দুবাই থেকে তেল আভিভগামী FZ1073-এ সহ-পাইলটের সঙ্গে ককপিটে সংঘর্ষ; আহত ক্যাপ্টেনের ভূমিকা ও ক্রু-যাত্রীদের তৎপরতায় তাবুকে নিরাপদে অবতরণ বিমানটির
Published by -Jyotirmay Dutta: Posted 01.10.2026 at 15:57 pm
বঙ্গবার্তা ওয়েব ডেস্কঃ
ছবি এ আই দ্বারা নির্মিত এবং সোশ্যাল মিডিয়া
ভয়াবহ মুহূর্তে ভারতীয় ক্যাপ্টেনের সাহস
দুবাই থেকে ইসরায়েলের তেল আভিভের উদ্দেশে রওনা হয়েছিল ফ্লাইদুবাইয়ের FZ1073 বিমান। ৩০ সেপ্টেম্বর মাঝ আকাশে আচমকাই ককপিটে ঘটে যায় গুরুতর ঘটনা। দুই পাইলটের মধ্যে সংঘর্ষের জেরে বিমানের নিরাপত্তা নিয়ে বড় আশঙ্কা তৈরি হয়। ঘটনায় ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছার আহত হন। পরে বিমানটিকে সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করানো হয়। বিমান সংস্থা জানিয়েছে, যাত্রী ও ক্রুরা নিরাপদে ছিলেন।
প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, ওমানের নাগরিক সহ-পাইলট ককপিটে ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছারের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন এবং তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করার অভিযোগ রয়েছে। ঘটনার জেরে বিমানের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে চরম পরিস্থিতি তৈরি হয়। তদন্তকারী কর্তৃপক্ষ এখনও ককপিটে ঠিক কী ঘটেছিল, তার পূর্ণাঙ্গ তথ্য খতিয়ে দেখছে।

আহত হয়েও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গুরুতর আহত অবস্থাতেও ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছার ককপিটের দরজা খোলার ব্যবস্থা করেন। এরপর ক্রু ও যাত্রীরা ককপিটে ঢুকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাহায্য করেন। বিমানের নিয়ন্ত্রণও শেষ পর্যন্ত সুরক্ষিত করা হয়। পরে বিমানটি সৌদি আরবের তাবুকে জরুরি অবতরণ করে।
ফ্লাইট-ট্র্যাকিং তথ্য নিয়ে প্রকাশিত রিপোর্টে জানা যায়, ঘটনার সময় বিমানটির উচ্চতা দ্রুত কমে গিয়েছিল। একটি প্রতিবেদনে প্রায় ১৪ হাজার ফুট উচ্চতা অল্প সময়ের মধ্যে কমে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে ককপিটে ঘটনাটির সম্পূর্ণ ক্রম নিয়ে তদন্ত এখনও চলছে।
যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক
ঘটনার সময় বিমানের ভিতরে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। যাত্রীদের অনেকেই ভয় পেয়ে যান। পরে বিমানের নিরাপদ অবতরণের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে অবতরণের পর আহত ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছারকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ভারতীয় কূটনৈতিক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রকাশিত রিপোর্টে তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানানো হয়েছে।

কে এই ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছার?
স্মিত মচ্ছার একজন অভিজ্ঞ ভারতীয় কমার্শিয়াল পাইলট। তিনি এর আগে দীর্ঘ সময় স্পাইসজেট-এ কাজ করেছেন। সেখানে তিনি সিনিয়র কমান্ডার এবং পরে লাইন ট্রেনিং ক্যাপ্টেন হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ২০২২ সালে তিনি ফ্লাইদুবাইয়ে যোগ দেন। তাঁর পেশাগত প্রোফাইলে বোয়িং ৭৩৭ পরিবারের বিমানে প্রায় ৯,৭৫০ ঘণ্টা উড়ানের অভিজ্ঞতা থাকার কথা উল্লেখ রয়েছে।
লাইন ট্রেনিং ক্যাপ্টেন হিসেবে তাঁর দায়িত্বের মধ্যে পাইলটদের প্রশিক্ষণ ও মূল্যায়নও ছিল। ফলে দীর্ঘ উড়ান-অভিজ্ঞতা এবং প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত থাকার বিষয়টিও এই ঘটনার পর বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে।

বিশ্বজুড়ে প্রশংসা
ঘটনার পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বিমানটির যাত্রী ও ক্রুদের সাহসের প্রশংসা করেন এবং বড় বিপর্যয় এড়ানোর কথা বলেন। ভারতীয় পাইলট স্মিত মচ্ছারের ভূমিকাও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে বিশেষভাবে উঠে এসেছে।
ভারতেও তাঁর সাহসিকতা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীসহ একাধিক বিশিষ্ট ব্যক্তি তাঁর সাহসের প্রশংসা করেছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এই ঘটনায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল—মাঝ আকাশে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পরও বিমানটি শেষ পর্যন্ত নিরাপদে তাবুকে অবতরণ করেছে এবং যাত্রী ও ক্রুরা প্রাণে বেঁচেছেন। ককপিটের ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ হলে সেদিন ঠিক কীভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছিল, তার আরও স্পষ্ট ছবি সামনে আসবে।
ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছারের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছে গোটা দেশ।

