প্রতিটি ওয়ার্ডে বাড়ি বাড়ি গিয়ে উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছেছে কি না যাচাই করবে মহিলা মোর্চার কর্মীরা; যোগ্য কেউ বঞ্চিত হলে বা অযোগ্য কেউ সুবিধা পেলে সরকারকে জানানোর নির্দেশ
Published by -Jyotirmay Dutta: Posted 18.08.2026 at 20:O5 pm
বঙ্গবার্তা নিউজ, কলকাতা,মৃণাল কান্তি সরকার:
ছবি এ আই দ্বারা নির্মিত এবং নিজস্ব
অন্নপূর্ণা যোজনা-সহ বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের সুবিধা প্রকৃত উপভোক্তাদের কাছে যথাযথভাবে পৌঁছচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে বড়সড় নজরদারি ব্যবস্থার উপর জোর দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে ‘অন্নপূর্ণা বাহিনী’ গড়ে তোলার ডাক দিয়ে তিনি মহিলা মোর্চার কর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে উপভোক্তাদের পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান।
মঙ্গলবার আলিপুরের ধনধান্য অডিটোরিয়ামে দক্ষিণ কলকাতা মহিলা মোর্চার উদ্যোগে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি ওয়ার্ডে মহিলা মোর্চার কর্মীদের সরকারের সহযোগী হিসেবে কাজ করতে হবে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ নিতে হবে, অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছেছে কি না। কোনও যোগ্য মহিলা সুবিধা থেকে বঞ্চিত হলে তাঁর তথ্য সরকারকে জানাতে হবে। একইভাবে কোনও অনুপযুক্ত ব্যক্তি সরকারি সুবিধা পেয়ে থাকলেও তা প্রশাসনের নজরে আনার নির্দেশ দেন তিনি।

১৭ আগস্ট থেকে অন্নপূর্ণার টাকা পাঠানোর প্রক্রিয়া
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, ১৭ আগস্ট থেকে অন্নপূর্ণা যোজনার আর্থিক সহায়তা সরাসরি উপভোক্তাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ২০ আগস্টের মধ্যে দক্ষিণ কলকাতার ৫৩ হাজারেরও বেশি অনুমোদিত উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে যাবে বলে জানান তিনি।
রাজ্যজুড়ে প্রথম দফায় ১ কোটি ৪৫ লক্ষ মহিলাকে অন্নপূর্ণা যোজনার আওতায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, ইতিমধ্যেই অধিকাংশ অনুমোদিত উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে অর্থ স্থানান্তর করা হয়েছে।
নতুন আবেদনকারীদেরও যাচাই
১০ জুলাই পর্যন্ত যাঁরা অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য আবেদন করেছিলেন, তাঁদের যাচাই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। ১১ জুলাই থেকে ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে যাঁরা আবেদন করেছেন, তাঁদের নথিপত্র যাচাই করে পরবর্তী পর্যায়ে প্রকল্পের আওতায় আনা হবে।
২০ আগস্ট থেকে শিশু ও নারী কল্যাণ দফতরের একটি বিশেষ পোর্টাল চালু হবে বলেও জানান তিনি। সেখানে যোগ্য হয়েও সুবিধা না-পাওয়া আবেদনকারীরা অভিযোগ জানাতে পারবেন। পাশাপাশি অযোগ্য কোনও ব্যক্তি সুবিধা পেলে সেই তথ্যও পোর্টালের মাধ্যমে জানানো যাবে।

‘সরকারি অর্থ প্রকৃত উপভোক্তার কাছেই পৌঁছতে হবে’
লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, আগের সরকারের আমলে রাজনৈতিক কারণে বহু যোগ্য মহিলা প্রকল্পের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হয়েছিলেন। তাঁর আরও অভিযোগ, মৃত ব্যক্তি, অবৈধ অনুপ্রবেশকারী এবং পুরুষদের নামও উপভোক্তা তালিকায় ছিল। সেই কারণেই অন্নপূর্ণা যোজনায় বিস্তৃত যাচাই-বাছাই করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, সরকারি অর্থ যাতে কোনওভাবেই অপচয় না হয় এবং প্রকৃত উপভোক্তার হাতেই পৌঁছয়, সেটাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
বছরে প্রায় ৪৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের সম্ভাবনা
অন্নপূর্ণা যোজনা বিজেপির অন্যতম নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, প্রথমে এই প্রকল্পের জন্য বাজেটে ৩৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছিল। কিন্তু উপভোক্তার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় বছরে প্রায় ৪৮ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত ব্যয় হতে পারে বলে সরকারের হিসাব।
তবে প্রতিশ্রুতি পূরণে অর্থের কোনও ঘাটতি রাখা হবে না বলে আশ্বাস দেন তিনি।
মহিলা ও কন্যাদের জন্য একাধিক উদ্যোগ
মহিলাদের জন্য সরকারের অন্যান্য উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, আইসিডিএস কর্মীদের ভাতা বাড়ানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মাতৃ বন্দনা প্রকল্পের সঙ্গে রাজ্যের অতিরিক্ত আর্থিক সহায়তা মিলিয়ে গর্ভবতী মায়েদের ২১ হাজার টাকা এবং পুষ্টিকর খাদ্য কিট দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আইসিডিএস কেন্দ্রে শিশু ও গর্ভবতী মায়েদের খাদ্য বরাদ্দও বাড়ানো হয়েছে।
শিক্ষাক্ষেত্রে কন্যাশক্তিকে উৎসাহ দিতে চলতি বছরে ২০ লক্ষ ১৩ হাজার ছাত্রীর অ্যাকাউন্টে কন্যারণ প্রকল্পের মাধ্যমে ১ হাজার টাকা করে পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি। আগামী বছর থেকে এই আর্থিক সহায়তা বাড়িয়ে ২ হাজার টাকা করা হবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যাওয়া ছাত্রীদের জন্য ৫০ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।

নারী সুরক্ষাতেও জোর
নারী সুরক্ষার প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্যের প্রতিটি থানায় মহিলা হেল্প ডেস্ক চালু করা হয়েছে। প্রতিটি জেলায় এবং কলকাতা পুলিশে ‘দুর্গা স্কোয়াড’ গঠন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি। নারী নিরাপত্তা ও ক্ষমতায়নকে সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী।
১৪ বছরের কিশোরীদের বিনামূল্যে HPV টিকা
স্বাস্থ্যক্ষেত্রেও নতুন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে মুখ্যমন্ত্রী জানান, ১৪ বছর বয়সি কিশোরীদের বিনামূল্যে HPV টিকা দেওয়া হচ্ছে। তাঁর দাবি, বাজারে এই টিকার মূল্য প্রায় ৩০ হাজার টাকা। তাই সরকারি এই পরিষেবার সুবিধা নেওয়ার জন্য সকলকে আহ্বান জানান তিনি।

