বিয়ের অনুষ্ঠানের আগে প্রার্থনা চলাকালীন গুরুদ্বারে ঢুকে হামলার অভিযোগ, তদন্তে কানাডার পুলিশ
Published by -Jyotirmay Dutta: Posted 22.08.2026 at 13:40 pm
বঙ্গবার্তা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ছবি – সোশ্যাল মিডিয়া
কানাডার আলবার্টা প্রদেশের এডমন্টন শহরের একটি গুরুদ্বারে প্রার্থনা চলাকালীন ছুরিকাঘাতের ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। নানকসর গুরুদ্বারা গুরসিখ মন্দিরে এক ব্যক্তি ঢুকে হইচই করার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। অভিযোগ, এরপর হাতাহাতির মধ্যে ছুরি দিয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনায় দুই প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ আহত হয়েছেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে।

এডমন্টন পুলিশ সার্ভিস জানিয়েছে, ১৪ স্ট্রিট ও হর্সহিল রোডের কাছে ঘটনাটি ঘটে। জরুরি পরিষেবার কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুই আহত ব্যক্তিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন এবং পরে হাসপাতালে নিয়ে যান। তাঁদের আঘাত গুরুতর হলেও প্রাণঘাতী নয় বলে জানা গিয়েছে।
গুরুদ্বারার প্রতিনিধি হরমিক সেহগলের বক্তব্য অনুযায়ী, সকালে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল। তার আগে গুরুদ্বারে প্রার্থনা চলাকালীন অভিযুক্ত ব্যক্তি সেখানে ঢুকে হইচই শুরু করেন। উপস্থিত কয়েকজন প্রথমে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় তাঁকে আটকানোর চেষ্টা করা হলে হাতাহাতি শুরু হয়। সেই সময়ই দু’জন ছুরিকাহত হন বলে অভিযোগ।
ঘটনার পর দুই আহত ব্যক্তিই সচেতন ছিলেন এবং কথা বলছিলেন বলে জানিয়েছেন গুরুদ্বারা কর্তৃপক্ষ। হামলার ঘটনার পরও নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সকাল সাড়ে ১০টা নাগাদ বিয়ের ধর্মীয় অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। গুরুদ্বারার সম্পত্তি কিংবা পবিত্র ধর্মগ্রন্থের কোনও ক্ষতি হয়নি বলেও জানানো হয়েছে।
হামলার নেপথ্যে কী? তদন্তে পুলিশ
ঠিক কী কারণে অভিযুক্ত ব্যক্তি গুরুদ্বারে ঢুকে হামলা চালালেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পুলিশ ঘটনার উদ্দেশ্য এবং অভিযুক্তের মানসিকতা খতিয়ে দেখছে। ঘটনাটি হেট ক্রাইম হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে কি না, সে বিষয়েও এখনও কোনও চূড়ান্ত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। তিনি হামলাটিকে অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করে আহতদের এবং সিখ সম্প্রদায়ের প্রতি সহমর্মিতা জানিয়েছেন। আলবার্টার প্রিমিয়ার ড্যানিয়েল স্মিথও ঘটনার নিন্দা করেছেন। তাঁর বক্তব্য, প্রত্যেক মানুষের নিজের সম্প্রদায় এবং উপাসনাস্থলে নিরাপদে থাকার অধিকার রয়েছে।
ওয়ার্ল্ড সিখ অর্গানাইজেশন অফ কানাডার মুখপাত্র হারমন কন্ডোলা বলেন, যে সময়টি আনন্দ ও উদ্যাপনের হওয়ার কথা ছিল, সেই সময়েই এই ছুরিকাঘাতের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
সিখ আমেরিকান লিগ্যাল ডিফেন্স অ্যান্ড এডুকেশন ফান্ডও ঘটনার নিন্দা করেছে। গুরুদ্বারে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার ব্যবস্থা আরও পর্যালোচনা করা এবং সন্দেহজনক কার্যকলাপ নজরে এলে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকে দ্রুত জানানোর আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।

