হরিতকী কেন আয়ুর্বেদে ‘অমৃত’ নামে পরিচিত? জানুন উপকারিতা ও সতর্কতা

কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে হজমের সমস্যা—আয়ুর্বেদে হরিতকীর রয়েছে দীর্ঘদিনের ব্যবহার, তবে সেবনে প্রয়োজন সতর্কতা

Published by -Jyotirmay Dutta: Posted 22.08.2026 at 10:35 pm

বঙ্গবার্তা ওয়েব ডেস্কঃ

ছবি এ আই দ্বারা নির্মিত এবং সোশ্যাল মিডিয়া

আয়ুর্বেদে হরিতকী বা হরড়কে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভেষজ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। প্রাচীন আয়ুর্বেদীয় গ্রন্থে এর নানা গুণের উল্লেখ রয়েছে। বহুদিন ধরেই হজমের সমস্যা, কোষ্ঠকাঠিন্য-সহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় হরিতকীর ব্যবহার হয়ে আসছে। এর বহুমুখী ব্যবহারের কারণেই আয়ুর্বেদে হরিতকীকে অনেক সময় ‘অমৃত’ বা ‘রসায়ন’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়।

হজমশক্তি ভালো রাখতে হরিতকী

হরিতকীর অন্যতম পরিচিত ব্যবহার হজমের ক্ষেত্রে। আয়ুর্বেদীয় চিকিৎসায় এটি গ্যাস, অজীর্ণতা, পেট ভার লাগা এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যায় ব্যবহৃত হয়ে থাকে। বিশেষ করে কোষ্ঠকাঠিন্যের ক্ষেত্রে হরিতকী অন্ত্রের গতিশীলতা স্বাভাবিক রাখতে সহায়ক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

তবে হরিতকীকে কোনও রোগের নিশ্চিত চিকিৎসা বা ‘সব রোগের ওষুধ’ হিসেবে দেখা ঠিক নয়। এর কার্যকারিতা নিয়ে আধুনিক বৈজ্ঞানিক গবেষণাও এখনও সীমিত।

কেন ‘অমৃত’ বলা হয়?

আয়ুর্বেদের ধারণা অনুযায়ী, শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে হরিতকীর ভূমিকা রয়েছে। প্রাচীন আয়ুর্বেদীয় মত অনুসারে, এটি শরীরের ত্রিদোষ—বাত, পিত্ত ও কফ—সাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।

এই বহুমুখী গুণের কারণেই হরিতকীকে আয়ুর্বেদে ‘রসায়ন’ হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। নিয়মিত ও সঠিক ব্যবহারে শরীরের সামগ্রিক সুস্থতা বজায় রাখতে এটি সহায়ক হতে পারে বলে আয়ুর্বেদীয় চিকিৎসাশাস্ত্রে মনে করা হয়।

ত্বক ও মুখের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও ব্যবহার

আয়ুর্বেদে হরিতকীর ব্যবহার শুধু হজমের সমস্যাতেই সীমাবদ্ধ নয়। মুখের স্বাস্থ্য, ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা এবং শরীরের সামগ্রিক সুস্থতার জন্যও এটি বিভিন্ন ভেষজ প্রস্তুতিতে ব্যবহার করা হয়।

অনেকেই হরিতকীকে শরীর ‘ডিটক্স’ করার উপাদান হিসেবে প্রচার করেন। তবে শরীর থেকে ‘বিষাক্ত পদার্থ’ দূর করার এই দাবিগুলিকে আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে গ্রহণ করা উচিত নয়।

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়?

আয়ুর্বেদে হরিতকীকে শরীরের শক্তি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখার সহায়ক ভেষজ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পরিবর্তনশীল আবহাওয়ায় সর্দি-কাশি বা গলার অস্বস্তির মতো সমস্যাতেও বিভিন্ন আয়ুর্বেদীয় প্রস্তুতিতে এর ব্যবহার দেখা যায়।

তবে হরিতকী সরাসরি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ‘বাড়িয়ে দেয়’ বা সর্দি-কাশি প্রতিরোধ করে—এমন দাবি করার আগে আরও শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক প্রমাণ প্রয়োজন।

হরিতকী খাওয়ার আগে সতর্কতা জরুরি

হরিতকী প্রাকৃতিক ভেষজ হলেও ইচ্ছেমতো বেশি পরিমাণে খাওয়া ঠিক নয়। অতিরিক্ত সেবনে ডায়রিয়া, পেটের অস্বস্তি বা দুর্বলতা দেখা দিতে পারে।

বিশেষ করে গর্ভবতী মহিলা, অত্যন্ত দুর্বল ব্যক্তি, দীর্ঘদিনের কোনও রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি কিংবা নিয়মিত ওষুধ সেবন করেন এমন কারও ক্ষেত্রে হরিতকী ব্যবহারের আগে চিকিৎসক বা যোগ্য আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

মনে রাখবেন: হরিতকী কোনও রোগের নির্দিষ্ট চিকিৎসার বিকল্প নয়। গুরুতর বা দীর্ঘস্থায়ী শারীরিক সমস্যা থাকলে শুধুমাত্র ভেষজের উপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *