পুজোর আগেই একাধিক কর্মীকে বড় সুখবর, পার্শ্বশিক্ষকদের মাসিক বেতন বাড়ল ৫ হাজার টাকা; ১০ সেপ্টেম্বর বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে পেশ হতে পারে ইন্টার-ইউনিভার্সিটি ট্রান্সফার বিল
Published by -Jyotirmay Dutta: Posted 07.09.2026 at 19:51 pm
বঙ্গবার্তা নিউজ, কলকাতা,সর্নিকা দত্ত:
ছবি – সোশ্যাল মিডিয়া
পুজোর আগে রাজ্যের একাধিক দপ্তরের কর্মী ও শিক্ষাক্ষেত্রের সঙ্গে যুক্তদের জন্য বড় ঘোষণা করল রাজ্য সরকার। সোমবার নবান্নে রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে বনকর্মী, পার্শ্বশিক্ষক, শিক্ষাবন্ধু, স্পেশাল এডুকেটর-সহ শিক্ষা দপ্তরের বিভিন্ন স্তরের কর্মীদের ভাতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের পারস্পরিক বদলির সুযোগ তৈরি করতে নতুন বিল আনার সিদ্ধান্তেও মন্ত্রিসভার অনুমোদন মিলেছে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, আগামী ১০ সেপ্টেম্বর বিধানসভার বিশেষ অধিবেশনে এই বিল পেশ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বনকর্মীদের ভাতা বাড়ল ৫ হাজার টাকা
বন দপ্তরের কর্মীদের জন্য বড় ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। ডেপুটি রেঞ্জার, ফরেস্টার, হেড ফরেস্ট গার্ড এবং বনরক্ষীদের ভাতা একধাক্কায় ৫ হাজার টাকা করে বাড়ানো হয়েছে।
এই বর্ধিত ভাতা আগামী ১ অক্টোবর থেকে কার্যকর হবে।
পাশাপাশি, রাজ্যের প্রায় ১,৫০০ জন বন সহায়কের পারিশ্রমিকও ২ হাজার টাকা করে বৃদ্ধি করা হয়েছে। তাঁদের ক্ষেত্রেও বর্ধিত পারিশ্রমিক ১ অক্টোবর থেকেই কার্যকর হবে।
পার্শ্বশিক্ষকদের বেতন বাড়ল ৫ হাজার টাকা
শিক্ষা দপ্তরের কর্মীদের জন্য এদিন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাজেটে যে কয়েকটি গ্রুপ ভাতা বৃদ্ধির আওতার বাইরে থেকে গিয়েছিল, তাঁদের দাবিও বিবেচনা করেছে রাজ্য মন্ত্রিসভা।
মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, শিক্ষা দপ্তরের প্রায় ১৪টি গ্রুপের দীর্ঘদিনের দাবি বিবেচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর ফলে সরকারের বছরে অতিরিক্ত প্রায় ৩৯০ কোটি টাকা খরচ হবে এবং উপকৃত হবেন বহু মানুষ।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী—
- প্রাথমিক স্তরের ২০,৩৪৩ জন পার্শ্বশিক্ষকের মাসিক বেতন ১১,৯৪১ টাকা থেকে বেড়ে ১৬,৯৪১ টাকা হয়েছে।
- উচ্চ প্রাথমিকের ২১,৮৪৯ জন পার্শ্বশিক্ষকের মাসিক বেতন ১৫,৫২৩ টাকা থেকে বেড়ে ২০,৫২৩ টাকা হয়েছে।
- শিক্ষাবন্ধুদের মাসিক বেতন ৯,৯৫৪ টাকা থেকে বেড়ে ১৪,৯৫৪ টাকা হয়েছে।
- স্পেশাল এডুকেটরদের মাসিক বেতন ১৪,৯২৪ টাকা থেকে বেড়ে ১৯,৯২৪ টাকা হয়েছে।
এই বেতন বৃদ্ধিগুলি আগামী ১ নভেম্বর থেকে কার্যকর হবে।

ম্যানেজমেন্ট স্টাফদেরও বাড়ল ভাতা
শিক্ষা দপ্তরের ম্যানেজমেন্ট স্টাফদের ক্ষেত্রেও বেতন অনুযায়ী ভাতা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত হয়েছে।
- ২৫ হাজার টাকা বা তার কম বেতন হলে ৫ হাজার টাকা বৃদ্ধি
- ২৫ হাজারের বেশি থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন হলে ৭ হাজার টাকা বৃদ্ধি
- ৪০ হাজারের বেশি থেকে ৫৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বেতন হলে ১০ হাজার টাকা বৃদ্ধি
এছাড়াও এসএসকে-র ৩০,৫৯২ জন সহায়ক, এমএসকে-র ৬,২৯১ জন সম্প্রসারিকা এবং ৪৯২ জন অ্যাকাডেমিক সুপারভাইজারের ভাতাও ৫ হাজার টাকা করে বাড়ানো হয়েছে।
এমএসকে-র ৩২৭ জন মুখ্য সম্প্রশাসকের ভাতা বাড়ানো হয়েছে ৬ হাজার টাকা।
প্রাক্তন বিধায়কদের চিকিৎসা ভাতাও বাড়ল
মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রাক্তন বিধায়কদের জন্যও বড় ঘোষণা করা হয়েছে। তাঁদের চিকিৎসা ভাতা ৬ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ হাজার টাকা করা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্ত গত ১ আগস্ট থেকে কার্যকর করার কথা জানানো হয়েছে।
এছাড়াও যে সমস্ত বিধায়ক নিজেদের এলাকায় নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর নামে সেবা কেন্দ্র চালু করেছেন, সেই কেন্দ্র পরিচালনার জন্য তাঁদের মাসে ৩০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই সুবিধা ১ জুন থেকে কার্যকর হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-অশিক্ষক কর্মীদের পারস্পরিক বদলি
এদিনের মন্ত্রিসভা বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয় স্তরে পারস্পরিক বদলি সংক্রান্ত বিল।
সহজ ভাষায়, রাজ্যের এক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক বা অশিক্ষক কর্মী অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ে বদলি হওয়ার সুযোগ পাবেন। অর্থাৎ ইন্টার-ইউনিভার্সিটি ট্রান্সফার ব্যবস্থাকে আইনি কাঠামোর মধ্যে আনার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, শিক্ষক ও অশিক্ষক—উভয় স্তরের কর্মীদের এই বদলির সুযোগ দেওয়ার জন্য মন্ত্রিসভা বিলটিতে অনুমোদন দিয়েছে।
১০ সেপ্টেম্বর বিধানসভার বিশেষ অধিবেশন
এই বিল দ্রুত কার্যকর করার লক্ষ্যে আগামী ১০ সেপ্টেম্বর বিধানসভার বিশেষ অধিবেশন ডাকার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জানা গিয়েছে, অধিবেশনটি সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চলতে পারে।
প্রথা অনুযায়ী, রাজ্যপালের অনুমোদন নেওয়ার পর বিধানসভায় বিলটি পেশ করা হবে। বিশেষ অধিবেশনেই বিলটি অনুমোদনের পথে এগোনোর প্রস্তুতি নিচ্ছে রাজ্য সরকার।
সব মিলিয়ে, পুজোর আগে রাজ্যের বিভিন্ন ক্ষেত্রের কর্মীদের আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক-অশিক্ষক কর্মীদের পারস্পরিক বদলির মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্তকে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে।

