তারাপীঠের অগ্নিকাণ্ডের পর পর্যটনকেন্দ্রে কড়া নিরাপত্তা, নতুন নির্দেশিকা আনছে রাজ্য

হোটেল ও পর্যটন পরিকাঠামোর অগ্নি-নিরাপত্তায় জোর, স্থানীয় প্রশাসন ও দমকলের মাধ্যমে নির্দেশিকা কার্যকরের উদ্যোগ

Published by -Jyotirmay Dutta: Posted 18.08.2026 at 18:05 pm

বঙ্গবার্তা নিউজ, কলকাতা,মৃণাল কান্তি সরকার:

ছবি এ আই দ্বারা নির্মিত এবং নিজস্ব

তারাপীঠের হোটেলে সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর রাজ্যের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার। পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে হোটেল, হোমস্টে এবং অন্যান্য পর্যটন পরিকাঠামোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পৃথক নির্দেশিকা তৈরির পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানালেন পর্যটন ও পরিষদীয় বিষয়ক মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ।

মঙ্গলবার নব মহাকরণে সরকারের একশো দিন পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সাংবাদিক বৈঠকের শেষে প্রশ্নোত্তর পর্বে তারাপীঠের অগ্নিকাণ্ড প্রসঙ্গে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মন্ত্রী জানান, তারাপীঠ রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ তীর্থ ও পর্যটনকেন্দ্র। সেখানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে রাজ্যের অন্যান্য পর্যটনকেন্দ্রেও আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদার করার পরিকল্পনা রয়েছে।

শঙ্কর ঘোষের বক্তব্য অনুযায়ী, হোটেলের অগ্নি-নিরাপত্তা সংক্রান্ত অনুমোদন সরাসরি পর্যটন দপ্তরের আওতাধীন নয়। তবে পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে পর্যটন দপ্তর বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। নতুন নির্দেশিকা তৈরির পর স্থানীয় প্রশাসন এবং দমকল বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে তা কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

পর্যটনকেন্দ্রে নিরাপত্তায় বিশেষ নজর

রাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্রগুলিতে হোটেল ও অন্যান্য পর্যটন পরিকাঠামোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকাঠামো আরও শক্তিশালী করার উপর জোর দেওয়া হচ্ছে। অগ্নিকাণ্ডের মতো বিপর্যয়ের ক্ষেত্রে পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া, জরুরি পরিষেবার দ্রুত পৌঁছনো এবং প্রয়োজনীয় অগ্নি-নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার বিষয়গুলি নির্দেশিকায় গুরুত্ব পেতে পারে।

১০০ দিনে পর্যটন দপ্তরে একাধিক উদ্যোগ

সাংবাদিক বৈঠকে গত ১০০ দিনে পর্যটন দপ্তরের একাধিক উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তাঁর দাবি, পর্যটন দপ্তরকে নতুনভাবে সাজানোর কাজ শুরু হয়েছে। নতুন পর্যটন নীতি এবং হোমস্টে নীতির পাশাপাশি শহরাঞ্চলে ‘বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট’ প্রকল্প, চা-বাগানভিত্তিক পর্যটন, অ্যাডভেঞ্চার ট্যুরিজম এবং প্রযুক্তিনির্ভর পর্যটন পরিষেবা চালুর মতো একাধিক পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

দার্জিলিং থেকে সুন্দরবন—পর্যটনে নতুন পরিকল্পনা

দার্জিলিংকে ‘ওয়ান স্টেট, ওয়ান গ্লোবাল ডেস্টিনেশন’ প্রকল্পের আওতায় আন্তর্জাতিক পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান শঙ্কর ঘোষ। একই সঙ্গে সুন্দরবনকে বিশ্বমানের পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

মন্ত্রী জানান, কেন্দ্রীয় প্রকল্পের আওতায় ১২৯ কোটি টাকার প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি রাজ্যে আরও ১৯টি পর্যটন প্রকল্পের জন্য প্রায় ৪৬৮ কোটি টাকার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি তাঁর।

ঐতিহ্য ও ধর্মীয় পর্যটনেও জোর

রাজ্যের পর্যটন মানচিত্রে ঐতিহ্যবাহী ও ধর্মীয় স্থানগুলিকে আরও গুরুত্ব দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। চন্দননগরের ঐতিহাসিক ফরাসি রেজিস্ট্রি ভবনের পুনর্নির্মাণ, ১০৮টি ধর্মীয় পর্যটন সার্কিট গড়ে তোলা এবং বিভিন্ন উৎসবকে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন মন্ত্রী।

টি-ফেস্টিভ্যাল, অরেঞ্জ ফেস্টিভ্যাল, ঘুড়ি উৎসব এবং বেলুন উৎসবের মতো আয়োজনের মাধ্যমে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে পর্যটনকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। পর্যটকদের সুবিধার জন্য রাজ্য ও জেলা স্তরে হেল্পলাইন পরিষেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

পর্যটনকে অর্থনীতির চালিকাশক্তি করার লক্ষ্য

শঙ্কর ঘোষের দাবি, দীর্ঘদিন পর্যাপ্ত গুরুত্ব না-পাওয়া পর্যটন দপ্তরকে নতুনভাবে সাজিয়ে রাজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক চালিকাশক্তিতে পরিণত করাই সরকারের লক্ষ্য। পর্যটনকেন্দ্রগুলির পরিকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি পর্যটকদের নিরাপত্তা, পরিষেবার মান এবং স্থানীয় অর্থনীতির বিকাশ—এই তিনটি ক্ষেত্রেই একযোগে কাজ করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

তারাপীঠের অগ্নিকাণ্ডের পর নতুন নিরাপত্তা নির্দেশিকা তৈরির উদ্যোগ সেই বৃহত্তর পরিকল্পনারই অংশ বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *