নন্দীগ্রামের ‘পা ভাঙা’ বিতর্কে ফের বিস্ফোরক শুভেন্দু, ভোটের পর তদন্তের ইঙ্গিত

‘ফ্র্যাকচারের প্রমাণই নেই’—২০২১-এর চিকিৎসা-রিপোর্ট সামনে এনে নতুন দাবি, ৯ অক্টোবরের পর ‘মিথ্যা প্রচার’ নিয়ে বিস্তারিত জানানোর বার্তা

Published by -Jyotirmay Dutta: Posted 03.10.2026 at 16:20 pm

বঙ্গবার্তা নিউজ, কলকাতা,মৃণাল কান্তি সরকার:

ছবি এ আই দ্বারা নির্মিত এবং নিজস্ব

পাঁচ বছর পর ফের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে ২০২১ সালের নন্দীগ্রাম-কাণ্ড। নন্দীগ্রামে পায়ে চোট পাওয়ার ঘটনাকে ঘিরে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে এবার চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথি সামনে এনে বিস্ফোরক দাবি করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

শুভেন্দুর দাবি, ২০২১ সালের ১১ মার্চ বঙ্গুর ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেসের রেডিওলজি রিপোর্টে পায়ের হাড় ভাঙার কোনও প্রমাণ উল্লেখ নেই। তাঁর দেখানো রিপোর্টে লেখা রয়েছে, “No evidence of fracture or dislocation”। এই রিপোর্ট সামনে রেখেই তাঁর প্রশ্ন, তা হলে সেই সময় নন্দীগ্রামের ঘটনাকে ঘিরে যে রাজনৈতিক প্রচার হয়েছিল, তার ভিত্তি কী ছিল?

শুধু প্রশ্ন তোলাই নয়, বিষয়টি নিয়ে নির্বাচনী বিধিনিষেধ শেষ হওয়ার পর নতুন করে তদন্তের ইঙ্গিতও দিয়েছেন শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, নন্দীগ্রাম-কাণ্ড নিয়ে বর্তমানে সিআইডি তদন্ত চলছে। নির্বাচনী বিধিনিষেধ উঠে গেলে ‘মিথ্যা প্রচার’-এর অভিযোগ নিয়েও তদন্তের বিষয়টি সামনে আসতে পারে।

শুভেন্দু বলেন, “এ নিয়ে এখন আর বেশি কিছু বলব না। বিষয়টি সিআইডি তদন্ত করছে। নির্বাচনী বিধিনিষেধ উঠে গেলে এই মিথ্যা প্রচারের বিষয়েও নতুন করে তদন্ত হবে। ৯ তারিখের পর বিস্তারিত জানাব।”

‘নন্দীগ্রামের মানুষকে বদনাম করা হয়েছিল’, দাবি শুভেন্দুর

নন্দীগ্রামের ঘটনাকে জাতীয় স্তরে বড় রাজনৈতিক ইস্যু করা হয়েছিল বলেও দাবি করেন শুভেন্দু। তাঁর অভিযোগ, ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নন্দীগ্রামের মানুষকেও বদনাম করা হয়েছিল। চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথিতে যা রয়েছে, তা সামনে রেখে গোটা বিষয়টি নতুন করে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে দাবি তাঁর।

তবে রিপোর্টে ‘ফ্র্যাকচার’ বা ‘ডিসলোকেশন’-এর প্রমাণ না থাকার দাবি সম্পূর্ণভাবে তাঁর বক্তব্যের ভিত্তিতেই সামনে এসেছে। এই নথির পাশাপাশি ঘটনার পূর্ণ প্রেক্ষাপট এবং পরবর্তী চিকিৎসা-নথিও বিবেচনায় নেওয়া হবে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন থাকছে।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সরাসরি নিশানা করলেন না

সাংবাদিকদের তরফে সরাসরি প্রশ্ন করা হয়—তাহলে কি তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মানুষকে বিভ্রান্ত করেছিলেন?

এর সরাসরি উত্তর এড়িয়ে যান শুভেন্দু। তিনি জানান, এখনই সব তথ্য প্রকাশ্যে আনছেন না। নির্বাচনী বিধিনিষেধ শেষ হওয়ার পর আরও তথ্য সামনে আনার ইঙ্গিত দেন তিনি।

শুভেন্দুর কথায়, “এখন বেশি কিছু বলব না। গতকাল যা বলেছিলাম, তার সমর্থনে একটি প্রমাণ দেখালাম। বাকি ৯ তারিখের পর জানাব।”

পাঁচ বছর পর ফের নন্দীগ্রাম-কাণ্ড

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে নন্দীগ্রামে আহত হওয়ার দাবি করেছিলেন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর পায়ে চোট লাগার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সেই সময় তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। ঘটনাটি নির্বাচনী প্রচারের অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে ওঠে।

পাঁচ বছর পর ফের সেই ঘটনাই রাজনৈতিক আলোচনায় ফিরে এসেছে। এবার চিকিৎসা-রিপোর্টের একটি নির্দিষ্ট বক্তব্য সামনে রেখে শুভেন্দুর দাবি, তৎকালীন রাজনৈতিক প্রচার এবং চিকিৎসা-নথির মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে।

তবে রিপোর্টের পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট, পরবর্তী চিকিৎসা-পরীক্ষা এবং ঘটনার তদন্ত-সংক্রান্ত সমস্ত নথি প্রকাশ্যে এলে বিতর্কের বিভিন্ন দিক আরও স্পষ্ট হতে পারে।

এখন নজর ৯ অক্টোবরের দিকে। নির্বাচনী বিধিনিষেধ শেষ হওয়ার পর শুভেন্দু অধিকারী কী তথ্য সামনে আনেন, আদৌ নতুন কোনও তদন্ত শুরু হয় কি না এবং ২০২১-এর নন্দীগ্রাম-কাণ্ড নিয়ে আরও কোনও নথি প্রকাশ্যে আসে কি না—সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *