রবীন্দ্র রচনাবলীর ১৮ খণ্ড ও একটি ‘সঞ্চয়িতা’ এখনও খাতায়-কলমে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও বই জমা না পড়ায় নিয়ম মেনে ব্যবস্থা নেওয়ার বার্তা গ্রন্থাগারমন্ত্রীর।
Published by -Jyotirmay Dutta: Posted 26.08.2026 at 20:23 pm
বঙ্গবার্তা নিউজ, কলকাতা,সর্নিকা দত্ত:
ছবি – এ আই দ্বারা নির্মিত এবং নিজস্ব
বিধানসভার গ্রন্থাগার থেকে ইস্যু করা বই ফেরত না আসা নিয়ে এবার কড়া অবস্থান নিল রাজ্য সরকার। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে ইস্যু থাকা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘রবীন্দ্র রচনাবলী’র ১৮টি খণ্ড এবং একটি ‘সঞ্চয়িতা’ এখনও বিধানসভার গ্রন্থাগারে জমা পড়েনি বলে দাবি করা হয়েছে। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে গেলেও বইগুলি ফেরত না আসায় এবার নিয়ম অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাজ্যের গ্রন্থাগার বিষয়ক মন্ত্রী গৌরীশংকর ঘোষ।
মঙ্গলবার সিউড়ির বিবেকানন্দ গ্রন্থাগারের ১২৭তম প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানে যোগ দেন মন্ত্রী। সেখানেই সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিধানসভার গ্রন্থাগারের বই ফেরত না আসার বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেন তিনি।

‘বিশিষ্ট ব্যক্তির জন্য আলাদা নিয়ম নয়’
মন্ত্রী গৌরীশংকর ঘোষের বক্তব্য, গ্রন্থাগার থেকে বই নেওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণ পাঠক এবং কোনও বিশিষ্ট ব্যক্তির জন্য আলাদা নিয়ম থাকতে পারে না। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বই ফেরত না দিলে যে নিয়ম সাধারণ পাঠকের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, একই নিয়ম প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষেত্রেও কার্যকর হবে বলে জানান তিনি।
তাঁর বক্তব্য, আইনের শাসন এবং সকলের জন্য সমান নিয়ম কার্যকর করার নীতিতেই রাজ্য সরকার চলছে। বই ফেরতের ক্ষেত্রেও সেই নীতির কোনও ব্যতিক্রম হবে না। দ্রুত বইগুলি গ্রন্থাগারে জমা না পড়লে নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন মন্ত্রী।

কোথায় রয়েছে বইগুলি?
বইগুলি নিয়ে তৈরি হয়েছে কিছুটা অদ্ভুত প্রশাসনিক জটিলতাও। বিধানসভার গ্রন্থাগারের কর্মীরা ইতিমধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন বলে জানা গিয়েছে। তাঁদের কাছে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, বইগুলি তাঁর ব্যক্তিগত হেফাজতে বা বাড়িতে নেই।
তাঁর দাবি অনুযায়ী, বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর জন্য নির্দিষ্ট যে চেম্বার রয়েছে, সেখানেই বইগুলি রাখা আছে। সরকার পরিবর্তনের পর বর্তমানে সেই দপ্তরে বসেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
তবে গ্রন্থাগারের নিয়ম অনুযায়ী, বই কোনও নির্দিষ্ট জায়গায় পড়ে থাকলেই সেটিকে ‘ফেরত’ হিসেবে ধরা যায় না। বই আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রন্থাগারের কাউন্টারে জমা না পড়া পর্যন্ত তা ইস্যু হিসেবেই থেকে যায়। ফলে খাতায়-কলমে ওই ১৯টি বই এখনও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামেই রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
পুরনো গ্রন্থাগার নীতি নিয়েও সরব মন্ত্রী
বই ফেরত না আসার প্রসঙ্গের পাশাপাশি পূর্ববর্তী সরকারের গ্রন্থাগার নীতি নিয়েও সরব হয়েছেন গৌরীশংকর ঘোষ। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকারের সময়ে সরকারি গ্রন্থাগারগুলিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা বই কেনার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
মন্ত্রী এই নীতিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিযোগ করেছেন। তাঁর দাবি, সরকারি গ্রন্থাগারের বইয়ের সংগ্রহে আরও বৈচিত্র্য আনা প্রয়োজন। সেই লক্ষ্যেই বর্তমানে বিভিন্ন গ্রন্থাগারে নতুন করে বইয়ের সংগ্রহ সাজানোর কাজ শুরু হয়েছে।

স্বামী বিবেকানন্দ, শ্যামাপ্রসাদ-সহ জাতীয় ব্যক্তিত্বদের বইয়ে জোর
আগামী দিনে সরকারি গ্রন্থাগারগুলিতে স্বামী বিবেকানন্দ, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়-সহ দেশের বিভিন্ন জাতীয়তাবাদী ও ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের জীবন, দর্শন ও চিন্তাধারা নিয়ে লেখা বই রাখার ক্ষেত্রে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী।
ফলে বিধানসভার গ্রন্থাগারের ১৯টি বই ফেরত দেওয়ার বিষয়টি শুধু প্রশাসনিক ইস্যুতে সীমাবদ্ধ থাকছে না। এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে রাজ্যের গ্রন্থাগার নীতি এবং আগের সরকারের বই সংগ্রহের পদ্ধতি নিয়েও রাজনৈতিক বিতর্ক।
এখন দেখার, বিধানসভার গ্রন্থাগারের খাতায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নামে থাকা ওই ১৯টি বই কবে আনুষ্ঠানিকভাবে জমা পড়ে এবং এই নিয়ে রাজ্য সরকার পরবর্তী কোনও পদক্ষেপ করে কি না।

