প্রথমবার একসঙ্গে বিধানসভায় প্রকাশিত ২৮টি ক্যাগ রিপোর্ট। অতীতে রিপোর্ট পেশ না হওয়াকে ‘বড় সাংবিধানিক ত্রুটি’ বলে দাবি অর্থমন্ত্রীর। রাজ্যের আর্থিক ঘাটতি ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে বিশেষ অধিবেশনের ইঙ্গিত।
Published by -Jyotirmay Dutta: Posted 25.07.2026 at 17:25 pm
বঙ্গবার্তা নিউজ, কলকাতা,সর্নিকা দত্ত
ছবি এ আই দ্বারা নির্মিত
রাজ্য সরকারের আর্থিক স্বচ্ছতা ও সাংবিধানিক জবাবদিহির পথে বড় পদক্ষেপ। শনিবার পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় একসঙ্গে মোট ২৮টি ক্যাগ (CAG) রিপোর্ট পেশ করলেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। এর আগে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, রাজ্য সরকারের তরফে প্রথমবার এতগুলি ক্যাগ রিপোর্ট একসঙ্গে বিধানসভায় প্রকাশ করা হবে।
প্রথমার্ধের অধিবেশনে ভারতের মহা হিসাব নিয়ামক ও নিরীক্ষকের (Comptroller and Auditor General – CAG) একাধিক রিপোর্ট বিধানসভার টেবিলে পেশ করেন অর্থমন্ত্রী। গত কয়েক বছর ধরে এই গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক নথিগুলি বিধানসভায় উপস্থাপন না হওয়াকে তিনি “বড় সাংবিধানিক ত্রুটি” বলে উল্লেখ করেন।
‘ক্যাগ রিপোর্ট পেশ করা সরকারের সাংবিধানিক দায়িত্ব’
স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, সংবিধান অনুযায়ী ক্যাগ রিপোর্ট বিধানসভায় পেশ করা প্রতিটি সরকারের বাধ্যতামূলক দায়িত্ব।
তিনি বলেন,
“কোনো জানা কিংবা অজানা কারণে গত কয়েক বছর ধরে এই ক্যাগ রিপোর্টগুলো বিধানসভায় পেশ করা হয়নি। এটা একটি বড় সাংবিধানিক ল্যাপস।”
অর্থমন্ত্রীর বক্তব্যে স্পষ্ট, ভবিষ্যতে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিয়মিতভাবে ক্যাগ রিপোর্ট প্রকাশে জোর দেবে বর্তমান সরকার।
কোন কোন বিষয়ে রয়েছে ক্যাগ রিপোর্ট?
এদিন পেশ হওয়া ২৮টি রিপোর্টে ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের বিভিন্ন আর্থিক বছরের নিরীক্ষা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
রিপোর্টগুলিতে উঠে এসেছে—
- পঞ্চায়েতি রাজ প্রতিষ্ঠানের আর্থিক নিরীক্ষা
- জনস্বাস্থ্য পরিকাঠামো ও স্বাস্থ্য পরিষেবা
- আদিবাসী এলাকায় জমি ব্যবস্থাপনা
- অঙ্গনওয়াড়ি ও আইসিডিএস পরিষেবা
- জলদূষণ প্রতিরোধে সরকারি পদক্ষেপ
- সমগ্র শিক্ষা অভিযান
- বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার আর্থিক নিরীক্ষা
- রাজ্যের অর্থ দফতরের একাধিক অডিট রিপোর্ট
‘৮ লক্ষ কোটি টাকার বেশি দেনার কারণ বুঝতে সাহায্য করবে রিপোর্ট’
রাজ্যের আর্থিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে অর্থমন্ত্রী দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান ৮ লক্ষ কোটি টাকার বেশি ঋণের বোঝা কেন তৈরি হয়েছে, তার অনেক উত্তর এই ক্যাগ রিপোর্টগুলিতে রয়েছে।
বিধায়কদের উদ্দেশে তিনি বলেন,
“এই রিপোর্টগুলো দেখলে আপনারা বুঝতে পারবেন কেন আজ পশ্চিমবঙ্গের ডেফিসিট ৮ লক্ষ কোটিরও বেশি।”
সরকারের কাজের ত্রুটি মানুষের সামনে তুলে ধরা প্রশাসনের দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ক্যাগ রিপোর্ট নিয়ে বিশেষ অধিবেশনের পরিকল্পনা
একসঙ্গে ২৮টি রিপোর্ট পেশ হওয়ায় বিষয়টি বিধায়কদের জন্য বড় দায়িত্ব বলেও উল্লেখ করেন অর্থমন্ত্রী।
তিনি জানান, রিপোর্টগুলির বিস্তারিত বিশ্লেষণ ও আলোচনা করতে ভবিষ্যতে বিধানসভার বিশেষ অধিবেশন ডাকার পরিকল্পনা রয়েছে।
অর্থমন্ত্রীর কথায়,
“এই ক্যাগ রিপোর্টগুলোর গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। তাই আমরা ভবিষ্যতে একটি বিশেষ অধিবেশন ডেকে বিস্তারিত আলোচনা করতে চাই।”
এর মাধ্যমে রাজ্যের আর্থিক ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং সাংবিধানিক জবাবদিহি নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

