নেপালে ভয়াবহ বন্যায় ধ্বংসযজ্ঞ, দিশেহারা আমেরিকাও! ট্রাম্পের বার্তা—‘টুথপিকের মতো ভেঙে পড়েছে ইমারত, আমরা সাহায্য করব’

ভয়াবহ ফ্ল্যাশ ফ্লাডে নেপালে মৃতের সংখ্যা ৪৬৮, নিখোঁজ হাজারের বেশি; বিপর্যয়ের সময় দেশে ছিলেন ৫০-৬০ জন মার্কিন নাগরিক, ট্রাম্পের সঙ্গে নেপালের নেতৃত্বের ফোনে কথা

Published by -Jyotirmay Dutta: Posted 28.08.2026 at 14:05 pm

বঙ্গবার্তা ওয়েব ডেস্কঃ

ছবি এ আই দ্বারা নির্মিত এবং সোশ্যাল মিডিয়া

প্রকৃতির ভয়াবহ রোষে কার্যত বিপর্যস্ত প্রতিবেশী নেপাল। আকস্মিক বন্যা ও প্রবল স্রোতে একের পর এক এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। ভেসে গিয়েছে ঘরবাড়ি, গাড়ি, সেতু ও রাস্তাঘাট। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নেপালের পরিস্থিতিকে ‘খুবই ভয়াবহ’ বলে উল্লেখ করে তিনি জানিয়েছেন, আমেরিকা নেপালকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সাহায্য করতে প্রস্তুত।

ট্রাম্প জানিয়েছেন, বিপর্যয়ের সময় নেপালে প্রায় ৫০-৬০ জন মার্কিন নাগরিক ছিলেন। তাঁদের সকলের সম্পূর্ণ তালিকা এখনও পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন তিনি। ফলে তাঁদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।

নেপালের পাশে থাকার বার্তা ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন, নেপালের নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর ফোনে কথা হয়েছে। সেখানে আমেরিকার তরফে সব ধরনের সাহায্যের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। নেপালের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্ক অত্যন্ত ভালো বলেও মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প।

ট্রাম্পের কথায়, পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ যে আগে কখনও এমন দৃশ্য দেখা যায়নি। তাঁর বর্ণনায়, শক্তপোক্ত ও ভালোভাবে তৈরি ইমারতও যেন ‘টুথপিকের মতো’ ভেঙে পড়েছে। এই ভয়াবহ বিপর্যয়ের পর নেপালকে সাহায্য পাঠানোর কথাও জানিয়েছেন তিনি।

মার্কিন নাগরিকদের প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, নেপালে থাকা আমেরিকানদের সম্পূর্ণ তালিকা এখনও তাঁদের হাতে আসেনি। তাঁরা নিরাপদে রয়েছেন বলে আশা করা হচ্ছে। তবে পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলেও জানান তিনি।

মৃত ৪৬৮, নিখোঁজ হাজারের বেশি

নেপালে ভয়াবহ ফ্ল্যাশ ফ্লাডে মৃতের সংখ্যা ইতিমধ্যেই ৪৬৮-তে পৌঁছেছে বলে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের তথ্য উদ্ধৃত করে জানানো হয়েছে। এখনও হাজারের বেশি মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন। ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

এখনও পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকা থেকে বহু দেহ উদ্ধার হয়েছে। চিতবন থেকে ১৭৮টি, নওয়ালপরাসি পূর্ব থেকে ১১০টি, ধাদিং থেকে ৩৩টি, গোরখা থেকে ৪৪টি, রাসুয়া থেকে ১২টি, নওয়ালপরাসি পশ্চিম থেকে ২৭টি, নুওয়াকোট থেকে ৩৭টি এবং তানাহুন থেকে ২৮টি দেহ উদ্ধার হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

অন্যদিকে, বিপর্যয়ের মধ্যে বহু মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। আহতদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে।

কীভাবে এত ভয়াবহ হল বন্যা?

নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের সূত্রপাত বলে জানা যাচ্ছে। গ্লেশিয়ার থেকে বিপুল পরিমাণ জল ও মাটি নেমে এসে ভয়াবহ স্রোতের সৃষ্টি করে। সেই জল ও ধ্বংসাবশেষ ভুটেকোশি ও ত্রিশূলী নদীতে পৌঁছনোর পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে।

অতি দ্রুত গতিতে জল ও কাদামাটির স্রোত নেমে আসায় বহু এলাকা কার্যত নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। স্থানীয়দের দাবি, জলের উচ্চতা কোনও কোনও এলাকায় প্রায় ৩০ ফুট পর্যন্ত উঠে গিয়েছিল।

ভেসে গেল সেতু, রাস্তা, হাইড্রোপাওয়ার প্রকল্প

প্রবল বন্যার ধাক্কায় নেপালের পরিকাঠামোরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এখনও পর্যন্ত ১৯টি সেতু, প্রায় ৪০ কিলোমিটার রাস্তা এবং ৯টি হাইড্রোপাওয়ার প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

জলের স্রোত এতটাই প্রবল ছিল যে মুহূর্তের মধ্যে গাড়ি, বাড়িঘর এবং অন্যান্য সম্পত্তি ভেসে যায়। বিভিন্ন জায়গায় এখনও ধ্বংসস্তূপের মধ্যে নিখোঁজদের সন্ধান চলছে।

সবচেয়ে মর্মান্তিক বিষয় হল, স্রোতের সঙ্গে ভেসে যাওয়া বহু মানুষের দেহ ঘটনাস্থল থেকে বহু দূরে উদ্ধার হচ্ছে। রাসুয়া এলাকার মানুষের দেহ প্রায় ১৫০ কিলোমিটার দূরে চিতবন এলাকায় উদ্ধার হওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে।

উদ্ধারকাজে জোর, বাড়ছে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ

ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর নেপালে উদ্ধার ও ত্রাণকাজ জোরদার করা হয়েছে। নিখোঁজদের সন্ধানে বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। একইসঙ্গে দুর্গতদের চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার কাজও চলছে।

নেপালের এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে ইতিমধ্যেই বিভিন্ন দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাহায্যের আশ্বাস সেই আন্তর্জাতিক সহায়তার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রকৃতির এই ভয়াবহ তাণ্ডবে নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকা কার্যত বিপর্যস্ত। মৃত ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কার মধ্যেই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল দ্রুত উদ্ধারকাজ শেষ করে দুর্গত মানুষদের নিরাপদ জায়গায় পৌঁছে দেওয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *