পুজোর মুখে ডেঙ্গির দাপট, ১২ হটস্পটে নবান্নের কড়া নজর! দু’সপ্তাহে নতুন আক্রান্ত ২,৬০০

রাজ্যে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৭,৩২০-এর কাছাকাছি, কলকাতা-সহ একাধিক জেলায় উদ্বেগ; অক্টোবর-নভেম্বরকে সামনে রেখে জোরদার হচ্ছে নজরদারি

Published by -Jyotirmay Dutta: Posted 01.10.2026 at 16:17 pm

বঙ্গবার্তা নিউজ, কলকাতা,মৃণাল কান্তি সরকার:

ছবি এ আই দ্বারা নির্মিত এবং নিজস্ব

পুজোর মুখে ফের উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ডেঙ্গি। রাজ্যজুড়ে বাড়ছে মশাবাহিত এই রোগের সংক্রমণ। প্রশাসনিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত দু’সপ্তাহে রাজ্যে নতুন করে প্রায় ২,৬০০ জন ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হয়েছেন। চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ৭,৩২০। পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্যের ১২টি এলাকাকে বিশেষ নজরদারির আওতায় এনে ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।

ডেঙ্গির সংক্রমণ নিয়ে সেপ্টেম্বরের শুরু থেকেই রাজ্য প্রশাসন সতর্কতা বাড়িয়েছে। ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্বাস্থ্য দফতরের তথ্য অনুযায়ী রাজ্যে ডেঙ্গি আক্রান্তের সংখ্যা ৫,০০০ পেরিয়েছিল; মুর্শিদাবাদ, কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, নদিয়া, মালদহ, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া ও হুগলির মতো জেলাগুলিতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আক্রান্তের খবর পাওয়া গিয়েছিল।

কলকাতা-সহ একাধিক জেলায় বিশেষ নজর

আক্রান্তের সংখ্যার নিরিখে কলকাতা পুর এলাকা প্রশাসনের বিশেষ নজরে রয়েছে। শহরের একাধিক ওয়ার্ডে ডেঙ্গি সংক্রমণ বেড়েছে। এর আগে কলকাতা পুরসভা একাধিক ওয়ার্ডকে হটস্পট হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। ৬ নম্বর ওয়ার্ডে সংক্রমণের মাত্রা বিশেষভাবে বেশি বলে পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছিল।

শুধু কলকাতা নয়, মুর্শিদাবাদ, নদিয়া, হাওড়া, হুগলি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং পশ্চিম বর্ধমানের বিভিন্ন এলাকাতেও ডেঙ্গি সংক্রমণ নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।

প্রশাসনিক তথ্য অনুযায়ী, মুর্শিদাবাদের রঘুনাথগঞ্জ-২ ব্লক, নবদা ও লালগোলা, নদিয়ার তেহট্ট-১, হাওড়া পুর এলাকা, হুগলির পোলবা, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় এবং আসানসোল পুর এলাকার মতো জায়গাগুলিতে আক্রান্তের সংখ্যা নজর কাড়ছে।

নবান্নে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক

ডেঙ্গি পরিস্থিতি পর্যালোচনায় সোমবার নবান্নে মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালের নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়। স্বাস্থ্য, পুরসভা, পুলিশ-সহ একাধিক দফতরের প্রতিনিধিরা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বলে খবর।

বৈঠকে আক্রান্ত এলাকাগুলিতে নজরদারি বাড়ানো, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা, দ্রুত রোগী শনাক্তকরণ এবং বিভিন্ন সরকারি দফতরের মধ্যে সমন্বয় আরও বাড়ানোর উপর জোর দেওয়া হয়েছে। আগামী দু’মাস ডেঙ্গি নিয়ন্ত্রণে বিশেষ সতর্ক থাকার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

জমা জল ও লার্ভার খোঁজে বাড়ছে নজরদারি

ডেঙ্গি মোকাবিলায় মূল লক্ষ্য মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করা। কোথায় জল জমছে, কোথায় মশার লার্ভা পাওয়া যাচ্ছে এবং কোন এলাকায় পরপর আক্রান্তের সন্ধান মিলছে—এই তথ্যের ভিত্তিতে এলাকাভিত্তিক নজরদারি চালানোর উপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

বিশেষ করে বৃষ্টির পরে বিভিন্ন জায়গায় জমে থাকা জল ডেঙ্গির বাহক এডিস মশার বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করতে পারে। কলকাতায় পুজোর মণ্ডপ তৈরির জায়গাতেও জল জমে মশার প্রজননস্থল তৈরি হওয়ার আশঙ্কা নিয়ে সতর্ক করা হয়েছে।

স্কুলেও ডেঙ্গি সচেতনতা কর্মসূচি

ডেঙ্গি মোকাবিলায় এবার স্কুলগুলিকেও আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত করছে রাজ্য। সম্প্রতি রাজ্যের সব স্কুলে ডেঙ্গি প্রতিরোধ ও সচেতনতা বাড়ানোর নির্দেশিকা জারি হয়েছে। পড়ুয়াদের মধ্যে সচেতনতা তৈরি করার পাশাপাশি স্কুল চত্বর পরিষ্কার রাখা এবং পরিবেশবান্ধব ‘গ্রিন স্কুল’ গড়ে তোলার বিষয়েও জোর দেওয়া হয়েছে।

আগাম সতর্কতাই লক্ষ্য

প্রশাসনের লক্ষ্য, আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে আগেই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলিতে প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ জোরদার করা। স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও হাসপাতালগুলিকেও ডেঙ্গি শনাক্তকরণ ও আক্রান্তদের তথ্য দ্রুত স্থানীয় প্রশাসনের কাছে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পুজোর আগে ডেঙ্গির এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা স্বাভাবিকভাবেই প্রশাসনের উদ্বেগ বাড়িয়েছে। আগামী কয়েক সপ্তাহে সংক্রমণের গতিপ্রকৃতি কোন দিকে যায়, এখন সেটাই নজরে স্বাস্থ্য দফতর ও নবান্নের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *