Published by -Jyotirmay Dutta: Posted 22.08.2026 at 16:05 pm
বঙ্গবার্তা ওয়েব ডেস্কঃ
ছবি এ আই দ্বারা নির্মিত
জাম্পিং জ্যাকস থেকে ব্রিস্ক ওয়াকিং—নিয়মিত শরীরচর্চা হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী, তবে ব্যায়ামের পাশাপাশি জরুরি সঠিক জীবনযাপন
ব্যস্ত জীবনযাত্রা, দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, অনিয়মিত খাবার এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাব—সব মিলিয়ে হৃদ্স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। নিজেকে সক্রিয় রাখার জন্য প্রতিদিন অল্প সময়ের শরীরচর্চাও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে মাত্র পাঁচ মিনিটের ব্যায়াম করলেই হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি নিশ্চিতভাবে কমে যাবে—এমন দাবি করার আগে সতর্ক থাকা জরুরি। হৃদ্স্বাস্থ্য ভালো রাখতে নিয়মিত শারীরিক সক্রিয়তা, স্বাস্থ্যকর খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম এবং চিকিৎসকের পরামর্শ—সবকিছুরই ভূমিকা রয়েছে।
৫ মিনিটের সহজ ওয়ার্কআউট
সময় কম থাকলে দিনের শুরুতে বা সুবিধামতো সময়ে কয়েক মিনিট শরীরচর্চা করা যেতে পারে। একটি সহজ রুটিন হতে পারে—
- ১ মিনিট জাম্পিং জ্যাকস
- ১ মিনিট হাই নীজ
- ১ মিনিট স্টেপ-আপস
- ১ মিনিট দ্রুত হাঁটা বা ব্রিস্ক ওয়াকিং
- ১ মিনিট এয়ার সাইক্লিং
তবে নতুন করে ব্যায়াম শুরু করলে একসঙ্গে বেশি চাপ না দিয়ে ধীরে ধীরে অভ্যাস তৈরি করা ভালো। নিজের বয়স, শারীরিক সক্ষমতা এবং পূর্বের ব্যায়ামের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী ব্যায়ামের গতি ও তীব্রতা ঠিক করা উচিত।
ব্যায়ামের আগে-পরে কী কী খেয়াল রাখবেন?
ব্যায়াম শুরু করার আগে কয়েক মিনিট হালকা ওয়ার্ম-আপ করলে শরীর প্রস্তুত হতে সাহায্য করে। ব্যায়ামের সময় পর্যাপ্ত জল পান করাও গুরুত্বপূর্ণ।
বয়স্ক ব্যক্তি, দীর্ঘদিনের অসুস্থতায় ভোগা মানুষ কিংবা যাঁদের হৃদ্যন্ত্র বা অন্য কোনও শারীরিক সমস্যা রয়েছে, তাঁরা নতুন করে জোরালো ব্যায়াম শুরু করার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
ব্যায়ামের সময় বুকে ব্যথা, অস্বাভাবিক শ্বাসকষ্ট, মাথা ঘোরা, দুর্বল লাগা বা অস্বস্তি হলে সঙ্গে সঙ্গে থেমে যান এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসা নিন।
ফুসফুসের জন্যও নিয়মিত শ্বাসের অনুশীলন
ফুসফুসের কার্যক্ষমতা ও শ্বাস-প্রশ্বাসের অভ্যাস ঠিক রাখতে ধীরে ও নিয়ন্ত্রিতভাবে বিভিন্ন শ্বাসের অনুশীলন করা যায়। যেমন—
- ১ মিনিট গভীর শ্বাস নেওয়া
- ১ মিনিট ডায়াফ্রামিক ব্রিদিং
- ১ মিনিট পার্সড-লিপ ব্রিদিং
- ১ মিনিট ধীরে শ্বাস নেওয়া ও ছাড়ার অনুশীলন
- ১ মিনিট হামিং
তবে শ্বাসের ব্যায়াম করার সময় জোর করে বা দীর্ঘক্ষণ শ্বাস আটকে রাখা উচিত নয়। মাথা ঘুরলে বা অস্বস্তি হলে সঙ্গে সঙ্গে অনুশীলন বন্ধ করতে হবে।
হার্ট অ্যাটাক আর কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট এক নয়
একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা দরকার—হার্ট অ্যাটাক এবং কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট একই ঘটনা নয়। হার্ট অ্যাটাকে হৃদ্যন্ত্রে রক্ত সরবরাহ বাধাগ্রস্ত হয়। অন্যদিকে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টে হৃদ্যন্ত্র হঠাৎ কার্যকরভাবে রক্ত পাম্প করা বন্ধ করে দেয়।
কেউ হঠাৎ অচেতন হয়ে গেলে এবং স্বাভাবিকভাবে শ্বাস না নিলে সেটি কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের জরুরি পরিস্থিতি হতে পারে। এমন অবস্থায় দ্রুত জরুরি পরিষেবায় ফোন করে CPR শুরু করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
CPR কীভাবে দেবেন?
প্রশিক্ষণ না থাকলেও জরুরি পরিস্থিতিতে Hands-Only CPR শুরু করা যায়।
প্রথমে নিশ্চিত করুন জায়গাটি নিরাপদ। ব্যক্তির সাড়া আছে কি না এবং স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিচ্ছেন কি না দেখুন। সাড়া না থাকলে দ্রুত স্থানীয় জরুরি পরিষেবায় ফোন করুন বা কাউকে ফোন করতে বলুন।
এরপর—
- ব্যক্তিকে শক্ত ও সমতল জায়গায় চিৎ করে শুইয়ে দিন।
- বুকের মাঝখানে এক হাতের তালুর ওপর অন্য হাত রাখুন।
- দুই হাতের আঙুল জড়িয়ে কনুই সোজা রাখুন।
- শরীরের ওপরের অংশের ওজন ব্যবহার করে বুকের মাঝখানে জোরে ও দ্রুত চাপ দিন।
- প্রতি মিনিটে প্রায় ১০০–১২০ বার বুকে চাপ দেওয়ার চেষ্টা করুন।
- সাহায্য না আসা পর্যন্ত অথবা ব্যক্তি স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নেওয়া শুরু করা পর্যন্ত CPR চালিয়ে যান।
সম্ভব হলে কাছাকাছি AED (Automated External Defibrillator) থাকলে প্রশিক্ষিত ব্যক্তি বা ডিভাইসের নির্দেশনা অনুযায়ী সেটি ব্যবহার করুন।
মনে রাখবেন: CPR দেওয়ার সময় পাঁজরে আঘাত লাগতে পারে, কিন্তু কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের ক্ষেত্রে দ্রুত CPR শুরু করা জীবন বাঁচানোর ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
মাত্র ৫ মিনিট নয়, নিয়মিত সক্রিয় থাকাই আসল
প্রতিদিন পাঁচ মিনিট দিয়ে শুরু করা ভালো অভ্যাস তৈরির একটি উপায় হতে পারে। কিন্তু হৃদ্স্বাস্থ্য ভালো রাখতে শুধু পাঁচ মিনিটের ব্যায়ামের উপর নির্ভর করা উচিত নয়। নিয়মিত হাঁটা, সুষম খাবার, ওজন নিয়ন্ত্রণ, পর্যাপ্ত ঘুম, ধূমপান এড়ানো এবং রক্তচাপ, রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরলের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্য সূচক নিয়ন্ত্রণে রাখাও জরুরি।
স্বাস্থ্য সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কোনও সমস্যা থাকলে নিজে থেকে ব্যায়াম বা চিকিৎসা শুরু না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

