‘ভোটচোর, গদ্দি ছোড়’ স্লোগানে দিল্লি সরগরম, জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে পথে ইন্ডিয়া শিবির

রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে বিরোধীদের বিক্ষোভ, উপস্থিত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও অখিলেশ যাদব; নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অবস্থানেও বিরোধী নেতারা

Published by -Jyotirmay Dutta: Posted 06.10.2026 at 17:57 pm

বঙ্গবার্তা নিউজ,নয়াদিল্লী,আভিজিত বসুঃ

ছবি এ আই দ্বারা নির্মিত এবং নিজস্ব

নির্বাচন কমিশন এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সরব হয়ে দিল্লির রাজপথে নামল বিরোধী ইন্ডিয়া শিবির। বিক্ষোভে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতি রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্য তৈরি করেছে। বিরোধী নেতারা নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অবস্থান বিক্ষোভেও বসেন। আন্দোলনকারীদের মুখে শোনা যায়, ‘ভোটচোর, গদ্দি ছোড়’-এর মতো স্লোগান। পরিস্থিতি সামাল দিতে দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাগুলিতে ছিল কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

মূলত ভোটার তালিকা সংশোধন ও SIR (Special Intensive Revision)-সহ নির্বাচন কমিশনের একাধিক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করেই বিরোধীদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। বিরোধীদের অভিযোগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া এবং ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিষয়ে স্বচ্ছতা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন রয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই কমিশনের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক চাপ বাড়ানোর কৌশল নিয়েছে বিরোধী দলগুলি।

দিল্লির এই কর্মসূচিতে কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস এবং সমাজবাদী পার্টির নেতাদের এক মঞ্চে দেখা যাওয়াকে জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবেই দেখছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ। বিশেষ করে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগে বিজেপি-বিরোধী দলগুলির মধ্যে সমন্বয় কতটা শক্তিশালী হয়, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

বিরোধী শিবিরের দাবি, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা এবং ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিষয়গুলি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সেই প্রশ্নকে সামনে রেখেই দেশজুড়ে আন্দোলন আরও জোরদার করার বার্তা দিয়েছে তারা।

অন্যদিকে, বিজেপির তরফে বিরোধীদের এই আন্দোলনকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আক্রমণ করা হতে পারে। তবে দিল্লির রাজপথে বিরোধীদের এই ঐক্যবদ্ধ কর্মসূচি জাতীয় রাজনীতিতে যে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই চর্চা শুরু হয়েছে।

দিল্লির রাজপথে এ দিনের বিক্ষোভ সেই বৃহত্তর রাজনৈতিক লড়াইয়েরই একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে উঠল। আগামী দিনে এই আন্দোলন কোন দিকে যায় এবং বিজেপি-বিরোধী শিবিরের ঐক্য কতটা স্থায়ী হয়, এখন সেদিকেই নজর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *