কর্মী-আধিকারিকদের সম্মানিক থেকে জনগণনা সংক্রান্ত প্রশাসনিক কাজ—একাধিক খাতে খরচ হবে বরাদ্দের অর্থ, কাজ শেষে দিতে হবে হিসাব
Published by -Jyotirmay Dutta: Posted 06.10.2026 at 18:27 pm
বঙ্গবার্তা নিউজ, কলকাতা,মৃণাল কান্তি সরকার:
ছবি এ আই দ্বারা নির্মিত
দেশজুড়ে আসন্ন জনগণনা ২০২৭-এর প্রস্তুতি শুরু হয়েছে পশ্চিমবঙ্গেও। সেই প্রস্তুতিকে সামনে রেখে রাজ্যের ২২টি জেলা এবং ৭টি পুরনিগমের জন্য মোট ১৯৭ কোটি ২০ লক্ষ ৮ হাজার টাকা বরাদ্দ করল রাজ্য সরকার। জনগণনা সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে যুক্ত কর্মী ও আধিকারিকদের সম্মানিক-সহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক খরচ মেটাতেই এই অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ সরকারের স্বরাষ্ট্র ও পার্বত্য বিষয়ক দফতরের অধীন Census Cell থেকেই এই সংক্রান্ত নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের Census Cell জনগণনা ও নাগরিক নথিভুক্তি সংক্রান্ত বিষয়গুলির সঙ্গে যুক্ত প্রশাসনিক কাজের সমন্বয় করে।
সরকারি নির্দেশ অনুযায়ী, জনগণনা ২০২৭-এর কাজে যুক্ত বিভিন্ন কর্মী ও আধিকারিককে সম্মানিক দেওয়ার পাশাপাশি অনুমোদিত খাতে জনগণনা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনার জন্যও এই অর্থ ব্যবহার করা যাবে। বরাদ্দটি এককালীন বা non-recurring grant হিসেবে দেওয়া হয়েছে।
ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে পৌঁছবে টাকা
বরাদ্দের অর্থ সংশ্লিষ্ট জেলার প্রধান জনগণনা আধিকারিক এবং পুরনিগমগুলির নির্দিষ্ট ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ইলেকট্রনিক পদ্ধতিতে পাঠানো হবে। সরকারি আর্থিক বিধি মেনেই সেই অর্থ খরচ করতে হবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শুধু অর্থ বরাদ্দ করেই দায়িত্ব শেষ নয়। জনগণনা ২০২৭-এর কাজ সম্পূর্ণ হওয়ার পরে কোন খাতে কত টাকা খরচ হয়েছে, তার হিসাব-সহ Utilisation Certificate জমা দিতে হবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।
অব্যবহৃত টাকা ফেরত, সুদও রাখা যাবে না
সরকারি নির্দেশিকায় অর্থ ব্যবহারের ক্ষেত্রে আর্থিক ও ট্রেজারি সংক্রান্ত সমস্ত নিয়ম মেনে চলার উপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি জনগণনা নিয়ে কেন্দ্রের Registrar General of India-এর দফতর থেকে জারি করা নির্দেশিকা ও সার্কুলারও অনুসরণ করতে হবে।
কাজ শেষ হওয়ার পর বরাদ্দের কোনও অংশ অব্যবহৃত থাকলে সেই অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত দিতে হবে। শুধু তাই নয়, বরাদ্দের টাকা থেকে কোনও সুদ বা অন্য কোনও আয় হলে সেটিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিজেদের কাছে রাখতে পারবে না। হিসাব চূড়ান্ত হওয়ার পরে সেই অর্থও Consolidated Fund-এ জমা দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে।
৭ পুরনিগমও রয়েছে বরাদ্দের আওতায়
রাজ্যের সরকারি তালিকা অনুযায়ী বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে ৭টি পুরনিগম রয়েছে—আসানসোল, বিধাননগর, চন্দননগর, দুর্গাপুর, হাওড়া, কলকাতা এবং শিলিগুড়ি।
ফলে জনগণনা ২০২৭-এর প্রস্তুতিতে জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি পুরনিগমগুলিও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছে। বিভিন্ন স্তরের কর্মী ও আধিকারিকদের মাধ্যমে জনগণনা সংক্রান্ত কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে প্রশাসনিক স্তরে।
প্রশাসনিক প্রস্তুতিতে গতি
দেশের পরবর্তী জনগণনা ঘিরে ইতিমধ্যেই কেন্দ্র ও রাজ্য স্তরে প্রশাসনিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গেও অর্থ বরাদ্দকে সেই প্রস্তুতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কর্মী-আধিকারিকদের সম্মানিক, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কাজ এবং নির্দিষ্ট জনগণনা কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে এই অর্থ ব্যবহার করা হবে।
সব মিলিয়ে, জনগণনা ২০২৭-এর আগে বাংলায় প্রশাসনিক প্রস্তুতিতে গতি আনতেই এই বিপুল অর্থ বরাদ্দ বলে মনে করা হচ্ছে।

