ভুয়ো চিকিৎসক কাণ্ডে কড়া পদক্ষেপ স্বাস্থ্য দফতরের, বরখাস্ত দুই চিকিৎসক

জাল মেডিক্যাল রেজিস্ট্রেশনের অভিযোগ, বিহার কাউন্সিলের রিপোর্টে নথি ভুয়ো প্রমাণিত; হাজিরার নির্দেশেও সাড়া না দেওয়ার অভিযোগ

Published by -Jyotirmay Dutta: Posted 25.09.2026 at 12:15 pm

বঙ্গবার্তা নিউজ, কলকাতা,মৃণাল কান্তি সরকার:

ছবি এ আই দ্বারা নির্মিত এবং নিজস্ব

সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় ভুয়ো মেডিক্যাল রেজিস্ট্রেশনের অভিযোগে কড়া পদক্ষেপ করল রাজ্য স্বাস্থ্য দফতর। দক্ষিণ ২৪ পরগনার রাজপুর-সোনারপুর এলাকার সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবায় কর্মরত দুই চিকিৎসক—উত্তম মাইতি ও ইউনূস হাসানকে বরখাস্ত করা হয়েছে। অভিযোগ, ভুয়ো মেডিক্যাল রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত নথি ব্যবহার করে তাঁরা সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় চিকিৎসক হিসেবে কাজ করছিলেন।

ঘটনার সূত্রপাত অ্যাসোসিয়েশন অফ প্রাইভেট হাসপাতাল অ্যান্ড নার্সিংহোম (APHN)-এর অভিযোগ থেকে। সংশ্লিষ্ট দুই চিকিৎসকের শিক্ষাগত ও পেশাগত যোগ্যতার নথিতে অসঙ্গতি রয়েছে বলে অভিযোগ জানানো হয়। বিষয়টি পৌঁছয় পশ্চিমবঙ্গ মেডিক্যাল কাউন্সিলের কাছে। এরপর শুরু হয় নথিপত্র যাচাই।

তদন্তে জানা যায়, পশ্চিমবঙ্গ মেডিক্যাল কাউন্সিলে নাম নথিভুক্ত করার সময় দুই চিকিৎসক বিহার কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রেজিস্ট্রেশনের রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করেছিলেন। সেই নথির সত্যতা যাচাই করতে বিহার মেডিক্যাল কাউন্সিলের কাছে যোগাযোগ করা হয়।

গত ১১ সেপ্টেম্বর বিহার থেকে পাওয়া রিপোর্টে ওই রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত নথি ভুয়ো বলে জানানো হয় বলে প্রশাসনিক সূত্রের দাবি। এরপরই বিষয়টি আরও গুরুতর আকার নেয়। কারণ, ওই রেজিস্ট্রেশনের ভিত্তিতেই পশ্চিমবঙ্গে তাঁদের চিকিৎসক হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছিল বলে অভিযোগ।

তবে বরখাস্ত করার আগে দুই চিকিৎসককে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। ১৪ সেপ্টেম্বর দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলা স্বাস্থ্য দফতরের পক্ষ থেকে তাঁদের হাজির হয়ে প্রয়োজনীয় নথি পেশ করার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু স্বাস্থ্য দফতরের দাবি, নির্দেশ সত্ত্বেও তাঁরা হাজির হননি এবং অভিযোগের বিষয়ে কোনও ব্যাখ্যাও জমা দেননি।

বৃহস্পতিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের দফতর থেকে পৃথক বিজ্ঞপ্তি জারি করে দুই চিকিৎসককে বরখাস্তের কথা জানানো হয়েছে।এই ঘটনায় সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় নিয়োগের সময় নথি যাচাইয়ের প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কীভাবে ভুয়ো রেজিস্ট্রেশন ব্যবহার করে সরকারি স্বাস্থ্য পরিষেবায় চাকরি মিলল, নিয়োগের সময় কোন স্তরে যাচাইয়ের ঘাটতি ছিল এবং কতদিন ধরে তাঁরা চিকিৎসক হিসেবে কাজ করেছেন—এই প্রশ্নগুলির উত্তর খুঁজতে তদন্ত আরও এগোতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *