হালিশহরে পুলিশি হেফাজতে তৃণমূল কর্মীর মৃত্যু, আইসি ক্লোজ ও আইও সাসপেন্ড; পরিবারের হাতে ₹১০ লক্ষ, স্ত্রীকে চাকরি ও সন্তানদের পড়াশোনার দায়িত্ব সরকারের
Published by -Jyotirmay Dutta: Posted 10.08.2026 at 13:44 pm
বঙ্গবার্তা নিউজ, কলকাতা,সর্নিকা দত্ত:
ছবি এ আই দ্বারা নির্মিত
হালিশহরে পুলিশি হেফাজতে তৃণমূল কর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় কড়া পদক্ষেপের কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার নিহতের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। নিহতের স্ত্রীর হাতে আর্থিক সাহায্য তুলে দেওয়ার পাশাপাশি তাঁর চাকরির ব্যবস্থাও করেন মুখ্যমন্ত্রী। একই সঙ্গে ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ঘোষণা করা হয়েছে।
‘হেফাজতে মৃত্যু দিনের আলোর মতো সত্য’
নিহতের পরিবারের সঙ্গে দেখা করার পর সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে পুলিশি হেফাজতে মৃত্যুর অভিযোগের বিষয়টি কার্যত স্বীকার করে নেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য, “যে পুলিশের লকআপে বা হেফাজতে মারা গেছে এটা তো দিনের আলোর মতো সত্য।”
ঘটনার তদন্তে ইতিমধ্যেই পদক্ষেপ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট থানার আইসিকে ক্লোজ করে পুলিশ লাইনে পাঠানো হচ্ছে এবং তদন্তকারী আধিকারিককে সাসপেন্ড করা হয়েছে।
ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ে তদন্তের নির্দেশ
ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের জন্য জেলা শাসকের নেতৃত্বে ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তিন চিকিৎসকের নেতৃত্বে ভিডিওগ্রাফির মাধ্যমে ময়নাতদন্ত করা হয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।
ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসার পর পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
নিহতের পরিবারের পাশে রাজ্য সরকার
নিহতের স্ত্রী তৃণমূল কংগ্রেসের স্থানীয় কাউন্সিলর। রাজনৈতিক পরিচয়কে গুরুত্ব না দিয়ে তাঁর পরিবারের পাশে সরকার দাঁড়িয়েছে বলে দাবি মুখ্যমন্ত্রীর।
মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে নিহতের স্ত্রীর হাতে ১০ লক্ষ টাকার চেক তুলে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রীর নিজের কোটায় তাঁকে অ্যাটেনডেন্ট পদে চাকরি দেওয়ার কথাও ঘোষণা করা হয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রথম ১২ মাস ওই পদে মাসে ১৫ হাজার টাকা করে বেতন দেওয়া হবে। এক বছর পর চাকরিটি গ্রুপ-ডি পদে স্থায়ী করার ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান তিনি।
দুই সন্তানের পড়াশোনার দায়িত্বও সরকারের
নিহতের দুই সন্তানের ভবিষ্যতের কথাও ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁদের নামে টাকা গচ্ছিত রেখে পড়াশোনার সম্পূর্ণ দায়িত্ব নেওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, রাজনৈতিক পরিচয় না দেখে একটি পরিবারের পাশে দাঁড়ানোই সরকারের দায়িত্ব। নিহতের পরিবার বর্তমান সরকার ও পুলিশ প্রশাসনের উপর আস্থা রেখেছে—এটিকেও তিনি সরকারের বড় প্রাপ্তি বলে উল্লেখ করেন।
মমতাকে নিশানা শুভেন্দুর
ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও নিশানা করেন শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর বক্তব্য, একজন মুখ্যমন্ত্রী শুধুমাত্র একটি রাজনৈতিক দলের নয়, গোটা রাজ্যের মানুষের দায়িত্বে থাকেন।
মমতাকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, “একটা মুখ্যমন্ত্রীর শুধু দলের নয়, রাজ্যের—এটা আপনাকে আমি বুঝিয়ে দিয়ে গেলাম, শিখিয়ে দিয়ে গেলাম। যেটা আপনি করতে পারেননি, সেটা শুভেন্দু অধিকারী করার চেষ্টা করল।”
হালিশহরের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশি হেফাজতে মৃত্যুর তদন্ত, পুলিশ আধিকারিকদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ এবং নিহতের পরিবারের জন্য সরকারের ঘোষিত সাহায্য—সব মিলিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে।

