প্রথম ৩–৫ দিন বাড়তি নজরদারি, বিপদসংকেত দেখলেই দ্রুত চিকিৎসা; জ্বর কমার পরও রোগীকে পর্যবেক্ষণে রাখার পরামর্শ
Published by -Jyotirmay Dutta: Posted 07.10.2026 at 17:37 pm
বঙ্গবার্তা নিউজ, কলকাতা,মৃণাল কান্তি সরকার:
ছবি এ আই দ্বারা নির্মিত এবং নিজস্ব
রাজ্যে ফের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ডেঙ্গু। ক্রমশ ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে আক্রান্তের সংখ্যা। ইতিমধ্যেই রাজ্যে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ৯ হাজারের কাছাকাছি পৌঁছেছে বলে স্বাস্থ্য দফতর সূত্রে খবর। প্রতিদিনই নতুন করে দেড়শোর বেশি আক্রান্তের সন্ধান মিলছে। আক্রান্তের নিরিখে মুর্শিদাবাদ শীর্ষে। এরপরেই রয়েছে কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হুগলি-সহ একাধিক জেলা।

এই পরিস্থিতিতে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য নতুন নির্দেশিকা জারি করেছে স্বাস্থ্যভবন। বিশেষ করে ডেঙ্গুর প্রথম কয়েক দিন এবং জ্বর কমে যাওয়ার পরের সময়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্যভবনের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, ডেঙ্গু জ্বরের প্রথম তিন থেকে পাঁচ দিন রোগীকে নিয়মিত পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে। প্রস্রাবের পরিমাণ, ঘুমের ধরন, খিঁচুনি কিংবা শারীরিক অবস্থার অন্য কোনও পরিবর্তন হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে নজর রাখতে হবে।
একই সঙ্গে রোগীর পরিবারের সদস্যদেরও ডেঙ্গুর ‘বিপদসংকেত’ সম্পর্কে সচেতন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পেটে তীব্র ব্যথা, বারবার বমি, অতিরিক্ত দুর্বলতা, খিঁচুনি, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া কিংবা শরীরের কোনও অংশ থেকে রক্তপাতের মতো উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. কাজল কৃষ্ণ বণিকের মতে, ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে অনেক সময় জ্বর কমে যাওয়ার পরেই ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায় শুরু হতে পারে। তাই জ্বর সেরে গেলেই রোগী সম্পূর্ণ বিপদমুক্ত—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। জ্বর কমার পরও প্রয়োজন অনুযায়ী রোগীকে পর্যবেক্ষণে রাখা জরুরি।
ডেঙ্গু পরীক্ষাতেও বিশেষ নজর
ডেঙ্গু পরীক্ষার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্যভবন। জ্বরের প্রথম পাঁচ দিনের মধ্যে রোগ নির্ণয়ের জন্য NS1 Antigen ELISA পরীক্ষার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাঁচ দিন পেরিয়ে গেলে IgM পরীক্ষা করার কথা বলা হয়েছে।
শুধু দ্রুত ফল পাওয়া কিট পরীক্ষার উপর নির্ভর না করে প্রয়োজন অনুযায়ী নির্ভরযোগ্য পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ নির্ণয়ের উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

১০ দিনের বেশি জ্বর হলে অন্য সংক্রমণের খোঁজ
নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, কোনও রোগীর জ্বর যদি ১০ দিনের বেশি স্থায়ী হয়, তাহলে শুধু ডেঙ্গু ধরে নিয়ে চিকিৎসা না করে অন্য সংক্রমণের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখতে হবে। বিশেষ করে লেপ্টোস্পাইরোসিস এবং স্ক্রাব টাইফাসের মতো রোগের বিষয়টি বিবেচনায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের ক্ষেত্রে হাসপাতাল-জনিত সংক্রমণের সম্ভাবনাও চিকিৎসকদের বিবেচনা করতে বলা হয়েছে।
প্লেটলেট নিয়ে অযথা আতঙ্ক নয়
ডেঙ্গু আক্রান্ত হলেই প্লেটলেট দেওয়ার প্রয়োজন হয়—এমন ধারণা থেকেও সাধারণ মানুষকে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। আন্তর্জাতিক চিকিৎসা-নির্দেশিকার উল্লেখ করে বলা হয়েছে, শুধুমাত্র প্লেটলেটের সংখ্যা কমেছে বলেই সব ক্ষেত্রে প্লেটলেট দেওয়ার প্রয়োজন নেই। রোগীর সামগ্রিক শারীরিক অবস্থা এবং রক্তপাতের মতো উপসর্গ বিবেচনা করেই চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেওয়া জরুরি।

বাড়িতেও বাড়তি সতর্কতা
ডেঙ্গু মোকাবিলায় চিকিৎসার পাশাপাশি প্রতিরোধের উপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। বাড়ির আশপাশে কোথাও জল জমতে না দেওয়া, দিনের বেলাতেও মশার কামড় এড়াতে সতর্ক থাকা এবং প্রয়োজনে ফুলহাতা পোশাক পরার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষ করে শিশু, গর্ভবতী মহিলা এবং বয়স্কদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। স্বাস্থ্য দফতরের বার্তা, ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে জ্বর কমে গেলেই নিশ্চিন্ত না হয়ে রোগীর শারীরিক অবস্থার উপর নজর রাখাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

