আধার, ভোটার কার্ড, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট ও ড্রাইভিং লাইসেন্স উদ্ধারের দাবি; সঙ্গে থাকা ভারতীয় বন্ধুকেও গ্রেফতার করেছে পুলিশ
Published by -Jyotirmay Dutta: Posted 24.08.2026 at 21:25 pm
বঙ্গবার্তা নিউজ, কলকাতা,মৃণাল কান্তি সরকার:
ছবি এ আই দ্বারা নির্মিত এবং নিজস্ব
নেপাল যাওয়ার পথে পানিট্যাঙ্কি অভিবাসন দফতর থেকে এক আফগান যুবককে গ্রেফতার করল পুলিশ। একই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছে তার এক ভারতীয় বন্ধুকেও। ধৃত আফগান যুবকের কাছ থেকে একাধিক জাল ভারতীয় নথি উদ্ধারের দাবি করেছে পুলিশ।
ধৃতের নাম আব্দুলা খান। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ভারতে থাকার সুযোগ নিয়ে টাকার বিনিময়ে সে জাল ভারতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করেছিল। তার বিরুদ্ধে ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিসের পক্ষ থেকে আগেই লুকআউট সার্কুলার নোটিশ জারি করা হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি।

পানিট্যাঙ্কিতে যাওয়ার পরই পুলিশের নজরে
পুলিশ সূত্রে খবর, নেপাল যাওয়ার উদ্দেশ্যে পানিট্যাঙ্কি অভিবাসন দফতরে পৌঁছয় আব্দুলা। সেখানেই নথিপত্র যাচাইয়ের সময় তার পরিচয় নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। এরপর তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন তদন্তকারীরা।
তল্লাশিতে তার কাছ থেকে ভারতীয় আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট সংক্রান্ত নথি এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স উদ্ধার হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
হাওড়ায় থাকত আফগান যুবক
তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, আব্দুলা খান দীর্ঘদিন ধরে হাওড়ার শিবপুর এলাকায় থাকত। তার সঙ্গে থাকত ভারতীয় নাগরিক শঙ্কর বনিক। শঙ্কর বিধাননগরের দত্তাবাদ এলাকার বাসিন্দা বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে।
জাল ভারতীয় নথি তৈরির ঘটনায় শঙ্করেরও ভূমিকা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। কীভাবে ওই নথি তৈরি করা হয়েছিল এবং এর পিছনে কোনও বড় চক্র রয়েছে কি না, সেই বিষয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে।
দু’জনকেই গ্রেফতার, আদালতে পেশ
আব্দুলাকে আটকের পর জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশি চালিয়ে একাধিক ভারতীয় নথি উদ্ধার করা হয়। এরপর ঘটনায় শঙ্কর বনিককেও গ্রেফতার করে পুলিশ।
ধৃত দু’জনের বিরুদ্ধে একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। সোমবার তাঁদের শিলিগুড়ি আদালতে পেশ করা হয়। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে খড়িবাড়ি থানার পুলিশ।

তদন্তকারীরা এখন মূলত জানতে চাইছেন, জাল নথিগুলি কোথা থেকে তৈরি করা হয়েছিল, এর সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না এবং ভারতে থাকার সময়ে আব্দুলার গতিবিধি ঠিক কী ছিল। পাশাপাশি নেপাল যাওয়ার উদ্দেশ্য নিয়েও তদন্ত চলছে।

