সংরক্ষণে General আসনে কাটছাঁট নয়, অতিরিক্ত আসন তৈরির নির্দেশ ছিল সরকারের

২০১৪ সালের নির্দেশিকায় স্পষ্ট বার্তা—SC, ST-সহ সংরক্ষিত আসন বাড়াতে গিয়ে সাধারণ শ্রেণির পুরনো আসন কমানো যাবে না, প্রয়োজনে বাড়াতে হবে মোট আসন

Published by -Jyotirmay Dutta: Posted 06.10.2026 at 20:27 pm

বঙ্গবার্তা নিউজ, কলকাতা,মৃণাল কান্তি সরকার:

ছবি এ আই দ্বারা নির্মিত

সংরক্ষণ কার্যকর করার নামে সাধারণ শ্রেণির আসন কমানো নয়, বরং প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত আসন তৈরি করেই সংরক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে—পশ্চিমবঙ্গের উচ্চশিক্ষা ক্ষেত্রে এমনই নীতি নির্ধারণ করা হয়েছিল এক দশকেরও বেশি আগে।

২০১৩ সালের West Bengal State Higher Educational Institutions (Reservation in Admission) Rules-এ ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে রাজ্যের বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি কলেজ এবং সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে সংরক্ষণ কার্যকর করার কথা বলা হয়েছিল। সেই বিধিতে স্পষ্ট করে বলা হয়, সংরক্ষিত শ্রেণির আসন তৈরি করতে গিয়ে আগে থেকে থাকা Unreserved বা General Category-র আসন কোনওভাবেই কমানো যাবে না।

General আসন কমানো যাবে না

সরকারি বিধির উদাহরণেও বিষয়টি স্পষ্ট করা হয়েছিল। কোনও কোর্সে আগে ৩০টি আসন থাকলে এবং তার মধ্যে ২১টি আসন সাধারণ শ্রেণির জন্য থাকলে, সংরক্ষণ কার্যকর করার সময় সেই ২১টি Unreserved আসন কমানো যাবে না। বরং সংরক্ষণের প্রয়োজন মেটাতে মোট আসন বাড়াতে হবে।

অর্থাৎ, SC, ST এবং পরবর্তী পর্যায়ে OBC-A ও OBC-B-র জন্য নির্দিষ্ট সংরক্ষিত আসন তৈরি করতে গিয়ে সাধারণ শ্রেণির বিদ্যমান আসনে কোপ দেওয়ার পরিবর্তে অতিরিক্ত আসন তৈরির পথই বেছে নেওয়ার কথা ছিল।

ধাপে ধাপে আসন বৃদ্ধির পরিকল্পনা

শুধু আসন বাড়ানোর নির্দেশই নয়, কতটা আসন বাড়ানো হবে তার জন্য প্রতিটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে year-wise target নির্ধারণের কথাও বলা হয়েছিল। বিধি অনুযায়ী, ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ছয় বছরের মধ্যে প্রয়োজনীয় অতিরিক্ত আসন বৃদ্ধির প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করার পরিকল্পনা নেওয়ার কথা ছিল।

এর পাশাপাশি অতিরিক্ত আসনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো, শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মী, শ্রেণিকক্ষ, ল্যাবরেটরি, লাইব্রেরি-সহ বিভিন্ন সুবিধা বাড়ানোর কথাও বলা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের Detailed Project Report বা DPR-এ সেই পরিকল্পনার উল্লেখ থাকার কথা ছিল।

বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ—সব ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য

এই সংরক্ষণ বিধির আওতায় রাজ্যের আইন দ্বারা প্রতিষ্ঠিত ও সরকারি অর্থে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে সাহায্যপ্রাপ্ত বিশ্ববিদ্যালয়, সরকারি কলেজ এবং রাজ্য সরকারের সাহায্যপ্রাপ্ত অন্যান্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে রাখা হয়েছিল।

ফলে সংরক্ষণের হিসাব মেলাতে গিয়ে সাধারণ শ্রেণির আসন কমিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে মোট আসন বৃদ্ধির মাধ্যমেই ভারসাম্য তৈরির নীতি গ্রহণ করা হয়েছিল।

এক দশক পর সামনে পুরনো নীতি, উঠছে প্রশ্ন

এই পুরনো সরকারি বিধি ও নির্দেশিকা ফের সামনে আসায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে—তখনকার নির্দেশ বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়েছিল? কোন কোন বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজে সংরক্ষিত আসন তৈরির জন্য অতিরিক্ত আসন বাড়ানো হয়েছিল? কোথাও কি সাধারণ শ্রেণির আসন কমিয়ে সংরক্ষণের হিসাব মেলানো হয়েছিল?

সরকারি নথিতে যে নীতির কথা বলা হয়েছিল, তার মূল বক্তব্য ছিল স্পষ্ট—সংরক্ষিত শ্রেণির জন্য আসন বাড়াতে গিয়ে বিদ্যমান Unreserved বা General Category-র আসন কমানো যাবে না। প্রয়োজন হলে মোট আসন বাড়াতে হবে।

তাই এক দশকেরও বেশি পুরনো সেই বিধান বর্তমানে ফের আলোচনায় আসায় সংরক্ষণ নীতি, আসন বিন্যাস এবং তার বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *