মাদকবিরোধী অভিযানে ‘জিরো টলারেন্স’, ৩.১০ লক্ষ নিষিদ্ধ কাফ সিরাপ ধ্বংস রাজ্যে

‘নেশামুক্ত ভারত ২০২৯’ কর্মসূচির সূচনায় মুখ্যমন্ত্রীর কড়া বার্তা, মাদকের উৎস বন্ধে কেন্দ্র-রাজ্যের একাধিক সংস্থার যৌথ অভিযান

Published by -Jyotirmay Dutta: Posted 23.09.2026 at 12:55 pm

বঙ্গবার্তা নিউজ, কলকাতা,মৃণাল কান্তি সরকার:

ছবি এ আই দ্বারা নির্মিত এবং নিজস্ব

মাদকের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার বিধাননগরে ‘নেশামুক্ত ভারত ২০২৯’ কর্মসূচির সূচনায় মুখ্যমন্ত্রী জানান, গত পাঁচ মাসে রাজ্যে মাদকবিরোধী অভিযানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। মাদক পাচার রুখতে বিএসএফ, এসটিএফ, রাজ্য পুলিশ, কলকাতা পুলিশ, নারকোটিক্স কন্ট্রোল ব্যুরো-সহ কেন্দ্র ও রাজ্যের একাধিক সংস্থা যৌথভাবে অভিযান চালাচ্ছে বলে জানান তিনি।

মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, বুধবার বিধাননগরে প্রায় ৩ লক্ষ ১০ হাজার নিষিদ্ধ কাফ সিরাপ ধ্বংস করা হয়েছে। এর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩১ কোটি টাকা। এর আগে বালুরঘাটে প্রায় ২ লক্ষ বোতল নিষিদ্ধ কাফ সিরাপ ধ্বংস করা হয়েছিল, যার মূল্য ছিল প্রায় ২০ কোটি টাকা

মাদকের সঙ্গে অপরাধের যোগ, নজর সীমান্তবর্তী এলাকায়

মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি বারুইপুর-সহ একাধিক অপরাধের ঘটনায় মাদকের যোগ সামনে এসেছে। সেই কারণে শুধু মাদক উদ্ধার বা পাচারকারীদের গ্রেফতার নয়, মাদকের উৎস বন্ধ করার উপরও জোর দেওয়া হচ্ছে। সীমান্তবর্তী এলাকায় অবৈধ আফিম ও গাঁজার চাষ ধ্বংস করার পাশাপাশি পাচারের নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে প্রশাসন।

এ দিনই অসম থেকে এক কুখ্যাত মাদক কারবারিকে এসটিএফ গ্রেফতার করেছে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।

এসটিএফের তদন্ত ক্ষমতা নিয়ে সরকারের দাবি

মুখ্যমন্ত্রী আরও দাবি করেন, আগের সরকারের সময়ে আইনি জটিলতার কারণে এসটিএফের তদন্তের ক্ষমতা বাধাপ্রাপ্ত হয়েছিল। বর্তমান সরকার সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে সেই ক্ষমতা বহাল রেখেছে বলে তাঁর বক্তব্য। এর ফলে এসটিএফ স্বাধীনভাবে তদন্ত, চার্জশিট পেশ এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে বলে জানান তিনি।

নিষিদ্ধ কাফ সিরাপের সরবরাহ বন্ধে পদক্ষেপ

দক্ষিণ দিনাজপুরের হরিরামপুর থানার উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, কয়েকটি নিষিদ্ধ কাফ সিরাপ প্রস্তুতকারী সংস্থা পশ্চিমবঙ্গে আর ওই ধরনের পণ্য সরবরাহ করবে না বলে লিখিত প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

তবে শুধু সংস্থাগুলির আশ্বাসের উপর সরকার নির্ভর করবে না বলেও স্পষ্ট করেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর বার্তা, মাদকবিরোধী অভিযানকে ধারাবাহিকভাবে চালিয়ে যেতে হবে এবং মাদকের উৎসেই আঘাত করতে হবে।

মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “আমাদের মিশন শুধু ফটোসেশনে শেষ হবে না। নেশামুক্ত পশ্চিমবঙ্গ গড়তে উৎস থেকে মাদক নির্মূল করা হবে।”

‘নেশামুক্ত ভারত ২০২৯’ কর্মসূচির সূচনায় সরকারের এই বার্তায় মাদক পাচার, অবৈধ চাষ এবং নিষিদ্ধ ওষুধের সরবরাহ চক্রের বিরুদ্ধে আগামী দিনে আরও অভিযান চালানোর ইঙ্গিত মিলেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *