সিইসি জ্ঞানেশ কুমারকে সাসপেন্ডে সুপ্রিম কোর্টের না, অভিযোগে নির্বাচন কমিশনকে নোটিস

SIR-সহ একাধিক সিদ্ধান্তে ‘একতরফা’ পদক্ষেপের অভিযোগ, জবাব চাইল শীর্ষ আদালত; আপাতত বহাল কমিশনের কাজকর্ম

Published by -Jyotirmay Dutta: Posted 05.10.2026 at 17:20 pm

বঙ্গবার্তা নিউজ, কলকাতা,মৃণাল কান্তি সরকার:

ছবি এ আই দ্বারা নির্মিত এবং নিজস্ব

মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারকে সাসপেন্ড করার জন্য অন্তর্বর্তী নির্দেশ দিতে অস্বীকার করল সুপ্রিম কোর্ট। তবে নির্বাচন কমিশনের কাজকর্ম নিয়ে ওঠা অভিযোগের ভিত্তিতে কমিশন ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলিকে নোটিস জারি করেছে শীর্ষ আদালত।

সোমবার প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চে মামলাটির শুনানি হয়। বেঞ্চে ছিলেন বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি. মোহনা। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ভোটার তালিকার Special Intensive Revision (SIR)-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারের প্রয়োজনীয় সম্মতি ছাড়াই পদক্ষেপ করা হয়েছিল।

মামলাকারীর তরফে জ্ঞানেশ কুমারকে সাসপেন্ড করা অথবা তাঁর ক্ষমতা সীমিত করার জন্য অন্তর্বর্তী নির্দেশ চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট জানায়, অন্য পক্ষের বক্তব্য না শুনে একতরফাভাবে এমন নির্দেশ দেওয়া যায় না। শুধুমাত্র সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত রিপোর্টের ভিত্তিতেও তাৎক্ষণিক কোনও নির্দেশ দেওয়া সম্ভব নয় বলে আদালত মন্তব্য করে।

অভিযোগ সত্যি প্রমাণিত হলে সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা

শীর্ষ আদালত স্পষ্ট করেছে, নির্বাচন কমিশনের জবাব এবং সংশ্লিষ্ট নথি খতিয়ে দেখার পর যদি দেখা যায় কোনও সিদ্ধান্ত প্রয়োজনীয় ঐকমত্য বা আইনসম্মত প্রক্রিয়া ছাড়াই নেওয়া হয়েছিল, তা হলে সেই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা বা বাতিল করা হতে পারে।

মামলাকারীদের অভিযোগ, SIR-সহ একাধিক বিষয়ে CEC একতরফাভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং অন্য দুই নির্বাচন কমিশনারের আপত্তিকে উপেক্ষা করা হয়েছে। তবে এগুলি বর্তমানে মামলাকারীদের অভিযোগ—এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পূর্ণাঙ্গ জবাব এখনও আদালতের সামনে আসেনি।

আপাতত কমিশনের কাজকর্মে কোনও স্থগিতাদেশ নয়

সুপ্রিম কোর্ট আপাতত নির্বাচন কমিশনের দৈনন্দিন কাজকর্মে কোনও নিষেধাজ্ঞা জারি করেনি। অর্থাৎ, শুনানি চলাকালীন কমিশনের কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবেই চলবে। আগামী শুনানিতে কমিশনের জবাব ও নথিপত্র খতিয়ে দেখার পর আদালত পরবর্তী পদক্ষেপের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারে।

এই মামলাকে ঘিরে SIR এবং নির্বাচন কমিশনের অভ্যন্তরীণ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া নিয়ে রাজনৈতিক ও আইনি মহলে বিতর্ক আরও জোরদার হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *