্ধান্তেও সিলমোহর দিতে পারে প্রথম মন্ত্রিসভা।

উল্লেখযোগ্য, ২০১১ সালের ২১ মে পরিবর্তনের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের প্রথম মন্ত্রিসভা নির্বাচনী ঘোষণা অনুযায়ী সিঙ্গুরে ৪০০ একর জমি ফেরতের সিদ্ধান্তে প্রথম সিলমোহর দেয়। এবার মোদির গ্যারান্টিকেই অগ্রধিকার দিতে বদ্ধপরিকর শুভেন্দুর নেতৃত্বাধীন সরকার। তবে রাজ্যের সরকারি ভাঁড়ারের আর্থিক অবস্থা প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বড় অন্তরায় তা মানছেন সরকারি কর্তারাই। সঙ্কল্প পুরণ মূল লক্ষ্য হলেও অর্থের যোগান একটা বড় চ্যালেঞ্জ বলে ইতিমধ্যেই জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রীর মুখ্য উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্ত।
২০১১-য় বাম সরকারের বদলের সময় মোট ২ লক্ষ ৩ হাজার কোটি টাকার ঋণের বোঝা নিয়ে সরকারে বসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গত ১৫ বছরে সেই ঋণের ভাণ্ডার বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮ লক্ষ কোটি টাকা। এই বিপুল ঋণের বোঝা নিয়ে রাজ্যবাসীর বিপুল প্রত্যাশা পূরণে কতটা সফল হতে পারবেন শুভেন্দু আধিকারি সেদিকেই উন্মুখ রাজ্যের সর্বস্তরের মানুষ।

