বাবরি মসজিদ নির্মাণের হুঁশিয়ারি থেকে ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’—বিতর্কে থাকা হুমায়ুনের রাজনৈতিক যাত্রায় এবার ইতি টানার ঘোষণা
Published by -Jyotirmay Dutta: Posted 07.10.2026 at 17:17 pm
বঙ্গবার্তা নিউজ, কলকাতা, আভিজিত বসুঃ
ছবি এ আই দ্বারা নির্মিত এবং নিজস্ব
রাজনীতি থেকে অবসরের ঘোষণা করতেই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়লেন মুর্শিদাবাদের বহরমপুরের বিধায়ক হুমায়ুন কবীর। ক্যামেরার সামনে কথা বলতে গিয়ে চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি তিনি। তাঁর এই আবেগঘন মুহূর্ত ঘিরে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে একাধিকবার বিতর্কে জড়িয়েছেন হুমায়ুন কবীর। বিশেষ করে বাবরি মসজিদ নির্মাণ নিয়ে তাঁর একাধিক মন্তব্য জাতীয় রাজনীতিতেও আলোচনার কেন্দ্রে এসেছিল। মাথায় ইট নিয়ে মসজিদ নির্মাণের বার্তা দেওয়া থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে তাঁর আগ্রাসী রাজনৈতিক বক্তব্য সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছে।
নিজস্ব রাজনৈতিক সংগঠন ‘আম জনতা উন্নয়ন পার্টি’ গড়ার ঘোষণাও করেছিলেন তিনি। তাঁর দাবি ছিল, মানুষের উন্নয়নই তাঁর রাজনীতির মূল লক্ষ্য। তবে রাজনৈতিক পরিসরে তাঁর ভূমিকা নিয়ে যেমন আলোচনা হয়েছে, তেমনই বিতর্কও কম হয়নি।
এবার সেই হুমায়ুন কবীরই রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানালেন। নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন। তাঁর বক্তব্যে ফুটে ওঠে দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলা থেকে সরে যাওয়ার যন্ত্রণা ও হতাশার ছাপ।

রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং নির্বাচনী ফলাফল হুমায়ুন কবীরের এই সিদ্ধান্তের পিছনে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হতে পারে। যদিও ঠিক কী কারণে তিনি রাজনীতি ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা নিয়ে তাঁর বক্তব্যই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
অতীতে তাঁর একাধিক হুঙ্কার, রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে যে ছবি তৈরি হয়েছিল, বর্তমানের আবেগঘন দৃশ্য তার থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। ফলে তাঁর রাজনৈতিক জীবনের এই পর্বে আচমকা অবসরের ঘোষণা নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
বিশেষ করে মুর্শিদাবাদের মতো রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ জেলায় হুমায়ুন কবীরের দীর্ঘদিনের সক্রিয়তা বিবেচনায় তাঁর এই সিদ্ধান্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

তবে রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা করলেও তাঁর রাজনৈতিক অধ্যায় এখানেই শেষ কি না, নাকি ভবিষ্যতে নতুন কোনও রাজনৈতিক সমীকরণে তাঁকে দেখা যাবে—সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও স্পষ্ট নয়। সময়ই বলবে, হুমায়ুন কবীরের এই ঘোষণা সত্যিই তাঁর রাজনৈতিক জীবনের শেষ অধ্যায়, নাকি ফের কোনও নতুন রাজনৈতিক মঞ্চে তাঁকে দেখা যাবে।

